টেকসই জ্বালানীতে সর্বাধিক অগ্রগতি অর্জনকারী দেশের তালিকায় বাংলাদেশ: বিশ্বব্যাংক
উত্তরদক্ষিণ | মঙ্গলবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২০ | আপডেট: ১৪:৫৫
বিদ্যুৎ সুবিধার ঘাটতি রয়েছে এমন দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ টেকসই জ্বালানী নীতি গ্রহণে সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি লাভ করেছে। এছাড়াও এই তালিকায় রয়েছে আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়া, নাইজেরিয়া ও তানজানিয়া।
জ্বালানী নীতি বিষয়ে বৈশ্বিক অগ্রগতি সংক্রান্ত বিশ্বব্যাংকের একটি নতুন প্রতিবেদন আরআইএসই- ২০২০ তে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়।
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশেই ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে টেকসই জ্বালানী নীতিতে অগ্রগতি হয়েছে, তবে সবচেয়ে দ্রুত উন্নতি হয়েছে সাব-সাহারা আফ্রিকাতে।
বিশ্বব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অতীতের তুলনায় সার্বিকভাবে বৈশ্বিক নীতিগত অগ্রগতি অপেক্ষাকৃত ধীর, বিশেষত নবায়নযোগ্য শক্তি ও জ্বালানি দক্ষতার ক্ষেত্রে। টেকসই জ্বালানি সংক্রান্ত নিয়ন্ত্রক সূচক (আরআইএসই) ২০২০ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি ৭) অর্জনের চারটি লক্ষ্য যেমন নবায়নযোগ্য জ্বালানী, জ্বালানী দক্ষতা, বিদ্যুতের ব্যবহার করার সুযোগ এবং দূষণমুক্ত রান্নার সুবিধার বিষয়ে ১৩৮ টি দেশে নীতিগত অগ্রগতি বিবেচনা করেছে। এই চারটি লক্ষ্য অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে সকলের জন্য সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য, টেকসই এবং আধুনিক জ্বালানী সুবিধা অর্জনের প্রয়াস চালানো হচ্ছে।
বিশ্বব্যাংকের ভাইস-প্রেসিডেন্ট মখতার দিওপ বলেন, মহামারী আঘাত হানার আগে আমাদের যে অগ্রগতি হয়েছিল তা অব্যাহত রাখতে হবে। মহামারী-পরবর্তী পুনরুদ্ধার এবং কম কার্বন নি:সরণের বিষয়ে নীতি নির্ধারকদেরকে টেকসই জ্বালানী নীতি গ্রহণ এবং জ্বালানি সর্বজনীন সুবিধা লাভের গতি ত্বরান্বিত করতে হবে। পুনরুদ্ধার পরিকল্পনাগুলোতে দীর্ঘমেয়াদী কৌশল নির্ধারণ এবং পরবর্তী দশকে এসডিজি ৭ টার্গেটের সঙ্গে জ্বালানী নীতিগুলোর সমন্বয় করতে হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নীতিগত অগ্রগতি ২০১৭ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত বিদ্যুৎ এবং দূষণমুক্ত রান্নার সুবিধা লাভের সুযোগ ত্বরান্বিত করেছে। মিনি গ্রিড এবং স্ট্যান্ড এলোন পাওয়ার সিস্টেম গ্রিডের তুলনায় বিদ্যুৎ সুবিধার জন্য জ্বালানি বিতরণে অভিযোজন বৃদ্ধি পেয়েছে। ইথিওপিয়া, নাইজেরিয়া এবং তানজানিয়াও ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা ও ইউটিলিটি ব্যবহারে স্বচ্ছতা সংক্রান্ত নীতিতে অগ্রগতি লাভ করেছে। দূষণমুক্ত রান্না করার ব্যবস্থার ক্ষেত্রে, ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালে সাব-সাহারান আফ্রিকান দেশগুলোতে বিশেষত বেনিন, কেনিয়া, নাইজেরিয়া এবং তানজানিয়াতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। ২০১০ সাল থেকে এশিয়ায় (বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মঙ্গোলিয়া এবং নেপাল) এবং লাতিন আমেরিকায় (গুয়াতেমালা) নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানী নীতিগুলো দ্রুত অগ্রগতি লাভের এক দশক পরে উচ্চ-মধ্যম এবং নিম্ন-আয়ের দেশগুলোতে পরিবর্তন ঘটাচ্ছে।

