না ফেরার দেশে এইচ টি ইমাম

না ফেরার দেশে এইচ টি ইমাম

উত্তরদক্ষিণ | বৃহস্পতিবার, ০৪ মার্চ, ২০২১ | আপডেট: ০২:১২

না ফেরার দেশে চলে গেলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য হোসেন তৌফিক (এইচ টি) ইমাম।

বুধবার (৩ মার্চ) দিবাগত রাত ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি…..রাজিউন)।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া। বুধবার (৩ মার্চ) দিবাগত রাত রাত ১টা ২০ মিনিটে নিজের ভ্যারিফায়েড ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানান তিনি।

বিপ্লব বড়ুয়া লিখেছেন, ‘অত্যন্ত বেদনার সঙ্গে জানাচ্ছি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম রাত ১.১৫ টায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন। জানাজা এবং দাফনের বিষয়টি পরে অবহিত করা হবে।’

মৃত্যুকালে এইচ টি ইমামের বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। কিডনি জটিলতাসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন অসুস্থতা নিয়ে তিনি বেশ কিছুদিন আগে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি হন। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। মঙ্গলবার বিকাল থেকে তার শারীরিক পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়।

এইচ টি ইমামের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও শোক জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন।

এইচ টি ইমামের জন্ম ১৯৩৯ সালে। বাবার চাকরি সূত্রে তার শৈশব-কৈশোর কেটেছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়।

ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন এইচ টি ইমাম। ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ থেকে। এরপর রাজশাহী কলেজ থেকে বিএ ডিগ্রি নিয়ে তিনি ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। তখন তিনি বাম ছাত্র সংগঠনে যুক্ত ছিলেন।

পড়াশোনা শেষ করে তিনি রাজশাহী সরকারি কলেজে অর্থনীতির প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। এরপর পাকিস্তানে সিভিল সার্ভিস (সিএসপি) পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। পরে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা করেন লন্ডনের স্কুল অব ইকোনমিকস থেকে।

১৯৭১ সালে পাকিস্তান সরকারের চাকরিতে থাকা অবস্থায় পাকিস্তানের প্রতি আনুগত্য ত্যাগ করে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন এইচ টি ইমাম। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম মন্ত্রিপরিষদ সচিবও হন তিনি।

স্বাধীনতার পর ১৯৭৫ সালের ২৬ অগাস্ট পর্যন্ত তিনি মন্ত্রিপরিষদের সচিবের দায়িত্বে ছিলেন। এরপর ১৯৭৮ থেকে ১৯৮৪ পর্যন্ত সাভারের লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি যোগাযোগ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্বও পালন করেন।

অবসর নেওয়ার পর আওয়ামী লীগে সক্রিয় হন এইচ টি ইমাম। দলের নির্বাচন পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন তিনি। আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান ছিলেন।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে উপদেষ্টার দায়িত্ব দেন। প্রথমে তিনি জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন। ২০১৪ সালে তাকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নিয়োগ করা হয়। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এ পদে বহাল ছিলেন। তিনি দেশের মুক্তিযুদ্ধ, ইতিহাস ও রাজনীতি নিয়ে বেশ কয়েকটি বইও লিখেছেন। তথ্য সহায়তায়: বাংলা ট্রিবিউন

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একজন নিবেদিতপ্রাণ নেতাকে হারালো: এইচ টি ইমামের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading