সবাইকে দ্রুত টিকা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার দাবি শিক্ষার্থীদের

সবাইকে দ্রুত টিকা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার দাবি শিক্ষার্থীদের

উত্তরদক্ষিণ | মঙ্গলবার, ২৫ মে ২০২১ | আপডেট ১২:২০

সবাইকে দ্রুত করোনাভাইরাসের টিকা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার দাবি তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। টিকা নিশ্চিত করার আগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না খোলার সিদ্ধান্তে সেশনজটে পড়ে চাকরির বয়স নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ লাখ টিকার বন্দোবস্তু করে কবে নাগাদ তা দেওয়া যাবে, তাও এখন বলতে পারছে না স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, এর মধ্যে তারা এক বছর পিছিয়ে পড়েছেন। এখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না খুললে আরও এক বছরের সেশনজটে পড়তে হবে তাদের।শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার লক্ষ্যে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেওয়া হলেও শিক্ষার্থীদের টিকার আওতায় আনার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই।

আর বিশ্ববিদ্যালয় খোলা বা পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে জাতীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশে করোনাভাইরাস মহামারীর প্রাদুর্ভাবের পর সরকারি সিদ্ধান্তে গত বছরের মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে বন্ধ।

সংক্রমণের নিম্নগতির মধ্যে গত ২২ মার্চ শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেছিলেন, রোজার ঈদের পর ২৪ মে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুলবে। কিন্তু বাদ সাধে কোভিড-১৯ সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ। সেজন্য পরিকল্পনা তো বাদ দিতে হয়েছেই; কবে বিশ্ববিদ্যালয় খুলবে, তাও পড়েছে অনিশ্চয়তায়।

এই পরিস্থিতিতে উদ্বেগে থাকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের স্নাতকোত্তরের এক শিক্ষার্থী বলেন, “বিশ্বের পরিস্থিতি বিবেচনা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে অন্তত ৫০ শতাংশ শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে টিকার আওতায় এনে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়া উচিত।

“আর সব ধরনের চাকরির আবেদনের বয়সসীমা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।” বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে গিয়ে ৩১ মার্চের মধ্যে শিক্ষার্থীদের টিকার জন্য নিবন্ধন করতে বলেছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

সেখানে প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন। ১৭ এপ্রিলের মধ্যে শিক্ষার্থীদের প্রথম ডোজ দিতে সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। তখন কেন শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেওয়া হল না, সে প্রশ্ন রেখেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শৈবাল রায়।

“তখন তো দেশে টিকা ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারী সবাই টিকা নিয়েছেন ঠিকই, শিক্ষার্থীদের টিকা নিয়ে কেন তালবাহনা? টিকা নামক মুলা ঝুলিয়ে কি এবছরটাও পার করে দেওয়া হবে?” টিকা না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের স্নাতকের শিক্ষার্থী ইয়াছিন আল শাহীন।

“বলা হয়েছে, টিকা দিয়ে শিক্ষার্থীদের হলে তোলা হবে। কিন্তু টিকা আমরা কবে পাব? টিকার অজুহাত দেখিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধের তারিখ বার বার পেছানো হচ্ছে। আর আমাদের শিক্ষা জীবনকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দেওয়া হচ্ছে।”

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading