পবিত্র কোরআন অবমাননা ও মন্দির-প্রতিমা ভাঙচুর, কোনভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়: সাম্প্রদায়িকতা নয় সম্প্রীতির বাংলাদেশ

পবিত্র কোরআন অবমাননা ও মন্দির-প্রতিমা ভাঙচুর, কোনভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়: সাম্প্রদায়িকতা নয় সম্প্রীতির বাংলাদেশ

উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১ । আপডেট ১৩:২৫

অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিশ্বাস থেকেই জš§ হয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশের। এই দেশে সকল ধর্ম, বর্ণের মানুষ মিলেমিশে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছে। তবে এরইমাঝে ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করা একটি কুচক্রীমহল ধর্মীয় বিদ্বেষ সৃষ্টি করে
অশান্তির পাঁয়তারা করে আসছে। সম্প্রতি কুমিল্লার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের অস্থিতিশীল পরিবেশ এরই অংশবিশেষ।
তবে বিশ্ব দরবারে দেশের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে সরকারও এই বিষয়ে সর্বোচ্চ দৃষ্টি রাখছে।
বিস্তারিত মির্জা মমতাজ উদ্দিন-এর প্রতিবেদনে…

বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম মূলনীতি হচ্ছে ধর্মনিরপেক্ষতা। বাঙালির রক্তেও মিশে আছে অসাম্প্রদায়িক চেতনা। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল বৃদ্ধির অন্যতম হাতিয়ার ছিল তখনকার স্লোগানগুলো। যেখানে অন্যতম পাথেয় হিসেবে কাজ করেছে ‘বাংলার হিন্দু, বাংলার খ্রীস্টান, বৌদ্ধ, বাংলার মুসলমান; আমরা সবাই বাঙালি’। আর এর মধ্য দিয়েই ফুঁটে ওঠে বাঙালির চেতনা।

সম্প্রতি কুমিল্লার একটি পূজা মণ্ডপে ‘কোরআন অবমাননা’-য় সৃষ্ট অনাকাঙ্খিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সারাদেশের বিভিন্ন পূজা মণ্ডপে হামলা, ভাঙচুরের ঘটনা এই চেতনার বুকে দিয়েছে কালিমার লেপন। অথচ, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এই দেশে হিন্দু ধর্মালম্বীসহ অন্যান্য ধর্মালম্বীদের সহাবস্থান সম্প্রীতির সেতুবন্ধনকে করেছে শক্তিশালী। কুমিল্লার পূজামণ্ডপের ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি গোষ্ঠীর সাম্প্রদায়িক হিংসা ছড়ানোর চেষ্টার ফসল হচ্ছে দেশের অন্যান্য স্থানে পূজা মণ্ডপে আক্রমণ ও ভাঙচুর। এ ঘটনার আইনি প্রতিকার চাওয়ার আগেই একটি গোষ্ঠী কর্তৃক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালিয়ে ধর্মীয় উস্কানি প্রদান এবং প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা সংখ্যালঘুবিদ্বেষী ধারাবাহিক অপতৎপরতাকারীদেরই কাজ, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

‘কোরআন অবমাননা’ যেই ধর্মের লোকই করুক না কেনো তা চরম শাস্তিযোগ্য অপরাধ। মূল অপরাধীকে খুঁজে বের করে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে যেনো পরবর্তীতে এ ধরণের অপরাধের চিন্তাও যেনো কারো না আসে। তবে, একটি অপরাধ এর সমাধান যদি হয় আরও শত অপরাধের সৃষ্টি তবে সেটা মানবতার চরম অবনমন। কুমিল্লার ওই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের অন্যান্য স্থানের পূজা মণ্ডপগুলোও যেখানে এই ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো যোগসূত্রও ছিল না। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচিত তীক্ষ্ন দৃষ্টি দিয়ে নিখুঁতভাবে সঠিক অপরাধীকে খুঁজে বের করা। সে যে ধর্মেরই হোক না কেনো জাতির সামনে তার মুখোশ উšে§াচন করে দেয়া।

গত ১৪ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ উল্লেখ করে সবাইকে এক হয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, পূজা মন্ডপে অরাজকতা সৃষ্টিকারীদের তাঁর সরকার আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করবে। কুমিল্লার ঘটনাকে তিনি ‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক’ আখ্যায়িত করে বলেছেন, যে ঘটনা ঘটেছে তার ব্যাপক ভাবেই তদন্ত হচ্ছে এবং অবশ্যই এ ধরনের ঘটনা যারা ঘটাবে তাদেরকে আমরা খুঁজে বের করবোই। তিনি বলেন, বাংলাদেশ যখন উন্নয়নের পথে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে সে সময় এই যাত্রাটাকে ব্যাহত করার এবং সাথে সাথে দেশের ভেতরে একটা সমস্যা সৃষ্টি করার এ ধরনের কিছু দুষ্ট লোক দেশে রয়ে গেছে। যারা জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে পারেনা।

জাতির পিতার রেখে যাওয়া অসাম্প্রদায়িক আদর্শ নিয়েই তাঁর সরকার পথ চলবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটা অসম্প্রদায়িক চেতনার দেশ। বাংলাদেশে সকল ধর্ম, বর্ণের মানুষ সকলে একসঙ্গে বসবাস করবে এবং যার যার ধর্ম সে সে পালন করবে। প্রধানমন্ত্রী ১৯৭৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর জাতির পিতার ভাষণের উদ্ধৃতি তুলে ধরে দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন। জাতির পিতা বলেছিলেন, বাংলার মাটিতে সাম্প্রদায়িকতার স্থান নাই। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান বাংলাদেশে যারা বসবাস করেন তারা সকলেই এ দেশের নাগরিক।

প্রতিটি ক্ষেত্রে তারা সমঅধিকার ভোগ করবে। শুধু সরকারের পক্ষ থেকেই নয় ওই ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও ঐক্যমত পোষণ করেছেন। গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, কুমিল্লায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার পেছনে যারা ইন্ধন যোগাচ্ছে তাদেরকে কঠোর হাতে দমন করা উচিৎ। বিএনপি’র পক্ষ থেকে ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায় নির্বিশেষে দেশবাসীকে সকল উস্কানির মুখে শান্ত থেকে নিজেদের ঐক্য ও সংহতি দৃঢ়ভাবে রক্ষা করার আহবান জানানো হয়েছে।

বিশ্বের বুকে বর্তমান বাংলাদেশ একটি আদর্শ রোড মডেল। সামাজিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষা সর্বত্রই বাংলাদেশের অগ্রগতি পরিলক্ষিত। সেই অগ্রযাত্রাকে বিনষ্ট করার লক্ষ্যেই বিভিন্ন ইস্যু সংগঠিত করে চলছে দুষ্কৃতিকারীরা। সম্প্রীতির সেতুবন্ধনে সবকিছু উপড়ে ফেলে এগিয়ে যাবে এই দেশ। গড়ে উঠবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ।

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading