২৮ মার্চ: একাত্তরের এই দিনে
উত্তরদক্ষিণ | রবিবার, ২৮ মার্চ, ২০২১ | আপডেট: ১২:১৩
আজ ২৮ মার্চ। ১৯৭১ সালের এই দিন সকালে পাকিস্তানি সামরিক কর্তৃপক্ষ সকাল ৭টা থেকে ১২টা পর্যন্ত কারফিউ শিথিলের ঘোষণা দেয়। পরে তা বিকেল ৪টা পর্যন্ত বাড়ানো হয়। গণহত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ২৫শে মার্চের রাতে ঢাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছিল পাকিস্তানি সেনারা। ২৮ মার্চ দুপুরের দিকে শহরের কিছু কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়। ঢাকা তখনও আতঙ্কের নগরী।
এদিন কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, দুদিনে বাংলার প্রায় এক লাখ মানুষ নিহত হয়েছে। দুদিন বন্ধ থাকার পর ২৮ মার্চ ‘দ্য পাকিস্তান অবজারভার’ প্রকাশিত হয়। পাকিস্তানি সরকারের বিভিন্ন প্রেস নোট আর সরকারি খবরে ভরা ছিল চার পৃষ্ঠার সেই কাগজ। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের ২৬ মার্চের বেতার ভাষণের পুরোটা অবজারভার সেদিন ছাপে। ছোট্ট করে বঙ্গন্ধু শেখ মুজিবকে গ্রেপ্তারের খবরও ছাপা হয়।
এদিন প্রথমবার আন্তর্জাতিকভাবে গণহত্যার প্রতিবাদে এবং স্বাধীনতার দাবিতে বিশাল সমাবেশ ও বিক্ষোভ করে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাঙালি। লন্ডনের সেই সমাবেশে অংশ নেন বিদেশিরাও।
চট্টগ্রামের দক্ষিণ থেকে বালুচ রেজিমেন্ট, উত্তর থেকে চট্টগ্রাম সেনানিবাস এবং কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট থেকে অগ্রসরমান পাকিস্তানি সেনাদের হামলায় বাঙালি সেনা, ইপিআর, পুলিশ ও জনতার প্রতিরোধ ব্যূহ ব্যর্থ হয়। তাদের পিছিয়ে আসার কৌশল নিতে হয়। পাকিস্তানি নৌবাহিনী চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন স্থানে গোলা নিক্ষেপ করে। নৌবন্দর এলাকায় পাকিস্তানিরা বাঙালি নৌসেনাদের নিরস্ত্র করে হত্যা করে। চট্টগ্রাম চলে যায় পাকিস্তানিদের নিয়ন্ত্রণে। তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, যশোর ও বরিশালে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা ব্যাপক প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
একাত্তরের ২৫ মার্চ রাতে ঢাকায় গণহত্যার খবর ছড়িয়ে পড়তেই দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহকুমা শহরের পুলিশ, ইপিআর, ছাত্র-শিক্ষক, জনতা যার কাছে যা ছিল তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলায় ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। ২৮ মার্চ যুদ্ধ শুরু হয় পাবনা শহরেও। সান্ধ্য আইন ভঙ্গ করায় ১০ জনকে হত্যা করে পাকিস্তানি বাহিনী। পরে তারা টেলিফোন এক্সচেঞ্জে আশ্রয় নেয়। সংগ্রামী জনতা সে জায়গা ঘিরে ফেলে। সেখানে গোলাগুলি হয়। সব পাকিস্তানি সৈন্য মারা যায়। নোয়াখালীতে আবদুল মালেক উকিলের নেতৃত্বে ইপিআর ও আনসার সদস্যদের সংগঠিত করা হয়। সমগ্র নোয়াখালীতে প্রতিরোধ গড়ে ওঠে।
তাজউদ্দিন আহমদ, ব্যারিস্টার আমির-উল ইসলামরা পশ্চিমবঙ্গের দিকে ছুটে পথে পথে দেখেন যুদ্ধের প্রস্তুতি। ড. রেহমান সোবহান উল্টোপথে পূর্বে ত্রিপুরামুখী পথে দেখেন সেনা ইউনিট নিয়েও আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত পাকসেনাদের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে না গিয়ে খালেদ মোশাররফ চোরাগোপ্তা গেরিলা হামলায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া রাখেন নিজের হাতে। এদিন বরিশালের পেয়ারাবাগান থেকে যুদ্ধ শুরু হয়।

