চোরাই সোনা উদ্ধারে বিমানের সহযোগিতা মেলে না: শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর
উত্তরদক্ষিণ| বুধবার, ৬ অক্টোবর ২০২১| আপডেট ১৮:২০
চোরাই সোনা উদ্ধারের অভিযানে বিমানের কাছ থেকে সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রউফ।
বিমানের দুবাই ফ্লাইট থেকে সোনার বড় একটি চালান আটকের পরদিন বুধবার ঢাকার কাকরাইলে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসে এই অভিযো্গ করেন তিনি।
শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের প্রধানের এই অভিযোগের বিষয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিমানের কোনো প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। দুবাই থেকে মঙ্গলবার আসা বিমানের ফ্লাইটে ১২০টি সোনার বার পেয়েছে শুল্ক গোয়েন্দারা। এর মূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা।
রউফ বলেন, বিমানের ‘বডি’তে কয়েকটি স্পর্শকাতর জায়গায় ‘স্ক্রু’ দিয়ে খুলে চোরাচালান পণ্য ঢুকিয়ে রাখা হয় জানি
“১২০টি স্বর্ণের বার উদ্ধারের সময় বিমান কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছিলাম কয়েকটি সেনসেটিভ প্লেস খুলে দিতে, তারা দেয়নি। তারা বলে- টেকনিশিয়ান নেই, চিঠি লিখতে হবে, চিঠি দেন।”
“খুব ভালো সহযোগিতা বিমান কর্তৃপক্ষের কাছে পেয়েছি বলে বলতে পারব না,” বলেন শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।
সোনার বারগুলো বিমানের টয়লেটে টিস্যুবক্স রাখার চেম্বারের নিচে প্রকোষ্ঠে এবং ব্যবহৃত টিস্যু রাখার জায়গায় কালো স্কচটেপে মুড়িয়ে রাখা ছিল। প্রায় ১৪ কেজি ওজনের এই বারগুলো ছয়টি বান্ডেলে ছিল।
রউফ বলেন, “ধারণা করা হচ্ছে, বিমানে যাত্রী উঠার আগে এসব রাখা হয়।”
সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, সোনা উদ্ধারের সময় বিমানের কেউ ছিল না। বিমানের কাউকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। বিমানও জব্দ করা হয়নি। থানায় মামলা হয়েছে, তারা তদন্ত করবে, বলেন তিনি।
বিমানের কোনো ক্রুকে গ্রেপ্তার না করা বা বিমান জব্দ না করার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রউফ বলেন, “গ্রেপ্তার বা বিমান জব্দ করতে পারলে ভালোই হত।” তবে জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিবেচনায় তেমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিমান পথে অবৈধভাবে আসা ৪০ কেজি সোনা উদ্ধার করা হয়েছে। গত অর্থ বছরে ১৭৪ কেজি এবং এর আগের অর্থ বছরে ১৮০ কেজি চোরাই সোনা উদ্ধার উদ্ধার করা হয়।
ইদানিং সোনা চোরাচালান বেড়েছে মন্তব্য করে মহাপরিচালক রউফ জানান, বৈধভাবে দুটি সোনার বার আনা লোকের সংখ্যাও বেড়েছে।

