সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনায় ৩১ কবি-সাহিত্যিকের উদ্বেগ
উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১ । আপডেট ২৩:৫০
দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, চাঁদপুর ও নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ৩১ জন লেখক, কবি ও সাহিত্যিক। পাশাপাশি তারা কিছু প্রস্তাব দিয়েছেন। শনিবার (১৬ অক্টোবর) কবি শাহেদ কায়েসের পাঠানোর এক বার্তায় এ উদ্বেগের কথা জানানো হয়।
বার্তায় বলা হয়, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, চাঁদপুর ও নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ঘটেছে, তা এক কথায় নজিরবিহীন ও নিন্দনীয়। এই ভয়াবহ অমানবিক ঘটনায় আমরা ভীষণ ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত। কুমিল্লার একটি পূজামণ্ডপে ‘কোরান রাখার’ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সহিংসতা ঘটার পর প্রশাসন আরও সতর্ক হলে হাজীগঞ্জসহ অন্যত্র এর পুনরাবৃত্তি ঘটতো না।
বার্তায় আরও বলা হয়, ‘কোরান অবমাননার’ ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত বলে আমাদের সন্দেহ। কোনো সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী রাজনৈতিক সুবিধা হাসিলের জন্য এই ঘটনা সাজিয়ে থাকতে পারে। ঘটনা সাজিয়ে তারা সহিংসতার ক্ষেত্র তৈরি করেছে। কিছু মানুষ ষড়যন্ত্রীদের পাতা ফাঁদে পা দিয়েছে। জনগণ সচেতন হলে ষড়যন্ত্রকারীরা কোনোভাবেই সফল হতে পারত না। জনগণকে সচেতন করা, তাদের মননকে অসাম্প্রদায়িক হিসেবে গড়ে তোলার দায় রাষ্ট্রের। কুমিল্লার ঘটনায় আমরা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছি। তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
দুর্গাপূজায় সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বার্তায় বলা হয়, এবারের দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে এমন সহিংসতায় আমরা উদ্বিগ্ন। এই সাম্প্রদায়িক সহিংসতা রোধ করা আবশ্যক। এ ব্যাপারে আমরা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে উদ্যোগ প্রত্যাশা করছি। সাম্প্রদায়িকতা একটি জাতীয় সমস্যা। এই সমস্যা নিরসনে ধারাবাহিক জাতীয় সংলাপের আয়োজন করা যেতে পারে। দেশের শিক্ষাবিদ, লেখক, কবি, বুদ্ধিজীবী, ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক, আলেম, পুরোহিতসহ সব ধর্মের নেতাদের নিয়ে, সর্বস্তরের জনগণকে সম্পৃক্ত করে, আলোচনা করে এই সাম্প্রদায়িক সহিংসতার মূল চিহ্নিত করা যেতে পারে। আমরা এমন একটি জাতীয় সংলাপ কামনা করি, যার মধ্য দিয়ে যে সিদ্ধান্ত আসবে সে অনুযায়ী রাষ্ট্র ব্যবস্থা নেবে।
বিবৃতিদাতা লেখকরা হচ্ছেন
ইমতিয়ার শামীম
শাহনাজ মুন্নী
আহমাদ মোস্তফা কামাল
কবির হুমায়ূন
শামীম রেজা
আলফ্রেড খোকন
চঞ্চল আশরাফ
টোকন ঠাকুর
রাজীব নূর
শাহেদ কায়েস
শোয়াইব জিবরান
ওবায়েদ আকাশ
জোবায়দা নাসরিন
রুমা মোদক
পাপড়ি রহমান
লোপা মমতাজ
ভাগ্যধন বড়ুয়া
হেনরী স্বপন
সাইমন জাকারিয়া
আফরোজা সোমা
রেজা ঘটক
মতিন রায়হান
বিধান রিবেরু
মোজাফফর হোসেন
পিয়াস মজিদ
মামুন খান
মনিরুজ্জামান মিন্টু
অঞ্জন আচার্য
অরবিন্দ চক্রবর্তী
সরকার আমিন
স্বকৃত নোমান

