ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে ৮০০ পরিবার গৃহহীন

ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে ৮০০ পরিবার গৃহহীন

উত্তরদক্ষিণ | শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২০ | আপডেট: ১২:১৮

গাইবান্ধা সদর উপজেলার মোল্লারচর ইউনিয়নে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে বহু পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে।

মোল্লারচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল হাই মণ্ডল জানান, এতে গৃহহারা হয়েছে প্রায় ৮০০ পরিবার; এছাড়া ৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ৬টি মসজিদ, ২টি কমিউনিটি ক্লিনিক, ৫টি টিকাদান কেন্দ্র ও ১ হাজার হেক্টর একর আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

কিন্তু নদী ভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও উপজেলা পরিষদসহ সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে একাধিকবার আবেদন করেও কার্যকর কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

নদীতে বিলীন হওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে, বাজে চিথুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চিথুলিয়ার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চিথুলিয়া দিগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মৌলভীর চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং দুটি এবতেদায়ী মাদ্রাসা।

ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, “বাজে চিথুলিয়া, চিথুলিয়া দিগর, মাইজবাড়ী, সিধাই, কাচির চর, উত্তর মোল্লার চর, দক্ষিণ মোল্লার চর, হাসধরা এবং মৌলভীর চর গ্রামের কৃষিজীবী পরিবারগুলো নদী ভাঙনে সব হারিয়ে ওই এখন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

“আবার অনেকেই পাশের জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায়, উত্তরে কুড়িগ্রাম জেলার রাজিবপুর উপজেলার মোহনগঞ্জ ইউনিয়ন এবং দক্ষিণে ফুলছড়ি উপজেলার এরেণ্ডাবাড়ী ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় চলে গেছে। সেখানে তারা অতিকষ্টে জীবন যাপন করছে।”

বন্যা শুরু হওয়ার পর জুলাই মাস থেকে এ ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্টে ভাঙন শুরু হয়েছে। পানি কমার পরও নদী ভাঙন আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ ভাঙন রোধে কোন পদক্ষেপই গ্রহণ করা হচ্ছে না বলে জানান আব্দুল হাই।

বাজে চিথুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক যুধিষ্ঠীর বর্মণ বলেন, গত জুলাই মাসের ২৪ তারিখে নদী ভাঙনে বিদ্যালয়ের ভবনটি ব্রহ্মপুত্রের গর্ভে বিলিন হয়ে যায়। বর্তমানে বিদ্যালয়টি এক কিলোমিটার দুরে পাশের একটি চরে স্থানান্তর করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তার বিদ্যালয়ে মোট ৭৭ জন শিক্ষার্থী পড়ালেখা করতো। নদী ভাঙনে অনেক পরিবার অন্যত্র চলে গেছে।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, “মোল্লার চর ইউনিয়ন পুরোটাই ব্রহ্মপুত্র নদ দ্বারা বেষ্টিত।

ফলে সেখানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজের সুযোগ নেই। তবে সরকারিভাবে নদী খননের কাজ শুরু হলে ভাঙন কিছুটা কমে আসবে।” -বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading