পটুয়াখালীতে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের পাশে স্বমিল!
উত্তরদক্ষিণ| সোমবার, ২৮ জুন ২০২১| আপডেট ১২:৩০
পটুয়াখালীর কলাপাড়ার সংরক্ষিত বনাঞ্চলের পাশে কাঠ চেরাইয়ের জন্য স্থাপন করা হয়েছে একটি স্বমিল। উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের সোনাতলা নদীর তীরে লাইসেন্সবিহীন এ স্বমিলে দিন রাত চলছে কাঠ চেরাইয়ের কাজ। এতে পরিবেশ ও প্রতিবেশ হুমকীর মুখে পড়লেও বন কর্তৃপক্ষ নির্বিকার।
উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের সোনাতলা নদীর তীরবর্তী এলাকার সংরক্ষিত বনাঞ্চলের পাশে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র কিংবা বনবিভাগের অনুমোদন ছাড়া লাইসেন্স বিহীন এ স্ব-মিলটি স্থাপনের পর রহস্যজনক কারনে এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নেয়নি বন কর্তৃপক্ষ।
সূত্র মতে, স্বমিল স্থাপনের জন্য বন বিভাগের লাইসেন্স প্রাপ্তির পর নিতে হয় পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র। স্ব-মিল লাইসেন্স বিধিমালা ২০১২-র আইনে সুস্পষ্টভাবে বলা রয়েছে, করাত কল স্থাপন বা পরিচালনার জন্য লাইসেন্স ফি বাবদ ২০০০ টাকা ‘১/৪৫৩১/০০০০/২৬৮১ (বিবিধ রাজস্ব ও প্রাপ্তি) খাতে’ বাংলাদেশ ব্যাংক বা যেকোন সরকারি ট্রেজারিতে জমাপূর্বক ট্রেজারি চালান আবেদনপত্রের সাথে সংযুক্ত করতে হয়। নতুবা আবেদনপত্রটি গ্রহণযোগ্য হবে না।
এছাড়া সরকারি অফিস-আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, বিনোদন পার্ক, উদ্যান ও জনস্বাস্থ্য বা পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কোনো স্থানের ২০০ মিটারের মধ্যে স্ব-মিল স্থাপন করা যাবে না। সকাল ৬টার আগে এবং সন্ধ্যা ৬টার পরে স্বমিল চালানো যাবে না। বিধিমালায় আরো বলা আছে, এ আইন কার্যকর হওয়ার আগে কোনো নিষিদ্ধ স্থানে স্ব-মিল স্থাপন করা হয়ে থাকলে আইনত কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে সেগুলো বন্ধ করে দিতে হবে। যদি তা না করা হয় তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তা বন্ধের জন্য আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে স্বমিল। এতে বন ও পরিবেশ বিভাগের তদারকি ও যথাযথ পদক্ষেপের অভাবকেই দায়ী
করছেন স্থানীয়রা।
সংশ্লিষ্ট স্বমিল মালিক বুলেট হাওলাদার বলেন, ’এলাকার জনসাধারণ উপকারের স্বার্থে স্বমিলটি স্থাপন করা হয়েছে। যা অনুমোদন পেতে আবেদন করা হয়েছে।’
বনবিভাগের কলাপাড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মো: আবদুস ছালাম বলেন, ’স্বমিল নির্মানের অনুমতির জন্য আমার কাছে কেউ কোন লিখিত আবেদন দেয়নি। চলমান লকডাউনের সুযোগ নিয়ে স্বমিলটি স্থাপন করা হয়েছে। আমি খোঁজ খবর নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

