উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংলাপ চান ডোনাল্ড ট্রাম্প

উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংলাপ চান ডোনাল্ড ট্রাম্প

উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, আপডেট ০৮:০০

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংলাপ চান বলে জানিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) তিনি এ কথা জানান। তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধে সামরিক হস্তক্ষেপের জন্য দক্ষিণ কোরিয়া কোনো সেনা মোতায়ন করবে না।

লি আরও বলেন, এ ধরনের আলোচনা হবে কিনা তা নিশ্চিত নয়, তবে এর সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এদিকে উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংলাপ আয়োজনের পথ তৈরি করতে দক্ষিণ কোরিয়া প্রাথমিক সমন্বয় প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপের প্রতিবেদনে লির বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংলাপ পুনরায় শুরু করা, দুই কোরিয়ার মধ্যে সংলাপ শুরু করার চেয়ে অনেক সহজ।

প্রথম মেয়াদে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করতে চান ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, চলতি বছরের শেষ দিকে কিমের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে তার।

ট্রাম্প বলেন, কিমের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, উত্তর কোরিয়ার কাছে বর্তমানে ৫৭টি শক্তিশালী পারমানবিক অস্ত্র রয়েছে। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার হিসাবে উওর কোরিয়ার কাছে প্রায় ৮০-১২০টি পারমানবিক ওয়্যারহেড রয়েছে।

সম্প্রতি বছরগুলোতে রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন পেয়েছে উত্তর কোরিয়া। তবে ট্রাম্পের মন্তব্যের বিষয়ে কোনো স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া জানায়নি উত্তর কোরিয়া। ২০১৮ সালে দুই কোরিয়ার সম্পর্ক ভালো হয়েছিল। তবে ২০১৯ সালে কিম ও ট্রাম্পের মধ্যে আলোচনা ভেঙ্গে যাওয়ার পর সম্পর্কের অবনতি ঘটে।

বৃহস্পতিবার সিউলের আদালত ২০২০ সালে আন্তঃকোরিয়ান লিয়াজো অফিস উড়িয় দেওয়ার ঘটনায় উত্তর কোরিয়াকে প্রায় ৩ কোটি ২৫ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ওই কার্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল কোরিয় উপদ্বীপে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নত করার লক্ষ্যে। তবে দুই প্রতিবেশি দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ায় ভবনটি ধ্বংস করে দেওয়া হয়। এদিকে দক্ষিণ কোরিয়া এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার চেষ্টা করছে।

আমেরিকার ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যেও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং তিনবার স্পষ্ট করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে দক্ষিণ কোরিয়া কোনো সেনা মোতায়েন করবে না।

লি বলেন, বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া দরকার। এমন কোনো সেনা মোতায়েন করা হবে না, যার ফলে কোনো সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে হয়। যুদ্ধে কোনো ধরনের অংশগ্রহণ বা সম্পৃক্ততাও থাকবে না।

হরমুজ প্রণালিতে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক সম্পদ মোতায়েনের সম্ভাবনার বিরোধিতা করে দেশটির বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বিক্ষোভ হয়েছে। এর ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার দেশটির সমাজের বড় একটি অংশের বিরোধিতার মুখে পড়েছে।

লি আরও বলেন, নিজেদের বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেল পরিবহনের নৌপথ সুরক্ষায় দক্ষিণ কোরিয়া ন্যূনতম প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

সূত্র: আল জাজিরা।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading