ভোট দিচ্ছেন বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বাসিন্দারা

ভোট দিচ্ছেন বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বাসিন্দারা

উত্তরদক্ষিণ | বুধবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২১ | আপডেট: ১০:৩১

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নতুন নেতৃত্ব বেছে নিতে ভোট দিচ্ছেন বন্দরনগরীর বাসিন্দারা। মহামারীর বাধা আর সংঘাত-সহিংসতা পেরিয়ে নগরীর ৭৩৫টি কেন্দ্রে বুধবার (২৭ জানুয়ারি) সকাল ৮টায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, একটানা বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলবে।

শীতের সকালের শুরুতেও বিভিন্ন কেন্দ্রের সামনে ভোটারদের উপস্থিতি দেখা গেছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিতি আরও বাড়বে বলে কর্মকর্তারা ধারণা করছেন।

সকালে ভোটগ্রহণের শুরুতেই নগরীর আন্দরকিল্লা ওয়ার্ডের কদম মোবারক এমওয়াই উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। একই ওয়ার্ডে মুসলিম এডুকেশন সোসাইটি (এমইএস) উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

এমইএস উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার সুরজিৎ বড়ুয়া গণমাধ্যমকে বলেন, তার কেন্দ্রে মোট ১৬২০ ভোট। প্রথম আধ ঘণ্টায় ১২টি ভোট পড়েছে। ভোট গ্রহণ ‘সুষ্ঠুভাবেই’ চলছে।

১৯ লাখ ৩৮ হাজার ৭০৬ জন ভোটার এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সিটি করপোরেশনের নতুন মেয়র, ৩৯ জন ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ১৪ জন নারী কাউন্সিলরকে নির্বাচিত করবেন।

নির্বাচনে মেয়র পদে সাতজন প্রার্থী থাকলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরী এবং বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী শাহাদাত হোসেনের মধ্যে।

তবে নতুন মেয়র কে হচ্ছেন, সেই প্রশ্ন ছাপিয়ে ভোটের আগে আলোচনা ছিল ভোটগ্রহণ কেমন হয় তা নিয়ে।

করোনাভাইরাসের মহামারীর কারণে এমনিতেই এক ধরনের উদ্বেগ আছে। তার মধ্যে বিএনপি আগে থেকেই কারচুপির সন্দেহ প্রকাশ করে আসছে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের আশঙ্কা, ভোট প্রশ্নবিদ্ধ করার পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে বিএনপি।

তবে এ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. হাসানুজ্জামান বলছেন, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১৪ হাজার সদস্যও রয়েছে প্রস্তুত। ‘সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ’ ভোট হবে বলেই তিনি আশা করছেন।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ষষ্ঠ নির্বাচন গত বছরের ২৯ মার্চ হওয়ার কথা থাকলেও করোনাভাইরাসের প্রকোপ বাড়তে থাকায় আট দিন আগে তা স্থগিত করা হয়। এরপর পরিস্থিতির উন্নতি বিবেচনায় ২৭ জানুয়ারি ভোটের দিন ঠিক করে নির্বাচন কমিশন।

অবশ্য ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ আছে এখনও। উনিশ লাখ ভোটারের সঙ্গে ভোটগ্রহণ কর্মী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মিলিয়ে ভোটের মধ্যে থাকবেন এক নগরীর সাড়ে ১৯ লাখের বেশি মানুষ। সেই হিসাবে প্রতি কেন্দ্রে গড়ে প্রায় ২৬০০ মানুষের উপস্থিতি ঘটতে পারে আট ঘণ্টায়।

এক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি সঠিকভাবে মানা না হলে তা কোভিড-১৯ সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টরা। তবে নির্বাচন কমিশন বলছে, সব স্বাস্থ্যবিধি মেনেই ভোটের আয়োজন হচ্ছে, সুরক্ষার সব ব্যবস্থাই কেন্দ্রে রাখা হবে।    

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading