এমআরসিপি পরীক্ষায় বাংলাদেশি চিকিৎসকের অভাবনীয় সাফল্য

এমআরসিপি পরীক্ষায় বাংলাদেশি চিকিৎসকের অভাবনীয় সাফল্য

উত্তরদক্ষিণ | মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর, ২০২০ | আপডেট: ০৯:৫০

ইংল্যান্ডের মেম্বারশিপ অব দ্য রয়েল কলেজস অব ফিজিশিয়ান্স অব দ্য ইউনাইটেড কিংডম (এমআরসিপি) পরীক্ষায় এবার অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন বাংলাদেশের তরুণ চিকিৎসক মাহমুদুল হক জেসি (ডা. জেসি হক)।

পরীক্ষায় এক হাজার নম্বরের মধ্যে ৯০৬ নম্বর পেয়ে সারা বিশ্বের সব প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে শীর্ষস্থান দখল করেছেন তিনি। সারা বিশ্বের চিকিৎসকদের মর্যাদাকর এ পরীক্ষার মোট ৯৯৯ নম্বরের মধ্যে পাস মার্ক ৪৫৪। বর্তমানে শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলা হাসপাতালে মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত এ চিকিৎসককে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বইছে প্রশংসার বন্যা।
চিকিৎসকরা বলছেন, নিকট অতীতে সারা পৃথিবীতে ৯০০ নাম্বারের বেশি পাওয়াটা দুর্লভ।

নিজের অভাবনীয় সাফল্যের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ডা. জেসি হক বলেন, ‘এই পর্যন্ত যতটুকু প্রমাণ পেয়েছি, এবার অক্টোবর ২০২০ ডায়েটে আমার নম্বর ৯০৬। এছাড়া এটাই সম্ভবত এই অক্টোবর ডায়েটে ওয়ার্ল্ডের সবচেয়ে বেশি নম্বর। ইন্ডিয়া থেকে একজন ৮৫৫ পেয়েছেন, তাঁকে অভিনন্দন। বাংলাদেশ থেকে ২-৩ জন ৮০০ নম্বর অতিক্রম করেছেন। তাদেরকেও অভিনন্দন, কারণ ৮০০ ছোঁয়াটাও একটা বিশাল ব্যাপার। তবে এর আগের ডায়েটগুলোতে নম্বর সম্পর্কে আমার ধারণা নেই। তবে এই ডায়েট সম্ভবত আমারটাই ওয়ার্ল্ড হাইয়েস্ট। কিন্তু একটি কথা বলে রাখতে চাই, নম্বর যেটাই হোক সেটা বিষয় না। কারণ আমি কখনোই নম্বরের কথা চিন্তা করে পড়াশোনা করিনি। সবাই দোয়া করবেন।’

ডা. মাহমুদুল হক জেসির বাড়ি ঢাকার কেরাণীগঞ্জের আমিরাবাগ এলাকায়। ২০০৭ সালে ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে প্রথমে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েটে) ভর্তি হন মাহমুদুল হক জেসি। মেধাক্রম ৫৬তম হয়ে থ্রিপল-ইতে সুযোগ পান তিনি। সেখানেও রাখেন মেধার স্বাক্ষর। পাঁচ বিষয়ের পরীক্ষায় চারটিতেই তিনি এ প্লাস (সিজিপিএ ৪.০০) পেয়েছিলেন। কিন্তু যান্ত্রিক পড়াশোনায় মন না টেকায় আট মাসের মাথায় চুকান বুয়েটের পাঠ।

পরে তিনি মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। মাত্র দুই মাসের প্রস্তুতিতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় সারা দেশের মেধা তালিকায় ২৯তম হন জেসি হক। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ডিএমসি) থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন করেন।

ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করে দেশবরেণ্য মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আজিজুল কাহহারের চেম্বারে তার অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে যোগ দেন ডিএমসি কে-৬৬ ব্যাচের এ শিক্ষার্থী।

সেখান থেকেই মূলত মেডিসিনের প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়। ২০১৯ সালের মে মাসে এমআরসিপি পার্ট-১ পরীক্ষায় অংশ নেন। এরই মাঝে তিনি ৩৯তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে শরীয়তপুরের জাজিরায় মেডিকেল অফিসার হিসেবে যোগ দেন। সৌজন্যে: মেডিভয়েস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading