ব্যস্ত সময় পার করছেন শার্শার কামাররা
উত্তরদক্ষিণ| শুক্রবার, ১৬ জুলাই ২০২১| আপডেট ১৬:৪৫
আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন শার্শা কামার সম্প্রদায়।
কোরবানির পশু জবাই সংক্রান্ত উপকরণ ছুরি, চাপাতি, দা, বটিসহ বিভিন্ন ধারালো জিনিস তৈরিতে এখন ব্যস্ত এ উপজেলার প্রায় ৫ শতাধিক কামার। এসব ধারালো অস্ত্র চাহিদা মতো সরবরাহে কামার শিল্পীরা দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন।
ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে বিক্রি ততো বেশি হবে বলে জানান তারা। আরো জানা যায়, আশির দশকের শুরু থেকে এখানে ব্যবসা শুরু করেছেন দা, বটি, চাপাতি তৈরির কারিগররা।
আর জবাই করার অন্যতম উপাদান এসব পণ্য। বছরের অন্য সময়ের চেয়ে কোরবানির সময়টাতে কাজের চাপ অনেক বেড়ে যায়। সেই সঙ্গে বেড়ে যায় তাদের আয়-রোজগারও। সারা বছর তাদের দুর্দিন থাকলেও এখন অনেকটাই সুদিন।
কামারপট্টি ঘুরে দেখা যায়, পশু কোরবানির নানা উপকরণ তৈরিতে ব্যস্ত কামাররা।
শার্শা উপজেলার কুমার কর্মকার বলেন, আমরা দা, বটি, চাপাতি, ছুরিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরি করে দেশের অনেক জেলাতে প্রয়োজন অনুযায়ী সরঞ্জাম সরবরাহ করি।
তিনি আরও বলেন, লোহা এবং কয়লার দাম বাড়ার কারণে দা, বটি, চাপাতিসহ অন্যান্য সরঞ্জামের দাম বাড়ানো হয়েছে।
শার্শা, বাগআঁচড়া, জামতলা,ধলদাহ, রামপুর, উলাশী, নাভারণ, কামার বাড়ি ও বেনাপোলসহ বিভিন্ন কামারের দোকান ঘুরে জানা যায়, বর্তমানে প্রতি পিস বটি পাইকারি ২০০ টাকা, খুচরা ২৫০-৩০০ টাকা, চাপাতি পাইকারি ৩৫০, খুচরা ৫০০ টাকা, ছুরি সর্বনিম্ন ৬০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ২৫০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। তবে জবাই করার ছুরি ৬০০ থেকে ১০০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
খুচরা বিক্রেতা হযরত বলেন, নাভারণ বাজারে মালামাল নিয়ে যাই। কারণ এখান থেকে মাল নিলে অন্য জায়গা থেকে কমদামে নেওয়া যায় এবং এরা সরঞ্জামগুলো ভালো করে তৈরি করে।
তিনি আরও বলেন, বছরে একবারই চাপাতি, ছুরি, বটির চাহিদা বেশি থাকে। এজন্য আগে থেকেই এগুলোর মজুদ করে রাখছি।
তবে কামারপট্টির কারিগরদের অভিযোগ, তাদের পরিশ্রমের তুলনায় মজুরি অনেক কম। সারা দিন আগুনের পাশে বসে থাকতে হয়। ফলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা শরীরে তৈরি হয়।
তবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা অভাবে শার্শা থানায় ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে কামার সম্প্রদায়। বাধ্য হয়ে পৈত্রিক পেশা পরিবর্তন করছে অনেকে।
উলাশী গ্রামের আবদুল্লাহ কামার বলেন, সারা বছর আমাদের মোটামুটি বিক্রি হয়। তবে এই সময় বিক্রি হয় সবচেয়ে বেশি। তবে উৎপাদন ও প্রতিযোগিতা বেড়ে যাওয়ায় লাভ আগের চেয়ে কম।
স্থানীয় হযরত কামার জানান, সারা বছর তৈরি করা এসব পণ্য যত বিক্রি হয় তার চেয়ে বেশি বিক্রি হয় ঈদ মৌসুমে। শুধুমাত্র কোরবানির সময়টাতে এসব পণ্য ভাল চলে। বাকি সময়টাতে ব্যবসা ভালো চলে না। ফলে সামান্য লাভে বিক্রি করতে হচ্ছে।
এদিকে লোহা ও কয়লার দাম বাড়লেও সে তুলনায় কামার শিল্পের উৎপাদিত পণ্যের দাম বাড়েনি। এছাড়া আধুনিকতার ছোঁয়ায় এসব পণ্য তৈরির বেশ কিছু আবার প্রযুক্তি নির্ভর হাওয়ায় কামার সম্প্রদায় আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়ছে। এ কারণে অনেকে বাধ্য হয়ে পৈত্রিক পেশা পরিবর্তন করে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন বলে জানা যায়।
জয়নাল/জিকে

