এলিসের হ্যাট্টিকে বাংলাদেশ সংগ্রহ ১২৭ রান
উত্তরদক্ষিণ| শুক্রবার, ৬ আগস্ট ২০২১| আপডেট ২২:১৫
অভিষেক ম্যাচে হ্যাট্টিক করে সিরিজের তৃতীয় টি-টুয়েন্টিতে বাংলাদেশকে ১২৭ রানের বেশি করতে দেননি অস্ট্রেলিয়ার মিডিয়াম পেসার নাথান এলিস। এ ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১২৭ রান করে বাংলাদেশ। টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে ১৭তম, আর তৃতীয় অস্ট্রেলিয়ান হিসেবে হ্যাট্টিক করলেন এলিস।
দুই বাকী রেখেই সিরিজ নিশ্চিতের ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং বেছে নেয় বাংলাদেশ। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ম্যাচে ব্যাট হাতে এবারও ব্যর্থ হয়েছেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার মোহাম্মদ নাইম ও সৌম্য সরকার। ১৩ বল ও দলীয় ৩ রানের মধ্যে বিদায় নেন দু’জনে।
দ্বিতীয় ওভারে নাইমকে ব্যক্তিগত ১ রানে ফেরান অস্ট্রেলিয়ার পেসার জশ হ্যাজেলউড। পরের ওভারে সৌম্যকে ২ রানে আউট করেন অস্ট্রেলিয়ার স্পিনার এডাম জাম্পা। ১১ বল খেলেছেন সৌম্য।
সিরিজে ৩ ম্যাচে নাইম করেছেন ৪০ রান, আর সৌম্য করেছেন ৪ রান। ব্যর্থতার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছেন তারা। আগের দুই ম্যাচে উদ্বোধনী জুটিতে তাদের রান ছিলো যথাক্রমে ১৫ ও ৯।
শুরুর ধাক্কাটা সামলে উঠতে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের বিপক্ষে লড়াই শুরু করেন সাকিব আল হাসান ও অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। শুরুতে সাবধান ছিলেন তারা। ৭ ওভার শেষে ২ উইকেটে ৩২ রান আসে বাংলাদেশের।
অস্ট্রেলিয়ার মিডিয়াম পেসার মিচেল মার্শের করা অষ্টম ওভারে সাকিব ২টি ও মাহমুদুল্লাহ ১টি চারে ১৫ রান পায় বাংলাদেশ। তবে নবম ওভারের প্রথম বলে এই জুটিতে ভাঙ্গন ধরে। জাম্পার বলে লং-অফে অ্যাস্টন আগারকে ক্যাচ দিয়ে থামেন সাকিব। ১৭ বলে ৪টি চারে ২৬ রান করেন সাকিব। ৩৬ বলে দলকে ৪৪ রান উপহার দিয়েছিলেন সাকিব-মাহমুদুল্লাহ জুটি।
দলীয় ৪৭ রানে সাকিবের বিদায়ের পর ক্রিজে অধিনায়কের সঙ্গী হন আগের ম্যাচের হিরো আফিফ হোসেন। মারমুখী মেজাজেই শুরু করেছিলেন আফিফ। ১০ম ওভারে আগারকে মিড-উইকেট দিয়ে ছক্কা হাঁকান আফিফ। পরের ওভারে মিডিয়াম পেসার এলিসকে চারও মারেন তিনি। ফলে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেন আফিফ। কিন্তু ১২তম ওভারের শেষ বলে থামতে হয় তাকে। রান আউটের ফাঁদে পড়ে ১৩ বলে ১৯ রান করা আফিফ। চতুর্থ উইকেটে মাহমুদুল্লাহর সাথে ২২ বলে ২৯ রান যোগ করেন আফিফ।
এরপর শামিম হোসেন ও নুরুল হাসান ব্যাট হাতে সুবিধা করতে পারেননি। ৩ রান করে আউট হন শামিম। জাম্পাকে ছক্কা মারা নুরুলও রান আউট হন। ৫ বলে ১১ রান করেন তিনি। ফলে ১৬তম ওভারে ৯৭ রানে ৬ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
এ অবস্থায় এক প্রান্ত আগলে, দলের রানের চাকা সচল রেখেছিলেন মাহমুদুল্লাহ। তাকে সঙ্গ দিয়েছেন মাহেদি হাসান। অধিনায়ককে স্ট্রাইক দেয়াই মূল লক্ষ্য ছিলো তার। ইনিংসের শেষ ওভারে ৫২তম বলে বাউন্ডারির মাধ্যমে হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নেন তিনি।
তবে একই ওভারের চতুর্থ বলে আউট হন মাহমুদুল্লাহ। ৯৫ ম্যাচের ক্যারিয়ারে পঞ্চমবারের মত হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নেয়া মাহমুদুল্লাহ ৫৩ বলে ৫২ রান করেন। ৪টি চার মারেন তিনি। তার ব্যাটিং দৃঢ়তায় ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১২৭ রানের মামুলি সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের ইনিংসের শেষ ওভারের তিন বলে তিন উইকেট তুলে নিয়ে অভিষেক ম্যাচেই হ্যাট্টিকের স্বাদ পান মিডিয়াম পেসার নাথান এলিস। মাহমুদুল্লাহ, মুস্তাফিজুর ও মাহেদি হাসানকে শিকার করেন এলিস।
৪ ওভারে ৩৪ রানে ৩ উইকেট নেন এলিস। এছাড়া জশ হ্যাজেলউড ও জাম্পা ২টি করে উইকেট নেন।

