পাচার চক্রের চার সদস্য আটক

পাচার চক্রের চার সদস্য আটক

উত্তরদক্ষিণ| মঙ্গলবার, ৩ আগস্ট ২০২১| আপডেট ১৪:১১

রাজধানীর ডেমরা, কেরানীগঞ্জ ও মানিকগঞ্জ এলাকা থেকে পাচার চক্রের চার সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাব। মঙ্গলবার (৩ আগস্ট) র‌্যাব-৩ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বীণা রাণী দাস গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

র‌্যাবের জানায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপু নামের এক দুবাই প্রবাসী যুবকের সঙ্গে বন্ধুত্ব শামীমার। চলতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে আসেন অপু। নারায়ণগঞ্জ সাইনবোর্ড এলাকায় অপুর সঙ্গে দেখা করতে যান শামীমা। সঙ্গে নিয়ে যান তার এক বান্ধবীকে। প্রথম দেখায় সেই তরুণীকে (শামীমার বান্ধবী) দুবাইয়ের একটি শপিং মলে চাকরির অফার দেন অপু।

রঙিন জগৎ আর বেশি উপার্জনের স্বপ্নে বিভোর ওই তরুণী পরিবারকে না জানিয়েই ছাড়েন দেশও। বিনাখরচে দুবাই পৌঁছে যাওয়া ওই তরুণী মূলত পড়েছেন একটি পাচার চক্রের খপ্পরে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, একজন ভুক্তভোগীর মায়ের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে র‌্যাব-৩ গতকাল সোমবার (২ আগস্ট) দুপুর হতে থেকে রাত পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়েছে।

আটককৃতরা হলেন- মোছা. শামীমা আক্তার (২১), শংকর বিশ্বাস (২৫), শেখ হানিফ মিয়া (২৮) ও মো. জুয়েল হোসাইন (২৯)। এসময় তাদের কাছ থেকে মোবাইল ও কম্পিউটার জব্দ করা হয় বলেও জানিয়েছে র‌্যাব।

জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা র‌্যাবকে জানিয়েছেন, ৫০ হাজার টাকা বেতনে দুবাই শপিংমলে চাকরির প্রলোভনে রাজি হন ওই তরুণী। তবে পরিবারের সদ্যদের কাছে বিষয়টি গোপন রাখতে বলেন অপু। এরপর ভুক্তভোগী ওই তরুণীকে গোপনে পাসপোর্ট তৈরি করে দেন তার বান্ধবী শামীমা। এরপর অপু পাচার চক্রের মূলহোতা দুবাই প্রবাসী মো. কামাল হোসাইনের (৩৮) মোবাইল নম্বর দেন ভুক্তভোগী ওই তরুণীকে।

এ পর্যায় থেকে কামাল সরাসরি নিজেই বাকী নির্দেশনা দেন ওই তরুণীকে। তিনি তাকে রাজধানীর পল্টন এলাকার মেসার্স মেহরাব এয়ার ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেলস এজেন্ট ও টিকেট ম্যানেজার শেখ হানিফ মিয়ার (২৮) সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন। কামালের কথা মতো তাকে পাসপোর্ট দেন ওই তরুণী।

মূলত হানিফ মিয়ার সঙ্গে কামাল হোসাইনের পরিচয় মো. জুয়েল হোসাইনের (২৯) মাধ্যমে। তিনি নিজেও একজন দুবাই প্রবাসী। তিনি দুজনেরই ঘনিষ্ট বন্ধু। ঘটনার সময় জুয়েলও দুবাইতে ছিলেন, ঈদুল ফিতরের ছুটি কাটাতে দেশে আসেন। এসময় কামাল জুয়েলের মাধ্যমে হানিফকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা পাঠান।

হানিফ তার কর্মচারী শংকর বিশ্বাসের মাধ্যমে তিন মাস মেয়াদি দুবাইয়ের টুরিস্ট ভিসা এবং উড়োজাহাজের টিকিটের ব্যবস্থা করে দেন। গত ৩০ এপ্রিল রাতে ভুক্তভোগী ওই তরুণী তার পরিবারকে কিছু না জানিয়ে দুবাইয়ের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন।

এরপর থেকে ভুক্তভোগী ওই তরুণীর জীবনে নেমে আসে ভয়াবহ বিভীষিকা। দুবাই বিমান বন্দরে পৌঁছলে কামাল তাকে তার বাসায় নিয়ে যান এবং পাসপোর্টটি নিয়ে রাখেন। তারপর কামাল ভুক্তভোগী ওই তরুণীকে ধর্ষণ করেন। নিজের ভুল বুঝতে পেরে মায়ের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন ওই তরুণী। আকুতি জানান তাকে উদ্ধারের। এরপর ওই তরুণীর মা যোগাযোগ করেন র‌্যাব-৩ এ।

ভুক্তভোগী ওই তরুণীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চক্রের মূলহোতা কামাল ২২ বছর ধরে দুবাইয়ে বসবাস করে। দুবাইয়ে সুমাইয়া নামে তার এক নারী সহযোগীও রয়েছেন।

তিনি জানিয়েছেন, প্রবাসী অপু প্রথমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়ের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে গড়ে তোলেন। এরপর তাদের উচ্চ বেতনে দুবাইয়ে চাকরির প্রলোভন দেখান। প্রলোভনে রাজি হলে কামাল নিজ খরচে বিভিন্ন মেয়েদের টুরিস্ট ভিসায় দুবাই নিয়ে অসামাজিক কাজ করতে বাধ্য করান।

র‌্যাব জানিয়েছে, বর্তমানে ভুক্তভোগী ওই তরুণীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না তার মা। আটককৃতদের তাদের নামে পল্টন থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading