‘মৌলবাদীদের মূলোৎপাটনে জাতি ঐক্যবদ্ধ’
উত্তরদক্ষিণ | সোমবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২০ | আপডেট: ১৪:১৫
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর প্রায় ৩০ বছর ‘রাষ্ট্রযন্ত্রের পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া’ মৌলবাদের মূলোৎপাটন কঠিন হলেও জাতি সেই লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ।
সোমবার (১৪ ডিসেম্বর) শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের সকালে মিরপুরে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
মোজাম্মেল হক বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম চেতনাই ছিল অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, বাঙালি জাতীয়তাবাদ। অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির লক্ষ্য নিয়ে জাতির পিতার নেতৃত্বে আমরা যুদ্ধ করেছিলাম।”
কিন্তু ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশকে যে ভিন্ন পথে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সে কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমান, এরশাদ ও খালেদা জিয়া মৌলবাদীদের পৃষ্ঠপোষকতা করে রাষ্ট্রযন্ত্র পরিচালনা করেছে। তাই মৌলবাদীদের শেকড় অনেক গভীরে। এক কথায় এদের মূলোৎপাটন করা সম্ভব নয়।”
“তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এদের মূলোৎপাটন করার জন্য জাতি কীভাবে ঐক্যবদ্ধ, সেটা নিশ্চয় আপনারা লক্ষ্য করেছেন।”
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, “বঙ্গবন্ধু শিখিয়ে গেছেন, আইন হাতে তুলে না নেওয়ার জন্য। তাই আমরা কোনো পর্যায়েই ওদের বিরুদ্ধে আইন হাতে তুলে নিইনি। আমাদের চেতনা দিয়ে, মুক্তিযুদ্ধের মূলনীতিতে উজ্জীবিত হয়েই রাজনৈতিকভাবে এই বিষফোঁড়া উপড়ে ফেলার জন্য ঐক্যবদ্ধ আছি।”
রাজাকারদের তালিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আগে রাজাকারদের তালিকা করা ছিল আমাদের নৈতিক দায়িত্ব, আইনগত কোনো ভিত্তি ছিল না। ১৫ দিন আগে মন্ত্রিসভায় জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইনের সংশোধন করে রাজাকারদের তালিকা করার বিষয়টি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছে।”
জাতীয় সংসদে আগামী অধিবেশনেই সংশোধিত ওই আইন পাস হয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, “এই তালিকা করার সময় যাতে কারও প্রতি আক্রোশের বশবর্তী না হই, আবার বাড়তি আনুকূল্য দেখানোর জন্য কাউকে যেন বাদ দেওয়া না হয়, অত্যন্ত সতর্কতার সাথে আমরা যেন তৃণমূল থেকে এ তালিকা করতে পারি, আইন পাস করার পরে সেভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করার প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, “নিশ্চয় আপনারা জানেন, সরকারপ্রধান নীতি নির্ধারণ করেন। তিনি এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন। ততক্ষণ পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কিছু বলা যায় না, কেউ যদি বলেন, সেটা তার ব্যক্তিগত অনুভূতির কথা বলতে পারেন।
“তবে আইন হোক বা না হোক, আমরা ধর্মভিত্তিক রাজনীতিকে ঘৃণা করি, প্রত্যাখান করি ও এর বিরোধিতা করি।”
সকালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একাত্তরের শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।
পররারাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খান এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন।

