কটূক্তি করায় শিশুকে হত্যা করে বঙ্গোপসাগরে ভাসিয়ে দেয় আরেক শিশু

কটূক্তি করায় শিশুকে হত্যা করে বঙ্গোপসাগরে ভাসিয়ে দেয় আরেক শিশু

উত্তরদক্ষিণ | শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২০ | আপডেট: ১১:৩২

কটূক্তি করায় খেলার সাথিকেই গলা টিপে হত্যা করেছে ১১ বছর বয়সী এক শিশু। দুজনের বাসা পাশাপাশি। বয়সে এক বছরের ছোট–বড়।

ঘটনাটি ঘটেছে গত আগস্টে, চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড থানার আকমল আলী রোডের জেলে পাড়াসংলগ্ন বেড়িবাঁধে। হত্যার পর ১০ বছর বয়সী মো. শাওন-এর লাশটি বঙ্গোপসাগরে ভাসিয়ে দেয় তারই বন্ধু ১১ বছর বয়সী ওই শিশুটি।

ভয়ানক ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা শুক্রবার (০৬ নভেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শফি উদ্দিনের আদালতের কাছে স্বীকার করেছে শিশুটি।

এ নিয়ে ইপিজেড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উৎপল বড়ুয়া গণমাধ্যমকে বলেন, গত ১৫ আগস্ট বঙ্গোপসাগরের উপকূলে একটি শিশুর (শাওন) লাশ ভাসতে দেখে জেলেরা পুলিশকে খবর দেয়। পরে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করা হয়। শিশুটির শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন না থাকায় সবার ধারণা ছিল পানিতে পড়ে শিশুটি মারা গেছে। শিশুটির পরিবারও তা–ই ভেবেছিল। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) শাওনের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়। সেখানে বলা হয় তাকে হত্যা করা হয়েছে। সেদিনই তার খেলার সঙ্গী ওই শিশুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে পুরো ঘটনা স্বীকার করে। তাকে আদালতে পাঠানো হলে জবানবন্দি দেয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, শিশুটি জবানবন্দিতে জানায়, গত ১৫ আগস্ট বিকেলে নগরের ইপিজেড থানার আকমল আলী রোডের জেলে পাড়াসংলগ্ন বেড়িবাঁধের ওপর খেলা করছিল ওই দুই শিশু। খেলা নিয়ে দুজনের মধ্যে ঝগড়া হয়। তখন শিশু শাওন তাকে ‘মুঠো’ বলে গালি দেয়। এর আগেও তাকে এই গালি দিত। সেদিন ক্ষুব্ধ হয়ে শাওনের গলা টিপে ধরে শিশুটি। কিছুক্ষণ পর তার কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে বেড়িবাঁধের পাশে সাগরে লাশটি টেনে নিয়ে ফেলে দেয়। লাশটি পানিতে ভাসার পর সে বাসায় চলে আসে।

শাওনের বাবা আবদুর রহিম বলেন, আর কোনো শিশু যাতে এভাবে প্রাণ না হারায়, মা–বাবার সতর্ক হওয়া উচিত। লাশটি উদ্ধারের পর তাঁরাও ধারণা করেছিলেন, পানিতে পড়ে মারা গেছে তাঁর ছেলে। কিন্তু ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে আসে শাওনকে হত্যা করা হয়েছে। তথ্যসহায়তায়: প্রথম আলো

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading