শিশু হৃদরোগের পূর্ণাঙ্গ ইউনিট হচ্ছে বিএসএমএমইউতে
উত্তরদক্ষিণ| বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১| আপডেট ১৮:৫০
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে নবজাতক শিশুদের জন্মগত হৃদরোগের অপারেশন করতে দেশে প্রথবারের মতো পূর্ণাঙ্গ একটি শিশু কার্ডিওলজি ও শিশু কার্ডিয়াক সার্জারি ইউনিট করতে যাচ্ছে।
এজন্য ৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ শিশু কার্ডিওলজি ও শিশু কার্ডিয়াক সার্জারি ইউনিট স্থাপন’ শীর্ষক একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার। বুধবার (২৮ জুলাই) স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের প্রস্তাবিত প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি- একনেক এর সভায় অনুমোদন পায়।
সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠক পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, “বিএসএমএমইউতে পূর্ণাঙ্গ শিশু কার্ডিওলজি ও শিশু কার্ডিয়াক সার্জারি ইউনিট স্থাপন দেশের স্বাস্থ্য খাতের একটি মাইলফলক প্রকল্প। “শিগগির প্রকল্পটির কাজ শুরু করে ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে শেষ করার টার্গেট নিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বিএসএমএমইউ।“
এরপর প্রকল্পটির বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য মোসাম্মৎ নাসিমা বেগম বলেন, “দেশে প্রতিবছর প্রায় ৩৩ লাখ নবজাতকসহ ১৮ বছরের নিচে প্রায় ৬৭ লক্ষ শিশুর মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার শিশু জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছে। “এসব শিশুর চিকিৎসা সেবা ও সার্জারি প্রদান করে জন্মগত হৃদরোগ থেকে মৃত্যুহার সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনার উদ্দেশ্য প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে।“
এছাড়াও প্রকল্পটির মাধ্যমে সরকারি মেডিকেল কলেজ পর্যায়ে নবজাতকসহ জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুর চিকিৎসাসেবা ও সার্জারি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রশিক্ষিত জনবল গড়ে তোলা হবে বলে তিনি জানান।
এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নবজাতকসহ জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুর চিকিৎসা সেবা ও সার্জারি বিষয়ে প্রতি বছর প্রায় ২০ জন চিকিৎসককে উচ্চতর শিক্ষা (এমডি, এফসিপিএস, এমএস কোর্স) প্রদানের সুযোগ তৈরি হবে। নাসিমা বেগম জানান, বিএসএমএমইউ এর এফ ব্লকের ৮ম ও ৯ম তলা ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ করে ৩ হাজার ৪৩৮ বর্গমিটার আয়তনে এই ইউনিট তৈরি করা হবে।
এই প্রকল্পসহ আজ বুধবার একনেক বৈঠকে প্রায় ২ হাজার ৫৭৫ কোটি ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ের ১০টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ২ হাজার ১৫০ কোটি ৪২ লাখ টাকা এবং প্রকল্প সহায়তা হিসেবে বৈদেশিক ঋণ থেকে ৪২৫ কোটি টাকার যোগান দেওয়া হবে বলে জানান পরিকল্পনামন্ত্রী।

