‘হেফাজতের কর্মসূচিতে জামায়াত-শিবিরের উগ্রপন্থীরা ঢুকে পড়েছে’
উত্তরদক্ষিণ | রবিবার, ২৮ মার্চ, ২০২১ | আপডেট: ১৫:৩০
কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের কর্মসূচিতে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী ও পরাজিত শক্তি জামায়াত ও দলটির ছাত্র সংগঠন ছাত্র শিবিরের উগ্রপন্থীরা ঢুকে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও ইসলামী গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান এম এ আউয়াল। তিনি বলেন, ‘জামায়াত একাত্তর সালেও দেশের স্বাধীনতা মেনে নেয়নি, আর স্বাধীনতার ৫০ বছর পরে এসেও এদের অবস্থানে পরিবর্তন আসেনি।’
রবিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে এক বিবৃতিতে এম এ আউয়াল এসব কথা বলেন।
উগ্রপন্থীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে বলে উল্লেখ করে আউয়াল বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সব দেশপ্রেমিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে সাম্প্রদায়িক অপশক্তির মোকাবিলা করতে হবে।
এম এ আউয়াল বলেন, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা আগমনকে কেন্দ্র করে সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফরিদপুরে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর ওপর হামলা চালানো হয়েছে। থানা, রেলস্টেশনে চালানো হয়েছে জঙ্গিবাদী নাশকতা। বিনাশ করা হয়েছে সাধারণ জনগণের সম্পদ। আজ রবিবার হরতালেও দেশের বিভিন্ন স্থানে রেলস্টেশন, সংস্কৃতিকেন্দ্রসহ মানুষের সম্পদ নষ্ট করেছে হেফাজত।’
তিনি আরও বলেন, ‘কওমি মাদ্রাসার সাধারণ ছাত্র-শিক্ষকদের ব্যবহার করে হরকতপন্থী জঙ্গিবাদী-উগ্রপন্থীরা এসব হামলা করছে। হেফাজতের ব্যানারে জিহাদি স্লোগান যারা দিচ্ছে, তারাই গণমানুষের সম্পদ বিনষ্টের উগ্রখেলায় মেতে উঠেছে। একাত্তরের পরাজিত শক্তি জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরাও এই নাশকতার সঙ্গে জড়িত। সরকার নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করলেই এদের মুখোশ বেরিয়ে আসবে।’
তিনি বলেন, ‘গত কয়েকদিনে ফেসবুকে অসংখ্য আইডি থেকে ফেইক লাইভ করে গুজব ছড়ানোর অপচেষ্টা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে এ ব্যাপারে সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে।’
‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেইক লাইভ দেখিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির পেছনেও জামায়াত-শিবিরের উগ্রপন্থীরা যুক্ত বলে’ অভিযোগ করেন এম এ আউয়াল।
তিনি বলেন, ‘অস্বাভাবিক কোনও মৃত্যুই কারও কাছে কাম্য হতে পারে না। কিন্তু এইসব মৃত্যুর পেছনের কারণ যথাযথ অনুসন্ধান করতে বিভাগীয় তদন্ত করা জরুরি।’
এছাড়াও গত কয়েকদিনে হাটহাজারী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহতদের বিষয়ে সরকারের সুস্পষ্ট অবস্থান ও তদন্তের দাবি জানান এম এ আউয়াল।

