তুরস্ক টেলিযোগাযোগ খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী

তুরস্ক টেলিযোগাযোগ খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী

উত্তরদক্ষিণ | বৃহস্পতিবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২০ | আপডেট: ১০:৩০

তুরস্কের রাষ্ট্রদূত মোস্তফা ওসমান তুরান বাংলাদেশের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা করার আগ্রহের কথা বলার পাশাপাশি টেলিযোগাযোগসহ বিভিন্ন খাতে তুরস্কের বিনিয়োগ করার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

বাংলাদেশে প্রায় এক বছর বসবাস করে তিনি উপলব্ধি করেন যে, এই দেশে না এলে এর অসাধারণ অগ্রগতি অনুধাবন করা কঠিন। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করেন ও বাংলাদেশের জনগণকে শ্রদ্ধা জানান।

ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের সঙ্গে বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) অনলাইনে সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত মোস্তফা ওসমান তুরান তুরস্কের এই আগ্রহের কথা ব্যক্ত করেন।

সাক্ষাৎকালে তারা দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়াদি, বিশেষ করে টেলিযোগাযোগ ও ডিজিটাল প্রযুক্তি সম্প্রসারণ ও অগ্রগতি সংক্রান্ত বিষয়ে মতবিনিময় করেন। ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী বাংলাদেশ ও তুরস্কের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘তুরস্ক বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু।’ বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার বিদ্যমান চমৎকার সম্পর্ক আগামী দিনগুলোতে আরও সুদৃঢ় হবে বলে মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মন্ত্রী ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে সরকারের গৃহীত কর্মসূচি তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘মাত্র কয়েক বছর আগেও শতভাগ ইলেকট্রিক পণ্য বিদেশ থেকে বাংলাদেশকে আমদানি করতে হতো। বর্তমানে শতভাগ ইলেকট্রিক পণ্য বাংলাদেশ উৎপাদন করছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘একসময় সারা পৃথিবী ছিল ইউরোপে উৎপাদিত প্রযুক্তি পণ্যের ক্রেতা। বর্তমানে সেই চিত্র আর বিরাজ করে না। বাংলাদেশ এখন মোবাইল ফোন উৎপাদন করছে, ল্যাপটপ ও কম্পিউটার আমেরিকা, নাইজেরিয়া ও নেপালসহ বিভিন্ন দেশে রফতানি করছে। আগামী এক বছরে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত মোবাইলে দেশের শতভাগ চাহিদা পূরণ হবে।’ বাংলাদেশ তুরস্কসহ কয়েকটি দেশে কমপ্রেসার রফতানি করছে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

তিনি সরকারের বিনিয়োগবান্ধব সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে বিনিয়োগে তুরস্ক এগিয়ে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের গত এক দশকের অগ্রগতি বিস্ময়কর উল্লেখ করে বলেন, ‘বিশ্ব মানচিত্রে আগামী ৫ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ হবে অন্য রকম একটি দেশ।’ তিনি তার গত ১১ মাসের কর্মকালে বাংলাদেশ সম্পর্কে তার পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে বলেন, ‘বাংলাদেশের তরুণ সমাজ ডিজিটাল পদ্ধতির প্রায়োগিক ক্ষেত্রে খুবই তৎপর। তারা প্রযুক্তি ব্যবহার ও প্রযুক্তি জ্ঞানার্জনে খুবই আগ্রহী।’ অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য এটা একটা মিরাকল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্রদূত মোস্তফা ওসমান তুরান বাংলাদেশ ও তুরস্কের ঐতিহাসিক সম্পর্কের উল্লেখ করে বলেন, ‘উপনিবেশ থেকে স্বাধিকার প্রতিষ্ঠায় বাঙালি জনতার সমর্থন তুরস্ক কোনও দিনও ভুলবে না।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তুর্কি বীর কামাল পাশাকে তার কবিতায় তুলে এনে তুরস্কের সঙ্গে এ অঞ্চলের সেতুবন্ধন রচনা করেছেন।’

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading