বিশ্ব পুরোপুরি করোনা-মুক্ত হবে না, আশঙ্কা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার
উত্তরদক্ষিণ | শনিবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২১ | আপডেট: ১১:৫৬
বিশ্ব আর কোনও দিন করোনামুক্ত হবে কি না, সে বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
শুক্রবার (১৫ জানুয়ারি) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আপৎকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলা বিষয়ক কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠকে করোনাভাইরাসের নতুন স্ট্রেন (ভ্যারিয়ান্ট)-গুলির গণসংক্রমণ প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংশ্লিষ্ট কমিটির বৈঠকটি জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরিস্থিতির গুরুত্ব আঁচ করে তা দু’সপ্তাহ এগিয়ে আনা হয়। আগামী ১০০ দিনের মধ্যে প্রতিটি দেশে কারোনা টিকাকরণ অভিযান শুরুর সুপারিশ করেছে কমিটি।
টিকা বণ্টনের বিষয়ে ধনী দেশগুলির ‘ভূমিকা’ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে বৈঠকে। পাশাপাশি, ‘হু’-এর টেকনিক্যাল টিমের প্রধান তথা মহামারি বিশেষজ্ঞ মারিয়া ভ্যান খেরখোভ করোনাভাইরাসের নতুন স্ট্রেনগুলির উৎপত্তি ও সংক্রমণের উৎস চিহ্নিত করার কথা বলেছেন।
বিশ্বজুড়ে কোভিড-১৯ সংক্রমণে মৃতের সংখ্যা ২ কোটি পেরিয়ে গেলেও সংক্রমণের অধোগতির ইঙ্গিত মেলেনি। বরং গত এক বছরে বার বার ‘রূপ’ বদলেছে করোনাভাইরাস। ক্রমাগত মিউটেশনের ফলে উৎপত্তি ঘটেছে বাড়তি সংক্রমণ ক্ষমতাযুক্ত স্ট্রেনের। এদের মধ্যে লন্ডন ভ্যারিয়্যান্ট (ব্রিটেনে পাওয়া করোনাভাইরাসের নয়া প্রজাতি। যেটিকে ভিইউআই-২০২০১২/০১ অথবা বি.১.১.৭ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে) ৭০ শতাংশ বেশি সংক্রামক। দক্ষিণ আফ্রিকার স্ট্রেনের ক্ষেত্রে সংক্রমণের পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনা বেশি।
সম্প্রতি ব্রাজিলে পাওয়া করোনাভাইরাসের নতুন স্ট্রেন পি.১ (মানাউস স্ট্রেন)-এর অ্যান্টিবডি প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে ব্রিটেনের ‘জিটুপি-ইউকে ন্যাশনাল ভাইরোলজি কনসর্টিয়াম’। ওই স্ট্রেনটি কয়েক জন পর্যটকের মাধ্যমে জাপানে গিয়ে ফের চরিত্র বদলেছে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে ভাইরাস গবেষণা সংস্থাটির তরফ থেকে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বে কখনও আর ‘কোভিড-১৯ রোগী শূন্য’ হবে কি না, সে বিষয়ে সন্দিহান বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
বৈঠকের পর এক বিবৃতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফ থেকে জানানো হয়েছে, জিন প্রযুক্তির সাহায্যে ডিএনএ বিশ্লেষণের মাধ্যমে করোনাভাইরাসের সবগুলি স্ট্রেন চিহ্নিত করা প্রয়োজন। প্রয়োজন বিশ্বজুড়ে তথ্যের আদানপ্রদান। না হলে আরও বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।

