ভূমিকম্পে ইন্দোনেশিয়ায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫
উত্তরদক্ষিণ | শুক্রবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২১ | আপডেট: ১৩:৪৬
শক্তিশালী ভূমিকম্পে ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫ জন হয়েছে, আহত হয়েছেন কয়েকশ মানুষ।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৫ জানুয়ারি) প্রথম প্রহরে এ ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৬.২ মাত্রা। উৎস ছিল মাজেনি শহরের ৬ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে, ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে।
রয়টার্স জানিয়েছে, সাত সেকেন্ড স্থায়ী এ ভূমিকম্পে বহু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আতঙ্কিত মানুষ বেরিয়ে এসে খোলা যায়গায় অবস্থান নেয়।
ওই ভূমিকম্প এবং পরাঘাতে কয়েক জায়গায় ভূমিধস হয়েছে, বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে বিভিন্ন এলাকায়, সেতু ক্ষত্রিগ্রস্ত হওয়ায় সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে।
অন্তত ৬০টি ভবন এ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে দুটি হোটেল, প্রাদেশিক গভর্নরের কার্যালয় এবং একটি মল রয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
রয়টার্স ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ মোকাবেলা সংস্থা প্রাথমিকভাবে মাজেনি শহরে চারজনের মৃত্যু এবং ৬৭৩ জনের আহত হওয়ার খবর দেয়। পরে ধীরে ধীরে আশপাশের এলাকা থেকেও হতাহতের খবর আসতে থাকে।
পশ্চিম সুলাওয়েসির দুর্যোগ মোকাবেলা সংস্থার প্রধান দারনো মজিদ রয়টার্সকে বলেছেন, মাজেনি শহর এবং পাশের মামুজু এলাকা মিলিয়ে মোট ২৫ জনের লাশ উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধারকার্মীরা এখনও কাজ করছেন, ফলে হতাহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সেতু মেরামতের পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে তাঁবু, খাবার ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠানো প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন পশ্চিম সুলাওয়েসির প্রাদেশিক সরকারের মুখপাত্র সফরউদ্দিন।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে বৃহস্পতিবার ইন্দোনেশিয়ার একই জেলায় ৫.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে বেশ কয়েকটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ইন্দোনেশিয়ার মিটিরিওলজিক্যাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিকস এজেন্সি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় এরকম কয়েক দফা ভূমিকম্প হয়েছে সেখানে। সামনে আরও শক্তিশালী পরাঘাত আসতে পারে, যা সুনামিরও শঙ্কা তৈরি করতে পারে।
২০১৮ সালে সুলাওয়েসির পালু শহরে ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্পের পর সুনামি দেখা দেয়। ওই ঘটায় কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়।

