বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট: দলে দলে জোট ত্যাগ

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট: দলে দলে জোট ত্যাগ

উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২১ । আপডেট ১৩:০৫

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের ভাঙন থামছেই না। সবশেষ গত শুক্রবার (১ অক্টোবর) জোট ছেড়েছে খেলাফত মজলিস। তাতে, ২০১৪ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত জোট ত্যাগ করা দলের সংখ্যা দাঁড়াল হাফ ডজনেরও বেশি । জোট ভাঙার কারন হিসেবে শরিক দলগুলোর বক্তব্য মূল্যায়নের ঘাটতি, ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচির বেহাল দশা, পরামর্শবিহীন গুরুত্বপূর্ণ
সিদ্ধান্ত গ্রহণ ইত্যাদি। ২০ দলীয় জোটের দলে দলে ভাঙন নিয়ে বিনয় দাস-এর প্রতিবেদন…

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনই কী কাল হতে যাচ্ছে বিএনপির জন্য? কেননা ধীরে ধীরে তাদের নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের ভাঙন বেড়েই চলেছে। গত ৭ বছরে জোট ত্যাগ করা শরিক দলের সংখ্যাটা হাফ ডজন ছাড়িয়েছে। চলতি মাসের ১ তারিখ খেলাফত মজলিস এর সবশেষ সংযোজন। অথচ বিএনপির জন্য ২০ দলীয় জোট ছিল মাঠের রাজনীতির সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের পর ২০ দলীয় জোটকে নিয়ে আলাদাভাবে সময় দেয়নি বিএনপি। আর তাতেই ক্ষুব্ধ শরিক দলগুলো তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে বাধ্য হচ্ছে। তবে বিএনপি এমন অভিযোগ মানতে নারাজ। তারা সরকারের চাপ ও শরিক দলগুলোর আস্থাহীনতাকেই কারন হিসেবে দেখছেন।

২০ দলীয় জোটের শুরুটা হয় ১৯৯৯ সালে। ওই বছরের ৬ জানুয়ারি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, জামায়াতের তৎকালীন আমির গোলাম আযম এবং ইসলামী ঐক্যজোটের তৎকালীন চেয়ারম্যান শায়খুল হাদিস আজিজুল হককে সঙ্গে নিয়ে চারদলীয় জোট গঠনের ঘোষণা দেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল তা বেড়ে আÍপ্রকাশ ঘটে ১৮ দলীয় জোটের। পরবর্তীতে জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) ও সাম্যবাদী দল যোগ দিলে তা ২০ দলীয় জোটে পরিণত হয়।

এর ঠিক দুবছর পরই প্রথমবারের মতো ভাঙনের দেখা দেয় জোট থেকে। ২০১৪ সালে জোট ত্যাগ করে শেখ শওকত হোসেন নীলুর নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি)। দলটির মূল অভিযোগ ছিল ২০ দলের জোটে বিএনপি-জামায়াত সব সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতো। যদিও এই দলটির একটি অংশ জোটে থেকে যায়। মাঝখানে দুবছর ঠিকঠাক কাটলেও ২০১৬ সালে এসে আবারও জোটে ছেদ পড়ে। বিএনপির সঙ্গে প্রায় দুই যুগের সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে ইসলামী ঐক্যজোট। তাদের অভিযোগ ছিল শরিকদের সঠিক মূল্যায়ন না করা। ২০১৮ সালে বিএনপি যখন জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া, জেএসডি ও নাগরিক ঐক্যের সমন্বয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আÍপ্রকাশ ঘটায় তখন আবারও ভাঙনের মুখে পড়ে ২০ দলীয় জোট। ওই বছরের ১৬ অক্টোবর জেবেল রহমান গানির নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ ও খন্দকার গোলাম মোর্তুজা নেতৃত্বাধীন এনডিপি জোট ত্যাগ করে। ওই বছরই নির্বাচনের পর জোট ছাড়ে আন্দালিভ রহমান পার্থের দল বিজেপি।

শরিক এই দলগুলোর বক্তব্য বেগম জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের মধ্য দিয়ে ২০ দলীয় জোটকে অকার্যকর করা হয়েছে। এখন এই জোটের আবেদন চলে গেছে। বিজেপির মতে ২০১৮ সালে বেগম খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার পর থেকে ২০ দলীয় জোট স্থবির হয়ে পড়েছিল। এরপর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করার পর ২০ দলীয় জোটের শরিকদের মূল্যায়ন অনেকাংশে কমে গেছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের মধ্যে ব্যালেন্স করতে পারেনি বিএনপি। এছাড়া চলতি বছরের ১৪ জুলাই জোট ত্যাগ করে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম। তাদের অভিযোগ ছিল জোটের শরিক দলের যথাযথ মূল্যায়ন না করা, শরিকদের সঙ্গে পরামর্শ না করেই উপনির্বাচন এককভাবে বর্জন করা ইত্যাদি।

যদিও জোটের নেতৃত্বে থাকা বিএনপি মনে করছে যেকোনও রাজনৈতিক দলই তাদের মতো সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার রাখে। এছাড়া, বিএনপির কোনও কোনও নেতা মনে করছেন ‘সরাসরি সরকারের চাপ প্রয়োগের কারণেই জোট ত্যাগের ঘটনা ঘটছে’। দলটির দায়িত্বশীল সূত্রের ভাষ্য, জোটগত রাজনীতির প্রয়োজন ফুরিয়ে না গেলেও এতে নতুনত্ব আনার পক্ষে তারা।

সবশেষ চলতি মাসের ১ তারিখ খেলাফত মজলিস এর জোট ছাড়ার প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণমাধ্যমকে বলেছেন, সরকারের চাপেই তারা জোট ছেড়েছে। আমরা মনে করি, সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে অনৈক্য সৃষ্টির চেষ্টা করছে, এটা তারই অংশ। যদিও জোট ছাড়ার কারণ হিসেবে খেলাফত মজলিস ২০১৯ সাল থেকে জোটের দৃশ্যমান তৎপরতা ও কর্মসূচি না থাকা এবং ২০১৮ সালে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের মধ্য দিয়ে ২০-দলীয় জোটকে অকার্যকর করার অভিযোগ করেছে। এ নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলামের ভাষ্য তারা তো জোটের অংশ। তাহলে তারা কেন কাজ করেনি। জোটে আমরাও (বিএনপি) একটি পার্টি, তারাও একটি পার্টি। এখানে সবারই কাজ করার অধিকার রয়েছে। নিস্কি কারণে তারা জোট ছাড়ছে, এটি কোনো কারণ হতে পারে না।

তবে, বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা এখন জোটের ভাঙন নিয়ে না ভেবে যুগপৎ আন্দোলনের কথা ভাবছেন বলে জানিয়েছেন। এই সময়ে তাদের লক্ষ্য বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা।

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading