৮ ডিসেম্বর ইন্ডিয়া বন্ধ
উত্তরদক্ষিণ | সোমবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২০ | আপডেট: ১৬:০৫
৮ ডিসেম্বরের বন্ধকে সমর্থন করে অন্তত ১৫টি রাজনৈতিক দল একবিন্দুতে মিলিত হয়েছে। লোকসভা নির্বাচনের পরে ছত্রভঙ্গ দলগুলিকে এই প্রথম এক বিন্দুতে নিয়ে এল কৃষক আন্দোলন।
কার্যত বিজেপির বিরুদ্ধে সব রাজনৈতিক দল একজোট হয়েছে। কাশ্মীরের ৩৭০ অনুচ্ছেদ প্রত্যাহার থেকে বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে মতোবিরোধ থাকলেও কৃষক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যে ভাবে প্রায় সব বিরোধী দল এক সুরে সরব হয়েছে, তাতে রীতিমতো ব্যাকফুটে নরেন্দ্র মোদী সরকার।
কৃষকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের আন্দোলনে সব রাজনৈতিক দলকেই স্বাগত জানানো হবে। কিন্তু সেই সব দলের নেতাদের নিজেদের দলের পতাকা ফেলে কৃষকদের পতাকার তলায় দাঁড়িয়ে আন্দোলনে শামিল হতে হবে।
কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা করে সুফল না পাওয়ায় ৮ ডিসেম্বর ভারত বন্ধের ডাক দিয়েছেন কৃষকেরা। প্রথমে মনে করা হচ্ছিল, ওই বন্ধ শুধু পঞ্জাব, হরিয়ানা, পশ্চিম উত্তরপ্রদেশে প্রভাব ফেলবে। কিন্তু ৭ ডিসেম্বর বিজেপি-বিরোধী প্রায় সব দলই একযোগে কৃষকদের সমর্থন করায় কার্যত ওই বন্ধের প্রভাব পড়তে চলেছে গোটা দেশেই। প্রথমে বামেদের পাশাপাশি কংগ্রেস, আরজেডি, ডিএমকে, এনসিপি, এসপি-র মতো দলগুলি বন্ধের সমর্থনে সরব হয়। পরে আপ, টিআরএস, এমআইএম, কাশ্মীরের দলগুলির গুপকর জোটও ওই বন্ধের সমর্থনে এগিয়ে আসে। নীতিগত সমর্থন জানিয়েছে তৃণমূলও।
৭ ডিসেম্বর বিরোধীদের পক্ষ থেকে কৃষকদের আন্দোলনকে সমর্থন করে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, তারা ৮ ডিসেম্বরের বন্ধে সমর্থন জানাচ্ছে। সংসদে আলোচনা, ভোটাভুটি না-করে অগণতান্ত্রিক ভাবে ওই তিনটি কৃষি বিল পাশ হয়েছিল। সেগুলি প্রত্যাহার করতে হবে সরকারকে, কারণ ওই আইনগুলি এ দেশের মানুষের খাদ্যসুরক্ষা কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি কৃষক ও কৃষি ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। ন্যূনতম সহায়ক মূল্য তুলে দিয়ে মোদী সরকার কৃষি ব্যবস্থাকে দেশীয় পুঁজিপতিদের বন্ধকিতে পরিণত করতে চলেছে।
বিবৃতিতে সই করেছেন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী, সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি, এসপি নেতা অখিলেশ যাদব প্রমুখ। বিরোধীদের মধ্যে একমাত্র বিএসপি বন্ধে সমর্থন জানায়নি। আবার এনডিএ শরিক অসম গণ পরিষদ বন্ধে সায় না-দিলেও কৃষকদের উদ্বেগের বিষয়গুলিকে সমর্থন জানিয়েছে।
৭ ডিসেম্বর সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে, বিরোধী দলগুলির প্ররোচনার শিকার হচ্ছেন কৃষকেরা। তাদের ভুল বোঝানো হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় কৃষি প্রতিমন্ত্রী কৈলাস চৌধুরি বলেন, “কৃষকদের বোঝা উচিত, রাজনৈতিক ফায়দার জন্যই তাদের ব্যবহার করা হচ্ছে।’’

