তেলের বাজারে চ্যালেঞ্জ বাড়াচ্ছে করোনার নতুন স্ট্রেইন

তেলের বাজারে চ্যালেঞ্জ বাড়াচ্ছে করোনার নতুন স্ট্রেইন

উত্তরদক্ষিণ | বৃহস্পতিবার, ০৭ জানুয়ারী, ২০২১ | আপডেট: ১১:০২

২০২০ সালের পুরোটা টালমাটাল পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে গেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার। নভেল করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারীর জের ধরে দেশে দেশে লকডাউন ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা, পণ্যবাণিজ্য শ্লথ হয়ে আসায় জ্বালানি পণ্যটির চাহিদায় রীতিমতো ধস নামে। দেখা দেয় রেকর্ড দরপতন। ভ্যাকসিন প্রাপ্তির সুখবরে ২০২১ সালে মহামারীর লাগাম টেনে চাহিদা বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে জ্বালানি তেলের বাজার ঘুরে দাঁড়াতে পারে— এমন আশা করা হচ্ছিল। তবে উদ্বেগ বাড়িয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনা সংক্রমণের বিবর্তিত রূপ বা নতুন স্ট্রেইন। এ কারণে ব্রিটেন নতুন করে লকডাউনে গেছে। ইউরোপে নতুন করে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এসব কারণে জ্বালানি তেলের চাহিদায় দীর্ঘমেয়াদি পতন দেখা দিতে পারে। যা জ্বালানি পণ্যটির কাঙ্ক্ষিত মূল্যবৃদ্ধিতে চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। খবর রয়টার্স ও নিক্কেই এশিয়ান রিভিউ’র।
অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সম্ভাব্য বাজার পরিস্থিতি নিয়ে সম্প্রতি একটি জরিপভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্স। এতে খাতসংশ্লিষ্ট ৩৯ প্রভাবশালী অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশ্লেষক অংশ নিয়েছেন। তাদের মতে, ২০২১ সালে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের গড় দাম দাঁড়াতে পারে ৫০ ডলার ৬৭ সেন্টে। রয়টার্সের আগের প্রাক্কলনে এ দাম ব্যারেলপ্রতি ৪৯ ডলার ৩৫ সেন্ট ধরা হয়েছিল।
আগামী বছর আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) গড় দাম ৪৭ ডলার ৪৫ সেন্টে দাঁড়াতে পারে বলে রয়টার্সের জরিপভিত্তিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আগের প্রাক্কলনে তা ছিল ব্যারেলপ্রতি ৪৬ ডলার ৪০ সেন্ট।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনার বিরুদ্ধে লড়তে ভ্যাকসিন উদ্ভাবন হয়েছে। ব্রিটেন, আমেরিকাসহ অনেক দেশে এরই মধ্যে ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু হয়েছে। এমন আশাবাদের খবর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির আশা জাগিয়েছে। তবে তা কাঙ্ক্ষিত নয়।
করোনার এ নতুন স্ট্রেইনের বিস্তার ঠেকাতে ব্রিটেনের সঙ্গে সরাসরি আকাশপথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে একাাধিক দেশ। পরিস্থিতি দেখে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভ্যাকসিন প্রয়োগের পরও পুরো ইউরোপ নতুন করে লকডাউনে যেতে পারে। যা ২০২০ সালের শুরুর দিকের পরিস্থিতিতে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে বিশ্বকে। ফলে দেশে দেশে নতুন করে লকডাউন, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ হলে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের কাঙ্ক্ষিত চাহিদা বৃদ্ধি অর্জন হবে না। খুব একটা বাড়বে না জ্বালানি পণ্যটির দাম। রয়টার্সের জরিপ প্রতিবেদনে মূলত এর প্রতিফলন ঘটেছে।
জরিপ প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, করোনা মহামারীর ধাক্কা সামলে সরকারি প্রণোদনায় ভর করে বিশ্বজুড়ে অর্থনীতিগুলো প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছিল। গতি ফিরছিল মন্দার মুখে থাকা সামগ্রিক বৈশ্বিক অর্থনীতির। তবে করোনার নতুন স্ট্রেইন সব হিসাব ওলটপালট করে দিয়েছে। জন্ম নিয়েছে নতুন চ্যালেঞ্জ। এ পরিস্থিতিতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজার পরিস্থিতি মহামারী পূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে ২০২২ সালের শেষভাগ কিংবা ২০২৩ সাল অবধি সময় লাগতে পারে।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading