নেতানিয়াহুকে সরাতে বিরোধীদের নতুন সরকার চূড়ান্ত
উত্তরদক্ষিণ | বৃহস্পতিবার, ৩ জুন ২০২১ | আপডেট ১১:২০
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সরানোর পথ মোটামুটি পাকা করে ফেলেছেন দেশটির পার্লামেন্টে বিরোধী দলীয় নেতা মধ্যপন্থী ইয়েশ আতিদ দলের ইয়ায়ের লাপিদ।
নতুন জোট সরকার গঠনে গতকাল বুধবার শরিক দলগুলোর সঙ্গে একটি সমঝোতায় উপনীত হওয়ার কথা তিনি প্রেসিডেন্ট রুবেন রিভলিনকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন সরকার গঠনে একটি মতৈক্যে পৌঁছাতে বেঁধে দেওয়া সময়সীমা গতকাল বুধবার মধ্যরাত পেরুনোর মাত্র ৩৫ মিনিট আগে প্রেসিডেন্টকে ইমেইল করেন লাপিদ। তিনি লেখেন, “আপনাকে জানাতে পেরে খুশি যে, আমি একটি নতুন সরকার গঠনে ঐকমত্য গঠনে সফল হয়েছি।”
প্রেসিডেন্ট রিভলিন তখন ইসরায়েলের ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ দেখতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি ফোন করে লাপিদকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বলে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে।
শরিকদের সঙ্গে সমঝোতা অনুযায়ী লাপিদের জোটের প্রধন শরিক উগ্র জাতীয়তাবাদী ইয়ামিনা পার্টির নেতা নাফতালি বেনেট প্রথমে দু’বছরের জন্য জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেবেন। এরপর পালাবদল হয়ে প্রধানমন্ত্রী হবেন লাপিদ।
তাদের এই জোট সরকারে বেশ কিছু ছোট ও মাঝারি দলও শরিক হচ্ছে। তাদের মধ্যে আছে ইসরায়েলের ২১ শতাংশ আরব সংখ্যালঘুর প্রতিনিধিত্বকারী দল দ্য ইউনাইটেড আরব লিস্ট। প্রথমবারের মত এরা ইসরায়েলের ক্ষমতার অংশ হতে যাচ্ছে।
এই ঐকমত্যের সরকারে অন্যান্য দলের মধ্যে আছে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেনি গ্যান্টসের মধ্য-বামপন্থি ব্লু অ্যান্ড হোয়াইট দল, বামপন্থি মেরেৎস ও লেবার পার্টি, সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আভিগদোর লিবারম্যানের কট্টরপন্থি দল ইসরায়েল বেইতেনু এবং আরেকটি কট্টরপন্থি দল নিউ হোপ, যার নেতৃত্বে আছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী গিডেওন সার।
নতুন সরকার গঠনের জন্য লাপিদকে ইসরায়েলের পার্লামেন্টের আরব সদস্যদের দিকেও চেয়ে থাকতে হবে। কারণ, ডান, মধ্য ও বামপন্থিদের জোট মিলেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করা যথেষ্ট হবে না। ওদিকে, ইয়ামিনা পার্টির সঙ্গে পার্লামেন্টের আরব সদস্যদের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে যোজন যোজন ফারাক।
লাপিদ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে একটি জোট গঠন করতে সক্ষম হলেও তার নতুন সরকারকে পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে জিততে হবে। তবেই নতুন সরকার শপথ গ্রহণ করতে পারবে।

