১৮ মাস পর স্কুল-কলেজ খুলছে আজ: সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যবিধিতেই দৃষ্টি

১৮ মাস পর স্কুল-কলেজ খুলছে আজ: সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যবিধিতেই দৃষ্টি

আসাদুজ্জামান সুপ্ত | রবিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২১| আপডেট ১৩:৩৯

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কবে খুলবে? এমন প্রশ্নে জর্জরিত ছিল সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তাগণ। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ঠিক তারপরই স্কুল-কলেজ খোলার তারিখ ঘোষণা করা হয়। আজ রবিবার (১২ সেপ্টেম্বর) থেকে টানা ১৮ মাসের পর তালা খোলা হচ্ছে দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের। স্বাস্থ্যবিধি ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে সরাসরি শ্রেণি পাঠদানে অংশ নেবে শিক্ষার্থীরা। নির্দেশনা অনুযায়ী গত ৯ সেপ্টেম্বরই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খোলার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত করা হয়।

তবে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শ্রেণি কার্যকম শুরুর আগে গতকাল শনিবার (১১ সেপ্টেম্বর) শিক্ষামন্ত্রী ড. দীপু মনি আরও একবার স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়লে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হবে। শিক্ষক ও অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী। এর আগে গত শুক্রবার (১০ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্যমন্ত্রীও একই কথা জানিয়েছিলেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শ্রেণি কার্যক্রম শুরুর আগে শ্রেণি কক্ষে শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে প্রস্তুত করা এবং কোভিড-১৯ সচেতনতা বিষয়ে শ্রেণি শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে প্রস্তুত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন শ্রেণি শিক্ষকরা। রুটিন নির্ধারিত থাকলেও প্রথম চারদিন শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করবেন শিক্ষকরা।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার উদ্যোগ ঠিকই আছে মন্তব্য করে অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ এগুলো আগে খুললে ভালো ছিল। অবস্থার উন্নতি হলে পর্যায়ক্রমে সাধারণ কলেজ, হাই স্কুল, প্রাইমারির খুলে দেওয়া যেত। কারণ, বড়রা যতটা বুঝবে, ছোটরা ততটা বুঝবে না। তবে যেহেতু সরকার সব খুলেই দিল, এখন শিশু শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধির ওপর নজর দিতে হবে। বিশেষ করে অভিভাবকদের এক্ষেত্রে দায়িত্ব অনেক। আর স্কুল কর্তৃপক্ষ দেখবে, তারা মাস্ক পড়লো কিনা, হাত ধোয়ার জন্য স্কুলের চারপাশে ব্যবস্থা করতে হবে , চেষ্টা করতে হবে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য।
অধ্যাপক আব্দুল্লাহ বলেন, এখানে স্কুল কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি। ছোটদের স্বাস্থ্যবিধি মানানোর বিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষকে খেয়াল রাখতে হবে, সচেতন হতে হবে এবং কঠোর হতে হবে।

সেইসঙ্গে স্কুলে জ্বর মাপার জন্য ব্যবস্থা রাখতে হবে, আইসোলেশন কক্ষ রাখতে হবে। আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার পর যদি সংক্রমণের হার বেড়ে যায়, তাহলে স্কুল-কলেজ সব বন্ধ করে দিতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার পর সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে মন্তব্য করে অধ্যাপক আব্দুল্লাহ বলেন, কেউ গ্যারান্টি দিতে পারে না। অনেক দেশেই স্কুল খুলেছে, কিন্তু পরে তারা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে-আমাদেরও সে প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে।

এদিকে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক বলেছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পর শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে বসে টিফিন খেতে পারবে না। একই সঙ্গে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অভিভাবকদের ভিড় না করার অনুরোধ করছি। গতকাল শনিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের অভিভাবক ছাউনি উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক আরও বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বসে ছাত্র ছাত্রীরা কোনো টিফিন খেতে পারবে না। বাসা থেকে টিফিন খেয়ে আসতে হবে। প্রতিষ্ঠান শুধুমাত্র খাবার পানি সরবরাহ করবে।
মাউশি মহাপরিচালক অভিভাবকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের প্রবেশের সময় ভিড় এড়িয়ে চলতে হবে। এক্ষেত্রে অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

শিক্ষার্থী কিংবা পরিবারের কেউ অসুস্থ বা করোনার উপসর্গ থাকলে তাকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে না পাঠাতে অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি। এছাড়া শিক্ষার্থীদের মাস্ক পরিধান ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়গুলো নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান মাউশি মহাপরিচালক।

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading