চট্টগ্রাম মণ্ডপের হামলার পুরো ছক ‘নুরের দলের নেতাদের’
উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১ । আপডেট ১৭:৩৩
কুমিল্লায় দুর্গাপূজার মণ্ডপে কোরআন শরিফ পাওয়ার ঘটনা জেনেই চট্টগ্রামে সক্রিয় হয়ে ওঠেন সাবেক ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরের সংগঠনের যুব ও ছাত্র অধিকার পরিষদের চার নেতা। নগরীর টেরিবাজার, রিয়াজউদ্দিন বাজার এলাকায় প্রভাব রাখেন— বিএনপি ও জামায়াতের এমন কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরিকল্পনা করে শুক্রবার (১৫ অক্টোবর) জুমার নামাজের পর নগরীর জেএম সেন হলে পূজা মণ্ডপে হামলার ছক তৈরি করেন। সেই ছক অনুযায়ী মিছিল নিয়ে সাধারণ মুসল্লিদের উত্তেজিত করে হামলার ঘটনা ঘটান।
জেএম সেন হলে হামলার ঘটনায় যুব ও ছাত্র অধিকার পরিষদের ৯ নেতাসহ মোট ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে পূজা মণ্ডপে হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের এসব তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীন। এ নিয়ে হামলার ঘটনায় মোট ১০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
নগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) বিজয় বসাক বলেন, ‘সিসি ক্যামেরার ফুটেজ, ভিডিও ফুটেজ, ঘটনাস্থলের ছবি ও গ্রেফতার আসামিদের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে আমরা নুরুল হক নুরের সংগঠনের কয়েকজন নেতার জড়িত থাকার তথ্যপ্রমাণ পেয়েছি। এর ভিত্তিতে আমরা কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারাও ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এ পর্যন্ত আমাদের কাছে যে তথ্যপ্রমাণ আছে,তাতে দেখা যাচ্ছে, তারাই হামলার পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দেওয়ার পুরো কাজটি করেছেন। তবে এর সঙ্গে যে আর কেই জড়িত নেই, আমরা সেটি বলছি না। এর সঙ্গে আরও কেউ কেউ জড়িত থাকতে পারে। আমরা তাদের বিষয়েও তদন্ত করছি।’
গ্রেফতার ১০ জন হলেন— মো. নাছির (২৫), মিজানুর রহমান (৩৭), মো. রাসেল (২৬), ইয়ার মোহাম্মদ (১৮), মো. মিজান (১৮), গিয়াস উদ্দিন (১৯), ইয়াসিন আরাফাত (১৯), হাবিবুল্লাহ মিজান (২১), মো. ইমন (২১) ও ইমরান হোসেন।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার নাছির যুব অধিকার পরিষদের চট্টগ্রাম মহানগরের আহ্বায়ক এবং মিজানুর রহমান সদস্য সচিব। রাসেল ওই সংগঠনের বায়েজিদ বোস্তামি থানা শাখার আহ্বায়ক। এছাড়া ইমন ছাত্র অধিকার পরিষদের চট্টগ্রামের দায়িত্বশীল নেতা। গ্রেফতার ১০ জনের মধ্যে ইমরান হোসেন ছাড়া বাকি সবাই যুব ও ছাত্র অধিকার পরিষদের সঙ্গে যুক্ত। ইমরান চট্টগ্রাম নগরীর বৌবাজারে কুমিল্লা হোটেলের ম্যানেজার ও জামায়াতের রাজনীতিতে যুক্ত।
ওসি নেজাম উদ্দীন জানিয়েছেন, নাছিরকে সাতকানিয়ার কেরাণীহাট, ইমনকে চকবাজার, মিজানুর রহমানকে চকবাজারের জয়নগর ও রাসেলকে ষোলশহর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের বন্দর, ইপিজেডসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে।

