নাসরীন সুলতানা’র কবিতা

নাসরীন সুলতানা’র কবিতা

শিল্প-সাহিত্য | উত্তরদক্ষিণ
মুদ্রিত সংস্করণ: রবিবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২১ | আপডেট : ০০:০১

ষড়ঋতু এবং তুমি

তুমি গ্রীষ্মের খরতাপে বিদগ্ধ
চিরচেনা সেই একখানা মুখ,
তুমি বর্ষার অথৈ জলের অতলে পানকৌড়ির সাতার,
সাতার নিমজ্জনে যারা ভুলেছে নিজ আহার।
তুমি শরৎ এর কাশবনে ফোটা শুভ্র একরাশ স্নিগ্ধতা,
তুমি নিশুতি রাতের বক্ষে সঙ্গোপনে লেপ্টে থাকা
অযুত নিযুত গোপনীয়তা,
তুমি হেমন্তের নব ধানের আঁটিতে
হলদেটে সেই হাসি,
তুমি ঘামঝরা সেই কৃষানের ওষ্ঠে ধ্বনিত,
বাঁশের পাতার বাঁশি।
তুমি হাড়কাপানো শীতের আমেজে
ধোয়া ওঠা ভাপা পিঠের গন্ধ,
তুমি বাম অলিন্দ জুড়ে সযত্নে লেপ্টে থাকা
চিরচেনা এক ছন্দ।
তুমি বসন্তের সেই কোকিল স্বরে
ধ্বনিত মোহনীয় এক সুর,
তুমি ষড়ঋতুর মায়া চাদরে জড়ানো
অবিনাশী গান সুমধুর।

হিসেব

আজ এ ধরায় যা রাজত্ব করে
সবই মিছে মায়ার কায়া,
একদিন মৃত্তিকার আলিঙ্গনে সবই
হয়ে যাবে অদৃশ্য ছায়া।
আবেগ,ক্রোধানল,
ক্রোন্দন সবই যাবে হাওয়ায় মিলিয়ে,
হায়!কি পেলাম কি হারালাম
সব হিসেব যাবে গুলিয়ে।
রাগ, অনুরাগ, গঞ্জনা, ভৎসনা আর কিছুই রবে না পড়ে,
আত্নার ক্রন্দন মৃত্তিকা মাঝেতে নিত্যই পড়বে ঝরে ঝরে।
কেন মিছে এই ভাসমান চরাচরে
খেলে মানুষ পাওয়া না পাওয়ার সেই কানামাছি খেলা,
ভালোবাসার বদলে কেন দিয়ে যায় কেবলই অভিনব অবহেলা!
কেউ হাসে নিত্যদিন ঝরিয়ে কারও লেচনজল,
কেউ বা, ভাবে না পাওয়াটা কেবলই হয়ত তারই কর্মফল।
কেউ হাসে বিজয়ের হাসি মুঠোয় পেয়ে স্বপ্ন,
কারও বা এই একজীবনে হয় না কিছুই পাওয়া,
মিছেই কেবল নিত্যদিনই হয় স্বপ্নভ্রষ্ট।
নিশীরাত কারও ক্ষুদ্র লাগে, কারওবা বড্ড দীর্ঘ,
এ খুচরা পয়সার জীবনটা
আসলে পাওয়া না পাওয়ারই
অনন্য এক তীর্থ।

ভোরের গল্প

বিদর্ভ নগরীতে বিদগ্ধ আত্নার নিত্য ক্রন্দন,
মিছেই যেন ধরনীর যাবতীয় সকল বন্ধন।
মিছেই দেখো ফিনকি দিয়ে ছোটে
ওষ্ঠের কোনে এ হাসির ফোয়ারা,
স্বপ্ন সে তো মরীচিকার ন্যায় চিরকালই অধরা।
জীবনের প্রতিটি নির্ঘুম রাত্রির সাথেই কেবল হয়েছে মিত্রতা,
চোখ জানে প্রিয় কাজলের তলায় লিখে চলেছে সে নিত্যই
কত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিরহগাঁথা।
প্রিয় হাসিখানা আগলে রাখা ললাটে সয় না,
কলম নিত্য যে চোখের ভাষায় কথা কয়,
সে চোখ যে কভু এ চোখের নয়।
অবুঝ হৃদ তবুও মানে না
নিত্যই নিভৃতে বুনে চলে তবুও আশা,
কভু যদি সে চোখ পড়ে নিতে পারে এ চাতক চোখের ভাষা!
চাতক চোখ চায়নি কেবলই প্রণয়ে মোড়া রং চকচকে খোলসের আদলে
হয়ে যেতে একদিন কেবলই গল্প,
সে চোখ কেবলই চেয়ে গেছে শুধু
যে চোখে বহুকাল বাদে পড়েছে এ চোখ
সে চোখের গভীরেই আমরন রচে যেতে
এই ছোট একটা যাপিত জীবনের প্রিয়
চার চোখা শুভ্র ভোরের সুবাসিত কিছু গল্প।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading