সেজান জুস কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন জমা

সেজান জুস কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন জমা
ফাইল ছবি

উত্তরদক্ষিণ| সোমবার, ৯ আগস্ট ২০২১| আপডেট ১২:১১

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের হাশেম ফুডসের সেজান জুস কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ৫১ জনের প্রাণহানির ঘটনায় জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। গতকাল রবিবার (৮ আগস্ট) রাত সাড়ে আটটার দিকে জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ্ গণমাধ্যমকে জানান, গত বৃহস্পতিবার রাতে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শামীম বেপারীর কাছ থেকে ৪৪ পৃষ্ঠার এ প্রতিবেদন পেয়েছেন।

“ওই তদন্ত প্রতিবেদনে কারখানা মালিকের বিরুদ্ধে অনিয়মসহ ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনারোধে ২০ দফা সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।” তদন্ত দল কারখানা মালিকের বিরুদ্ধে অনিয়মসহ সরকারি সংস্থার বিরুদ্ধে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন না করার প্রমাণ পেয়েছে বলে জানান তিনি।

তদন্তে কারখানা মালিকের বিরুদ্ধে বিল্ডিং কোড না মেনে ভবন নির্মাণ, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না থাকা, পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপন সরঞ্জামাদি না থাকা, শিশু শ্রমিক নিয়োগ, প্রশিক্ষিত অগ্নিনিবার্পনে জনবল না থাকা এবং ফায়ার সার্ভিসের এনওসি পাওয়া যায়নিসহ নানা অনিয়ম পাওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এছাড়া সরকারি দুটি সংস্থা শ্রম অধিদপ্তর এবং কলকারখানা এবং প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর যথাযথভাবে মনিটরিং করলে এ দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি এড়ানো যেত বলে তদন্ত দল মনে করছে।

এসব তথ্য দিয়ে জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ্ বলেন, “কারখানার নিচ তলার সেন্ট্রাল কমপ্রেসার রুমের শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। “দাহ্য পদার্থ থাকাতে আগুন দ্রুত পুরো কারখানার ভেতরে ছড়িয়ে পড়ে। আগুন লাগলে কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।”

শ্রমিকরা কারখানা ছাড়তে চাইলেও ‘চতুর্থ তলার ফ্লোরের ইনচার্জ শ্রমিকদের আগুন নিভে যাওয়া আশ্বাস দিয়ে তার রুমে নিয়ে যান’। পরে ওই কর্মকর্তাসহ শ্রমিকরা ওই রুম থেকে বের হতে পারেননি। আগুনে পুড়ে তাদের মৃত্যু হয় বলেন তিনি।

সরকারি সংস্থার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “প্রত্যেকটা ডিপার্টমেন্ট যদি তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে মনিটরিং করত, তাহলে সেখানে শিশু শ্রম থাকত না, ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোর্ডের অসঙ্গতি থাকত না, ফায়ার সেফটি ব্যবস্থা পর্যাপ্ত থাকত। সরকারি সংস্থাগুলোর তাদের মনিটরিং ঠিকঠাকভাবে করা হয়নি।”

প্রতিবেদনে সুপারিশে বলা হয়েছে, কারখানাগুলোতে শিশু শ্রম বন্ধে মনিটরিং, আগুনে পুড়ে যেসব শ্রমিক মারা গেছেন শ্রম আইন অনুসারে প্রত্যেক শ্রমিকের পরিবারকে দুই লাখ টাকা এবং যারা আহত হয়েছেন তাদের প্রত্যেককে আড়াই লাখ টাকা করে কারখানা মালিকের কাছ থেকে আদায় করে দেওয়া।

বিল্ডিং কোড মেনে কারখানা ভবন নির্মাণ, কারখানাগুলোতে পর্যাপ্ত অগ্নি নিবার্পন সরঞ্জামাদি রাখা, কারখানায় প্রশিক্ষিত অগ্নিনিবার্পন দল রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক জানান, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনটি মন্ত্রী পরিষদ সচিব, সংশ্লিষ্ট্র বিভিন্ন মন্ত্রণালয় পাঠানো হবে। ‘তারা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে’।

গত ৮ জুলাই নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের হাসেম ফুডস কারখানায় আগুনে পুড়ে ৫১ জনের মৃত্যু হয়। ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা ৪৮ ঘণ্টায় চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় রূপগঞ্জ থানার ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক নাজিম উদ্দিন বাদী হয়ে কারখানার মালিক আবুল হাসেম ও তার চার ছেলেসহ ৮ জনের নামে হত্যা মামলা করেন।

এ ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং কলকারখানা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন।

পুলিশ ওই দিন অভিযান চালিয়ে কারখানার মালিক আবুল হাসেম ও তার চার ছেলেসহ ৮ জনকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ আসামিদের দুই দিনের রিমান্ডের নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আসামিদের আদালতে হাজির করা হলে কারখানার মালিক আবুল হাসেম ও তার চার ছেলের জামিন মঞ্জুর করে আদালত।

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading