পুণ্যস্নান হবে, রাসমেলা হবে না

পুণ্যস্নান হবে, রাসমেলা হবে না

উত্তরদক্ষিণ | শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২০ | আপডেট: ১১:৫৪

রাস পূর্ণিমা ঘিরে সুন্দরবনের দুবলার চরে পূজা ও পূণ্যস্নান হলেও প্রতিবছরের মতো আর রাসমেলা হবে না।

সুন্দরবনের প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রতিবছর রাসমেলা উপলক্ষে সব সম্প্রদায়ের হাজার হাজার মানুষ দুবলার চরে সমবেত হয়। ঐতিহ্যবাহী এই মেলা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

তবে রাসপূজা ও পুণ্যস্নান উপলক্ষে শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে সেখানে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আমীর হোসাইন চৌধুরী।

আমীর হোসাইন বলেন, সুন্দরবনের যে স্থানে রাসমেলা হয় সেটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল। মেলা উপলক্ষে হাজার হাজার মানুষ সেখানে যাওয়ায় একদিকে যেমন বন্যপ্রাণীর ক্ষতি হয়, অন্যদিকে ওইস্থানে মানুষের ফেলে দেওয়া আবর্জনায় ক্ষতি হয় বনের। এতে জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়ে।

“বন, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার স্বার্থে এই বছর থেকে দুবলার চরের রাসমেলা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।”

তিনি বলেন, যেহেতু লোকজন সেখানে শুধু পূজা ও স্নান করতে যান, তাই ওই সময় শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরাই সেখানে যাওয়ার অনুমতি পাবেন।

দুবলার চর রাস উদযাপন কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ বসু শন্তু বলেন, রাসমেলা উপলক্ষে সেখানে সব সম্প্রদায়ের মানুষ সমবেত হন। প্রতিবছর মেলায় যাওয়ার জন্য হাজার হাজার মানুষ উন্মুখ হয়ে থাকেন। কিন্তু সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে রাস আর মেলা বা উৎসবে পরিণত হবে না।

শন্তু আরও বলেন, গত বছর রাসমেলা হওয়ার কথা ছিল ১০-১২ নভেম্বর। তবে ১০ নভেম্বর উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ আঘাত হানার কারণে সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া বন্ধ করে দেয় বন বিভাগ। এই কারণে মেলা আর হয়নি। তবে মেলা উদযাপন কমিটির সদস্যরা সেখানে গিয়ে পূজা ও স্নান করেছেন।

শন্তু বলেন, এই পরিস্থিতিতে এবছর ২৮ নভেম্বর বাগেরহাটের মোংলা থেকে যাত্রা শুরু করবেন আয়োজকেরা। ২৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে পূজা; আর ৩০ নভেম্বর প্রথম প্রহরে স্নান অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ফিরতে শুরু করবেন তারা।

পরিবেশ ও বন উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার বলেন, প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ে শুধু রাসপূজা ও পুণ্যস্নান হবে। এবছর থেকে পূজায় শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে সেখানে যাওয়ার অনুমতি পাবেন।

হাবিবুন নাহার বলেন, প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ রাসমেলার সময় সেখানে গিয়ে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য নষ্ট করে। তারা হরিণ শিকার, শব্দদূষণ করে, ময়লা-আবর্জনা ফেলে বনের পরিবেশ দূষণ করে। এই কারণে রাসমেলা হবে না। পূজার সময় অন্য ধর্মের মানুষকে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না। – বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading