ফেব্রুয়ারিতে ফাইজারের টিকা পেতে পারে বাংলাদেশ
উত্তরদক্ষিণ | শনিবার, ০৯ জানুয়ারী, ২০২১ | আপডেট: ১১:৩২
ফেব্রুয়ারির শুরুতে বাংলাদেশের করোনার টিকা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ ফাইজার-বায়োএনটেকের এই টিকা নিতে চায় কি না, তা ১৮ জানুয়ারির মধ্যে জানাতে হবে।
বাংলাদেশসহ কোভ্যাক্স উদ্যোগের ১৯২টি সদস্যদেশকে ৬ জানুয়ারি চিঠি দেওয়া হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, জানুয়ারির শেষ নাগাদ বা ফেব্রুয়ারিতে কোভ্যাক্স উদ্যোগ থেকে স্বল্পসংখ্যক টিকা দেওয়া হবে।
তারা বলছে, এটা টিকা বিতরণের ‘প্রথম ঢেউ’। এই টিকা পাওয়ার জন্য কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে।
জার্মানির গবেষণা প্রতিষ্ঠান বায়োএনটেক ও যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ কোম্পানি ফাইজার উদ্ভাবিত টিকার বাণিজ্যিক নাম ‘কমিরনাটি’। আমেরিকা প্রথম এই টিকার অনুমোদন দেয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও টিকাটি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে। উন্নত বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে এখন টিকাটির প্রয়োগ চলছে।
এটি প্রয়োগের জন্য যে সুই-সিরিঞ্জ দরকার হয়, তা প্রচলিত সুই-সিরিঞ্জের চেয়ে আলাদা। এই টিকা তীব্র শীতল তাপমাত্রায় রাখার দরকার হয়। মাইনাস ৭০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা না হলে টিকার গুণ নষ্ট হবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, স্বল্পমূল্যে টিকা দেওয়ার বৈশ্বিক উদ্যোগ গ্যাভি (গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন) এবং সংক্রামক রোগের টিকা তৈরির জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতামূলক সংস্থার (সিইপিআই) নেতৃত্বে করোনার টিকা সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিতরণের বৈশ্বিক উদ্যোগ কোভ্যাক্স গড়ে উঠেছে। উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, ইউনিসেফ, বিশ্বব্যাংকসহ অনেক উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান ও দাতব্য সংস্থা এ উদ্যোগে অর্থসহায়তা দিচ্ছে। স্বল্প ও মধ্যম আয়ের ৯২টি দেশকে কোভ্যাক্স থেকে টিকা সহায়তা দেওয়া হবে।
কোভ্যাক্সের পক্ষে সদস্যদেশগুলোকে চিঠি দিয়েছেন গ্যাভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেথ বার্কলি। তিন পৃষ্ঠার চিঠিতে তিনি বলেছেন, ওষুধ কোম্পানি ফাইজার এবং যেসব দেশ ফাইজারের টিকা সংগ্রহ করেছে, তাদের সঙ্গে কোভ্যাক্স টিকার ব্যাপারে আলাপ-আলোচনা চলছে। তার ভিত্তিতে কোভ্যাক্স জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে বা ফেব্রুয়ারিতে সদস্যদেশগুলোকে টিকা দিতে পারবে।
চিঠিতে কিছু শর্তের কথা উল্লেখ আছে: এই টিকা ২০২১ সালের মে মাসের মধ্যে প্রয়োগ করতে হবে, জাতীয় করোনা টিকা পরিকল্পনায় একাধিক ধরনের টিকা ব্যবহারের ইচ্ছার প্রকাশ থাকতে হবে। এ ছাড়া ২০২১ সালের জানুয়ারির মধ্যে দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ফাইজারের টিকার অনুমোদন করাতে হবে। তার সঙ্গে ফাইজারের দায়মুক্তির একটি ব্যবস্থা থাকতে হবে।
চিঠিতে সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৮ জানুয়ারির মধ্যে সদস্যদেশগুলোকে আগ্রহের বিষয়টি কোভ্যাক্সকে জানাতে হবে। ১৯ থেকে ২৮ জানুয়ারির মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ বা গ্যাভি সংশ্লিষ্ট দেশের আগ্রহপত্র ও অবকাঠামো পরিস্থিতি মূল্যায়ন করবে। তারা ২৯ জানুয়ারির মধ্যে প্রথম ঢেউয়ের টিকা বিতরণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করবে এবং সদস্যদেশগুলোকে জানিয়ে দেবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফাইজারের টিকার জন্য যে ধরনের ‘কোল্ড চেইন’ বা হিম শৃঙ্খল দরকার, তা বাংলাদেশে নেই।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি সূত্র বলছে, চিঠি পাওয়ার পর থেকেই কাজ শুরু করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। রেফ্রিজারেটর কেনা সম্ভব কি না, তা–ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ব্যাপারে তারা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফের সহায়তা চাইবে।

