ডিজিটাল বুথ খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি

ডিজিটাল বুথ খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি

উত্তরদক্ষিণ| বৃহস্পতিবার, ২৬ আগস্ট ২০২১| আপডেট ১৩:৪০

বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার সপ্নকে বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেশের দুই পুঁজিবাজারও ডিজিটালাইজেশন করার চেষ্টা করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এরই ধারাবাহিকতায় পুঁজিজারের পরিধি বাড়ানো ও বিনিয়োগ আকৃষ্টে দেশের অভ্যন্তরে এবং বিদেশে ‘ডিজিটাল বুথ’খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি)। তারই ধারাহিকতায় ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্যভুক্ত ব্রোকারেজ হাউজগুলোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে, সক্ষমতা যাচাই সাপেক্ষে দেশে ও বিদেশে ডিজিটাল বুথ খোলার অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে।

ডিএসই ও সিএসই সদস্যভুক্ত ১০টি ব্রোকারেজ হাউজকে এই পর্যন্ত মোট ২৮টি ডিজিটাল বুথ খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বিদেশে ২টি ও দেশের অভ্যন্তরে ২৬টি ডিজিটাল বুথ রয়েছে বলে বিএসইসি জানিয়েছে। ডিজিটাল বুথ খোলার অনুমোদন পাওয়া ব্রোকারেজ হাউজগুলো হলো—আইল্যান্ড সিকিউরিটিজ, ইউসিবি স্টক ব্রোকারেজ, পদ্মা ব্যাংক সিকিউরিটিজ, ইউনাইটেড ফাইন্যান্স অ্যান্ড ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেড, বি রিচ, কবির সিকিউরিটিজ, রয়েল ক্যাপিটাল, গ্রিন ডেলটা সিকিউরিটিজ, ফখরুল ইসলাম সিকিউরিটিজ এবং স্কয়ার সিকিউরিটিজ লিমিটেড।

বাজার সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, ডিজিটাল বুথ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল এবং বিদেশে খোলার ফলে স্থানীয়, প্রবাসী ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে আগ্রহ বাড়বে। পুঁজিবাজার সম্পর্কে গ্রামগঞ্জের মানুষও জানতে পারবে। এতে সকল শ্রেণীর মানুষ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে আগ্রহী হবে। এতে করে পুঁজিবাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। সর্বোপরি নিবাসী ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ বাড়লে পুঁজিবাজার আরও উন্নত হবে।

অনুমোদন পাওয়া ডিজিটাল বুথগুলোর মধ্যে আইল্যান্ড সিকিউরিটিজের ১০টি, ইউসিবি স্টক ব্রোকারেজের ৫টি, পদ্মা ব্যাংক সিকিউরিটিজের ১টি, ইউনাইটেড ফাইন্যান্স অ্যান্ড ট্রেডিং কোম্পানির ১টি, বি রিচ এর ৩টি, কবির সিকিউরিটিজের ২টি, রয়েল ক্যাপিটালের ১টি, গ্রিন ডেলটা সিকিউরিটিজের ১টি, ফখরুল ইসলাম সিকিউরিটিজের ১টি এবং স্কয়ার সিকিউরিটিজের ১টি।

ব্রোকারেজ হাউজগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ডিজিটাল বুথ খোলার অনুমোদন পেয়েছে আইল্যান্ড সিকিউরিটিজ। প্রতিষ্ঠানটি মোট ১০টি ডিজিটাল বুথের অনুমোদন পেয়েছে। এই ১০টি বুথের মধ্যে ভোলায় ১টি, রাঙামাটিতে ১টি, সাতক্ষীরায় ১টি, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১টি, হাজীগঞ্জে ১টি, সিরাজগঞ্জে ২টি, ফটিকছড়িতে ১টি, কক্সবাজারে ১টি এবং লক্ষীপুরে ১টি ডিজিটাল বুথ খুলবে।

ডিজিটাল বুথ খোলায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইউসিবি স্টক ব্রোকারেজ। প্রতিষ্ঠানটি মোট ৫টি বুথ খোলার অনুমোতি পেয়েছে। এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত দুবাই ১টি, চট্টগামের খাতুনগঞ্জে ২টি, খুলনায় ১টি এবং বরিশালে ১টি।

ইউনাইটেড ফাইন্যান্স অ্যান্ড ট্রেডিং কোম্পানি ও বি রিচ কোম্পানি ৩টি করে বুথ খোলার অনুমোদন পেয়েছে। এর মধ্যে ইউনাইটেড ফাইন্যান্স অ্যান্ড ট্রেডিং কোম্পানি দেশের অভ্যন্তরে রংপুর, সিরাজগঞ্জ ও গাজীপুরে এই বুথ খোলার অনুমোদন পেয়েছে। আর বি রিচ চট্টগ্রামের সন্দীপ, নোয়াখালীর সুন্দরপুর ও সিলেটের দক্ষিণ ধোপার দিঘীর পাড়ে ডিজিটাল বুথ খুলবে।

স্কয়ার সিকিউরিটিজের সিইও আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের জানান, ‘স্কয়ার সিকিউরিটিজ প্রথমবারের মতো ডিজিটাল বুথের অনুমোদন পাওয়ায় অনেক ভালো লাগছে। এই প্রক্রিয়া পুঁজিবাজারকে আরও বেশি এগিয়ে নিতে অনেক বেশি সহায়তা করবে। যদি এই বুথের মাধ্যমে আমরা ভালো সাড়া পাই তাহলে আরও বুথের জন্য আবেদন করবো।

গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম স্বাক্ষরিত ডিজিটাল বুথ খোলার নির্দেশনায় উল্লেখ করেন, স্টক এক্সচেঞ্জের সম্মতিক্রমে যেকোনো স্টক ব্রোকার ডিজিটাল বুথের জন্য কমিশনে আবেদন করতে পারবে। সিটি করপোরেশনের মধ্যে, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ ছাড়াও দেশের বাইরেও ডিজিটাল বুথ স্থাপন করা যাবে। তবে ওই বুথ স্টক ব্রোকারের প্রধান অফিস দ্ধারা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। কোনো ধরনের তৃতীয়পক্ষ দ্ধারা পরিচালনা করা যাবে না।

Taanjin

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading