ঢাকায় বহুতল ভবনের উচ্চতা নির্ধারণে সময় বাড়লো
উত্তরদক্ষিণ | রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২০ | আপডেট: ১৯:২২
বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনায় (ড্যাপ) রাজধানীতে আবাসিক ভবনের উচ্চতা কতটুকু রাখা হবে, তা ঠিক করতে আরও দুই মাস সময় দিয়েছে সরকার। সচিবালয়ে রবিবার (৮ নভেম্বর) স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে পুনর্গঠিত ড্যাপ কমিটির সভায় এই সময় বাড়িয়ে দেওয়া হয়।
সভা শেষে মন্ত্রী তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “ড্যাপের আওতায় নতুন ভবনের উচ্চতা কত হবে সেটা নির্ধারণের জন্য সামগ্রিক পরিকল্পনা করা হয়েছে। এটা নিয়ে ভিন্নমত আছে। ভিন্নমতগুলোসহ দুই মাস আগে এটা ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে।
“কোভিডকালীন সবাই সঠিকভাবে কাজ করতে পারেননি, তাই আজকের সভায় উচ্চতা নির্ধারণের বিষয়টি নিষ্পত্তি করার জন্য আরও দুই মাস সময় বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।”
গত ২ সেপ্টেম্বর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় নতুন ড্যাপের খসড়া প্রকাশ করে। নতুন ড্যাপের বিষয়ে অংশীজনদের মতামত নিচ্ছে রাজউক। অনলাইনে রাজউকের ওয়েবসাইটে ও সরাসরি রাজউক কার্যালয়ে গিয়ে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত মতামত দেওয়ার সুযোগ ছিল।
রাজধানীর গুলশান, বনানী, বারিধারা, ধানমণ্ডির মতো এলাকায় সর্বোচ্চ ১৪ তলা পর্যন্ত আবাসিক ভবন করা গেলেও নতুন ড্যাপের খসড়া অনুযায়ী জনঘনত্ব অনুযায়ী এসব এলাকায় সর্বোচ্চ আট তলা ভবন নির্মাণের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে জমির ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ উন্মুক্ত রাখলে ভবনের উচ্চতা বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, “ঢাকা শহরকে অত্যন্ত সৌহার্দ ও শান্তিপূর্ণ শহর হিসেবে বসবাসের উপযোগী হিসেবে দেখতে চাই।” সেখানে কোনো জলাশয় বা কোনো জমির শ্রেণি পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা যাতে ব্যাহত না হয় সেজন্য সবাই নিরপেক্ষভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
“মন্ত্রীরা (ড্যাপ কমিটির) জোরালোভাবে বলেছেন, তিনি যেই হোন না কেন নিয়ম বহির্ভুতভাবে কাউকে শ্রেণি পরিবর্তন বা অবকাঠোমো নির্মাণের চেষ্টা করতে দেওয়া হবে না।”
ড্যাপ আরও বিশদভাবে পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত করতে গত ২৫ অক্টোবর সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী, ভূমি মন্ত্রী, নৌ প্রতিমন্ত্রী, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে মন্ত্রিসভা কমিটি পুনর্গঠন করে সরকার।
রাজধানীর সড়ক নিয়ে এক প্রশ্নে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, একটা শহরের জন্য ২৫ শতাংশ যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকতে হয়, সেখানে (ঢাকায়) পাঁচ শতাংশের কিছু বেশি আছে।
ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকারের প্রচেষ্টার পরেও ঠিকঠাক না হলে ‘কঠিন সিদ্ধান্ত’ নিতে হবে বলেও জানান তিনি। যে যেই এলাকায় বসবাস করেন সেখানে যদি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিপিংমলসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা রাখা হয় তাহলে গাড়ির ব্যবহার কম হবে বলে জানান তাজুল।
“গাড়ি যখন লাগবে না তখন ট্রাফিক লোড কমবে। আপনি ভেহিকেলও রাখবেন, মানুষের সংখ্যাও বাড়াবেন, আবার হাইরাইজ বিল্ডিং বাড়াবেন তাহলে এটা ম্যানেজ করবেন কীভাবে? কাউকে যদি ছুরি মারা হয় তাহলে তিনি মারা যাবেন। ছুরিও মারবেন কিন্তু তিনি মরতে পারবেন না, এ রকম তো কোনো সূত্র পৃথিবীতে নেই।”
কোনো অঞ্চলে লোকজন বেড়ে যাওয়ার পর পানির চাহিদা বাড়ায় সেখানে ওয়াসার পানি সরবরাহের লাইন পরিবর্তন করতে হয় বলেও জানান মন্ত্রী তাজুল ইসলাম।
“কনজিউমার বেড়ে গেলে ইলেক্ট্রিসিটি ও গ্যাসের লাইন…এগুলো বাস্তব, এটাকে অস্বীকার কীভাবে করবেন? তবে মাস্টারপ্ল্যান করে কোথায় কি থাকবে সেটা করা হবে।” “ ঢাকার অনুমোদনহীন ভবন নিয়ে আরেক প্রশ্নে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, “এসব নিয়ে রুলস আছে এবং অথরিটি আছে সেগুলো দেখভাল করার জন্য।” সিটি করপোরেশনসহ অন্যদের যুক্ত করে ড্যাপের পুনর্গঠিত কমিটির আওতায় আরও সব-কমিটি করা হবে বলে জানান ড্যাপ কমিটির প্রধান।
ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী শাহাব উদ্দীন, নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, পানিসম্পাদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ ছাড়াও পুনর্গঠিত ড্যাপ কমিটিতে থাকা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং অন্য সদস্যরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

