জনসেবার নতুন এক ইতিহাস সৃষ্টি করলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা

জনসেবার নতুন এক ইতিহাস সৃষ্টি করলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা

সম্পাদকীয় | উত্তরদক্ষিণ
মুদ্রিত সংস্করণ: রবিবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২১ | আপডেট : ০০:০১

বাংলাদেশের মানুষের জন্য মুজিববর্ষের সবচেয়ে বড় উত্সব গৃহহীন-ভূমিহীনদের ঘর উপহার। বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৬৬ হাজার ১৮৯টি গৃহহীন পরিবারের হাতে শনিবার (২৩ জানুয়ারি) ঘরের চাবি বুঝিয়ে দিয়ে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজকে এটাই সবচেয়ে বড় উত্সব, এর চেয়ে বড় উত্সব বাংলাদেশের মানুষের হতে পারে না।”

ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে এসব পরিবারকে ঘরের চাবি বুঝিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। এই অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন ৪৯২টি উপজেলার মানুষ। তাদের মধ্যে কারও কারও সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী কথাও বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যখন এই মানুষগুলো এই ঘরে থাকবে তখন আমার বাবা-মার আত্মা শান্তি পাবে। লাখো শহীদের আত্মা শান্তি পাবে। কারণ এসব দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই তো ছিল আমার বাবার লক্ষ্য।”

মুজিববর্ষে একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন ঘোষণার ধারাবাহিকতায় পৌনে ৯ লাখ গৃহহীন-ভূমিহীন পরিবারের তালিকা হয়। তার মধ্যে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় প্রথম পর্যায়ে শনিবার ৬৬ হাজার ১৮৯টি পরিবারকে ঘরের মালিকানা বুঝিয়ে দেওয়া হল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এক দিনে এত মানুষকে ঘর দিতে পারলাম, এটাই সবচেয়ে বড় পাওয়া। মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তি এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের একজন মানুষও গৃহহারা থাকবে না। যাদের গৃহ নেই তাদের ঘর করে দিতে পারা অসাধ্য সাধন করতে পারলাম, এর চেয়ে বড় পাওয়া আর হতে পারে না।”

মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের পরই দেশ পুনর্গঠনের কাজ শুরু করে সবুজ বিপ্লবের ডাক দেন বঙ্গবন্ধু। গৃহহীন মানুষের জন্য গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন। তাঁরই দেখানো পথ ধরে হাঁটছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মুজিববর্ষে বঙ্গবন্ধু কন্যা ভূমি ও গৃহহীন মানুষের জন্য যে ঘর প্রদান করছেন, তা জনসেবার অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।

বহু চেষ্টা করেও যারা টেকসই আবাস গড়ে তুলতে পারে না, তাদের সীমাহীন কষ্ট সহ্য করতে হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় এসব মানুষকে পোহাতে হয় অবর্ণনীয় দুর্ভোগ। দেশের সরকার এমন হতদরিদ্রদের পাশে সব সময়ই থাকে। জাতির পিতার জন্মশতবর্ষ উপলক্ষ্যে এবার নতুন এক ইতিহাস সৃষ্টি করলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা।

বিশ্বের সর্ববৃহত্ এ আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় প্রথম পর্যায়ে যেসব পরিবার পাকা বাড়ি পেয়েছে। এমন অসাধারণ উদ্যোগের জন্য সুবিধাভোগীরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তারা প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান।

এ প্রকল্পের আওতায় এক সময়ের ছিটমহলবাসী বর্তমানে ফুলবাড়ী উপজেলায় বসবাসকারী উল্লেখযোগ্যসংখ্যক দরিদ্র মানুষ নতুন ঘর পেয়ে সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। ছিটমহলবাসীদের আগে অনেক সমস্যা ছিল, যা বহুল আলেচিত। দেশের উন্নয়নের সুফল এখন তারাও পাচ্ছে।

গৃহহীন মানুষ তার আশ্রয়ের নিশ্চয়তা পেলে খুব দ্রুত বদলে নিতে পারে নিজের ও পরিবারের জীবনমান। আর দেশের সর্বোস্তরের মানুষের জীবনমান নিশ্চিত করতে পারলে দেশ আরো সমৃদ্ধির মুখ দেখতে পাবে এটাই স্বাভাবিক। প্রতিবছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাংলাদেশের হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়, এছাড়া অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ, অর্থনৈতিক দুর্বলতা এবং আরও নানা আকস্মিক দুর্যোগেও গৃহহীন হয় বহু মানুষ। এ কারণেই প্রয়োজন হয়েছে তাদের আশ্রয়ণের ব্যবস্থা। দেশের অগ্রগতিতে এই প্রকল্প একটি বড় মাইলফলক হিসেবে পরিগণিত হবে। সরকারের এই উদ্যোগ বিশ্বের ইতিহাসে নতুন সংযোজনও বটে… এর মাধ্যমে বিশ্ব ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ। দেশের জন্য বিশাল এক অর্জন এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন।

প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া পাকা ঘর ও জমি পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে উঠেছেন হতদরিদ্র পরিবারের মানুষগুলো। ঝড় বৃষ্টিসহ বিভিন্ন দুর্যোগে সবসময় ভয় আর আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করা এই মানুষগুলোই একদিন পাকা ঘরে ঘুমাতে পারবেন, তা স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তারা।

এমনই একজন খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের অসহায় হতদরিদ্র সাহিদা বেগম। স্থায়ী ঠিকানা পেয়ে স্বামী পরিত্যক্তা সাহিদা বেগম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আইলার পর সব হারিয়ে শোলমারী নদীর এই চরে আশ্রয় নিয়েছিলাম। এক ছেলে আর এক মেয়ে নিয়ে দিন মজুরের কাজ করে কোনোরকমে দিন কাটছিল। নদীর চরে এই জায়গাটুকু হারানোর ভয়ও প্রতিনিয়ত কাজ করেছে মনে।’ তিনি জানান, এখন তিনি নিজেই জায়গার মালিক হয়েছেন। সেইসঙ্গে পেয়েছেন একটা ছোট ঘরও। যা আর কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading