বাজারের ১৫ প্রজাতির মাছের পেটে ক্ষতিকর প্লাস্টিক কণা: গবেষণা

বাজারের ১৫ প্রজাতির মাছের পেটে ক্ষতিকর প্লাস্টিক কণা: গবেষণা

উত্তরদক্ষিণ| সোমবার, ৯ আগস্ট ২০২১| আপডেট ১৪:৩০

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের এক গবেষণায় বাজারে পাওয়া যায় এমন ১৫ প্রজাতির দেশি মাছে প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণার (মাইক্রোপ্লাস্টিক) উপস্থিতি দেখা গেছে। সম্প্রতি পরিবেশবিষয়ক আন্তর্জাতিক জার্নাল ‘সায়েন্স অব দ্য টোটাল ইনভায়রনমেন্টে’ এ বিষয়ে একটি গবেষণপত্র প্রকাশিত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকোত্তর পর্বের শিক্ষার্থী সুমাইয়া জান্নাত এ গবেষণাটি পরিচালনা করেন। গবেষণার তত্ত্বাবধানে ছিলেন বিভাগের অধ্যাপক শফি মুহাম্মদ তারেক ও সহযোগী অধ্যাপক ফাহমিদা পারভিন।

গবেষণায় জানা যায়, দেশি ১৫ প্রজাতির মাছে প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণা (মাইক্রোপ্লাস্টিক) পাওয়া গেছে। সেগুলো হলো- কালবাউশ, বেলে, টেংরা, কই, বাটা, রুই, তেলাপিয়া, কমন কার্প, পাবদা, পুটি, রয়না, শিলং, বাইন, টাটকিনি ও বাছা। এর মধ্যে টেংরা, টাটকিনি ও রয়না মাছে প্লাস্টিকের পরিমাণ বেশি।

মাছে প্লাস্টিক পলিমার হাই ডেনসিটি পলিথিলিন, পলিপ্রপিলিন পলিথিলিন কপোলিমার ও ইথিলিন ভিনাইল এসিটেটের উপস্থিতি প্রমাণিত হয়েছে। এসব প্লাস্টিক পলিমার দৈনন্দিন ব্যবহৃত প্লাস্টিকের বিভিন্ন বোতল, প্লাস্টিকের ব্যাগ, কনটেইনার, প্লাস্টিক ও ফোমের জুতা এবং মোড়ক ইত্যাদি থেকে পরিবেশে প্রবেশ করে।

এতে আরও জানা যায়, মাছের পেটে উপস্থিত প্লাস্টিক কণা সরাসরি খাদ্যের সঙ্গে মানুষের দেহে প্রবেশ করে না। তবে এগুলো থেকে নিঃসৃত বিষাক্ত রাসায়নিক মাছের দেহে জমা হয়। পরে এসব মাছ খাবার হিসেবে গ্রহণ করলে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়।

গবেষণার বিষয়ে সুমাইয়া জান্নাত বলেন, স্নাতকোত্তরের থিসিসের কাজে ১৮ প্রজাতির দেশি মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিকের প্রভাব নিয়ে অনুসন্ধান করি। এসব মাছের মধ্যে ১৫ প্রজাতির পরিপাকতন্ত্রে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। মাছগুলো সাধারণত কৃত্রিম উপায়ে মিষ্টি পানির জলাধারে চাষ করা হয়। পরীক্ষাকৃত মাছগুলোর ৭৩.৩ শতাংশতে প্লাস্টিকের কণা পাওয়া গেছে। গবেষণার মাছগুলো সাভার ও আশুলিয়া বাজার থেকে সংগ্রহ করা হয়।

সহযোগী অধ্যাপক ফাহমিদা পারভিন গণমাধ্যমকে বলেন, ১৮ প্রজাতির মাছের মধ্যে ১৫ প্রজাতির মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি দেখা গেছে। বাকি তিন প্রজাতি ফলি, শিং ও গুলশা মাছে প্লাস্টিকের কণা পাওয়া যায়নি। যেসব মাছ পানির সবচেয়ে নিচের স্তরে বাস করে, তাদের মধ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি বেশি। বাংলাদেশের জলাধারগুলোতে প্লাস্টিক বর্জ্যসহ বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য ফেলা হয়। সেখান থেকেই মাছের মতো জলজ প্রাণী দূষিত খাদ্য গ্রহণ করে। এই মাইক্রোপ্লাস্টিক মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক। সুত্র: বাংলা ট্রিবিউন

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading