নিরাপদ খাদ্য ও পুষ্টি চাহিদা নিশ্চিতে গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর

নিরাপদ খাদ্য ও পুষ্টি চাহিদা নিশ্চিতে গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর

উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১ । আপডেট ১৫:১৫

খাদ্য অপচয় রোধ এবং নিরাপদ খাদ্য ও পুষ্টি চাহিদা নিশ্চিতে গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সরকার কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নের গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে জানিয়ে তিনি প্রতিটি ইঞ্চি জমি আবাদি করার আহ্বান জানান। শনিবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বিশ্ব খাদ্য দিবস-২০২১’ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিরাপদ খাদ্য ও পুষ্টির নিশ্চয়তা এবং শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ মৌলিক চাহিদা পূরণ করা সরকারের লক্ষ্য। এক ইঞ্চি জমিও যাতে অনাবাদী না থাকে। কারণ অনেক দেশেই এখন খাদ্যের অভাব। দেশের মাটি আছে, মানুষ আছে। আমরা যেনো খাদ‌্য অভাবে না ভুগি। বাংলাদেশে আর যেনো কোনো দুর্ভিক্ষ না হতে পারে এবং কেউ যেন চক্রান্ত করে দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি করতে না পারে, সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে। আমরা খাদ‌্য নিরাপত্তা ও খাদ‌্য চাহিদা পূরণ করে যাবো। হতদরিত্রের বিনামূল্যে খাদ‌্য দিয়ে তাদের খাদ‌্য চাহিদা পূরণ করবো।

নিরাপদ খাদ‌্য ও পুষ্টি চাহিদা পূরণে সকলকে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, খাদ‌্যে অপচয় কমাতে হবে। সারাবিশ্বের এক দিকে কিন্তু প্রচুর খাদ‌্য অভাব আবার অন‌্য দিকে প্রচুর খাদ‌্য অপচয় হয়। সেজন‌্য অতিরিক্ত যে খাদ‌্য থাকে তা পুনঃব‌্যবহার করা যায় কিভাবে সেই বিষয়টি আমাদের চিন্তা করতে হবে।

এ সময় কৃষিতে গুরুত্ব দেয়া এবং কৃষির উন্নয়নে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত রাষ্ট্র। গোলায় কোনো খাদ‌্য শস্য নেই। একটি ধ্বংস অর্থনীতি। সেই ধংসযজ্ঞ থেকে তিনি দেশকে গড়ে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন। বাংলাদেশের এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদি রাখা যাবে না বলে আহ্বান জানিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। কৃষিতে তিনি সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখেন।

খাদ‌্য উৎপাদনে বাংলাদেশে উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ধান উৎপাদনে বাংলাদেশ ৩য়, শাকসবজি উৎপাদনে ৩য়, চা উৎপাদনে চতুর্থ, আলু ও আম উৎপাদনে সপ্তম, পেয়ারা উৎপাদনে ৮ম, অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মাছ উৎপাদনে তৃতীয় এবং ইলিশ উৎপাদনে ১ম।

এ সময় কৃষি গবেষক ও কৃষকের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০০৯ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে চালের উৎপাদন প্রবৃদ্ধি ১৭ ভাগ, গমের ২১ ভাগ, ভুট্টা ৬৪০ ভাগ, আলু ৯৬, ডালে ৪৪৩ ভাগ, থৈলবীজে ৭৫ ভাগ, সবজির ক্ষেত্রে ৫৩৪ ভাগ এবং পিয়াজের ক্ষেত্রে ২৪৮ ভাগ।

কৃষি যাতে পিছিয়ে না থেকে সেই জন্য সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। ভেজাল খাদ‌্য প্রতিরোধে তার সরকারের নেয়া কঠোর পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

এ সময় তিনি বলেন, বিএনপি আমলে ১৮ জন কৃষকদের হত্যা করেছিলো। বিদ্যুতের জন্য যখন আন্দোলন করেছিলো চাঁপাইনবাবগঞ্জে গুলি করে ৮ জন মানুষকে হত‌্যা করেছিলো। এভাবে উন্নয়ন যাত্রাকে তারা বারবার ব্যাহত করতে চেয়েছিলো। এটা আমাদের জন‌্য দুর্ভাগ্যের বিষয়।

খাবারের সাথে সাথে পুষ্টি দরকার এ জন‌্য সরকার সব ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমিষের উৎপাদন বৃদ্ধিতে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। সঙ্গে মাংস-ডিম এগুলো উৎপাদন বাড়ছে। খাবারে বাংলাদেশে কোনও অভাব থাকবে না মন্তব্য করে তিনি গবেষণা বাড়ানোর ওপর জোর দেন, যাতে পণ্য উৎপাদন ক্রমান্বয়ে বাড়ে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০১ সালে গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দেইনি বলে ক্ষমতায় আসতে দেওয়া হয়নি। দেশ বিক্রি করে তো আমি ক্ষমতায় আসবো না, এটাই বাস্তব। বৃহৎ দুটি দেশ আর প্রতিবেশী দেশের চাহিদা পূরণ করতে পারিনি।

প্রধানমন্ত্রী ‘বিশ্ব খাদ্য দিবস-২০২১’ উপলক্ষ্যে গৃহীত সকল কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন।

এদিকে বিশ্ব খাদ্য দিবস ২০২১ উদযাপন উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার ঢাকার ফার্মগেটে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) মিলনায়তনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক খাদ্য দিবসের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

কৃষি মন্ত্রণালয় এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে সভাপতিত্ব করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম ও গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য রাখেন এফএও’র বাংলাদেশ প্রতিনিধি রবার্ট ডি. সিম্পসন। এ সময় কৃষি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ ও সংস্থা প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, করোনাকালে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী কৃষি মন্ত্রণালয় সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ ও তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। ফলে করোনাকালেও দেশে খাদ্য উৎপাদনের ধারা অব্যাহত রয়েছে ও তা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে রেকর্ড পরিমান বোরো উৎপাদন হয়েছে ২ কোটি টনেরও বেশি, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। গত বছরের তুলনায় এ বছর সকল ফসলের উৎপাদনই বেশি হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে জানান হয়, দিবসটির গুরুত্ব তুলে ধরতে কৃষি মন্ত্রণালয় বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। দিবসের প্রথম ভাগে সকালে ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে প্রতিপাদ্যের উপর একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। এ সেমিনারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ স্মরণীয় করে রাখার জন্য কৃষি মন্ত্রণালয় বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। তার অংশ হিসেবে এ সেমিনারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) প্রকাশিত বইয়ের মোড়ক উন্মোচন এবং বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবিত ‘বঙ্গবন্ধু ধান ১০০ অবমুক্ত করবেন। এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী ‘বঙ্গবন্ধু ধান ১০০ দিয়ে নির্মিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি উন্মোচন করবেন।

অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে আন্তর্জাতিক সেমিনারের পর বিকালে খাদ্য নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় করণীয় নিয়ে একটি কারিগরি সেশন অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে কৃষিমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন। সেখানে দেশে বিদেশের কৃষি ও খাদ্য বিষয়ে প্রথিতযশা বিশেষজ্ঞগণ অংশগ্রহণ করবেন।

Asadujjaman

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading