শিশুদেহে ফাইজারের টিকার ‘কার্যকারিতা ৯০.৭%’

শিশুদেহে ফাইজারের টিকার ‘কার্যকারিতা ৯০.৭%’

উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১ । আপডেট ১০:০০

পাঁচ থেকে ১১ বছর বয়সী শিশুদের শরীরে ফাইজার-বায়োএনটেকের তৈরি কোভিড-১৯ টিকা ৯০ দশমিক ৭ শতাংশ কার্যকারিতা দেখিয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানিটি।

টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগের ফলাফল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) কাছে দাখিল করা নথিতে ফাইজার এই দাবি করেছে বলে শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে।

ওষুধ কোম্পানিটি বলছে, তাদের টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগে প্লাসিবো (স্বান্ত্বনা ওষুধ) পাওয়া ১৬ জন শিশু কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়, যেখানে টিকা পাওয়াদের মধ্যে মাত্র তিন জন আক্রান্ত হয়।

দুই হাজার ২৬৮ অংশগ্রহণকারীকে নিয়ে পরিচালিত এই পরীক্ষায় যত সংখ্যক শিশুকে প্লাসিবো দেওয়া হয়েছিল, তার দ্বিগুণের বেশি শিশুকে কোভিড-১৯ টিকা দেওয়া হয়েছিল। সে হিসেবে এটার কার্যকারিতা ৯০ শতাংশের বেশি হয়।

৫ থেকে ১১ বছর বয়সীদের নিয়ে ফাইজারের এই পরীক্ষায় ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকারিতা পরিমাপ করা উদ্দেশ্য ছিল না। বরং মূল্য উদ্দেশ্য ছিল শিশু ও বয়স্কদের শরীরে টিকার প্রভাবে অকার্যকর হওয়া অ্যান্টিবডির পরিমাণের তুলনা করা।

ওই ফলাফলের ভিত্তিতে গত মাসে ফাইজার ও বায়োএনটেক বলেছিল, তাদের কোভিড-১৯ টিকার ফলে শিশুদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হয়।

৫ থেকে ১১ বছর বয়সীদের ১০ মাইক্রোগ্রামের দুই ডোজ টিকা দেওয়া হয়, যেখানে ১২ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সীদের এক তৃতীয়াংশ ডোজ দেওয়া হয়েছিল।

এই শ্রেণির শিশুদের জন্য ওই টিকা ব্যবহারে ওষুধ প্রশাসনকে সুপারিশ করা করা হবে কিনা সেবিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে মঙ্গলবার এফডিএর বহিরাগত উপদেষ্টাদের বৈঠকে বসার কথা রয়েছে।

আর ফাইজার যেসব প্রমাণ জমা দিয়েছে, সেবিষয়ে এফডিএর কর্মকর্তাদের পর্যালোচনা শুক্রবারই প্রকাশ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নিরাপত্তা ডেটা উন্নয়নের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বিস্তৃত করে আওতাধীন শিশুর সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি বাড়ানোর হয়েছিল বলে শুক্রবার দাবি করেছে ফাইজার।

নথি অনুযায়ী, পরে যুক্ত হওয়া ওইসব শিশুদের বিরূপ প্রতিক্রিয়া পর্যালেচনা করে টিকার নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক কিছু মেলেনি। এই বয়স শ্রেণির ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিভিন্ন দিকের সঙ্গে সাধারণত ১৬ থেকে ২৫ বছর বয়সীরা তুলনাযোগ্য।

দ্বিতীয় দলের শিশুদের কিছুটা কম সময়ের জন্য পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। তাদের সবাই দ্বিতীয় ডোজ টিকা নিয়েছিলেন এবং যাদের ৭০ শতাংশের বেশি দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পর দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গিয়েছিল।

বিশেষত শিশু-কিশোরদের আক্রান্ত হতে দেখা যায় মায়োকার্ডাইটিস নামে হৃদযন্ত্র প্রদাহের সঙ্গে ফাইজার/বায়োএনটেক ও মডার্নার টিকার ‘বিরল’ সংশ্লিষ্টতা মিলেছে।

ফাইজার বলছে, ১২ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের মধ্যে মায়োকার্ডাইটিসের যে হার দেখা গেছে, ৫ থেকে ১১ বছর বয়স শ্রেণির মধ্যে তার হার কম পাওয়া গেছে। যতটি ক্ষেত্রে টিকার প্রয়োগের ফলে কোভিড জটিলতায় হাসপাতালে ভর্তি ঠেকানো গেছে, তা সম্ভাব্য মায়োকার্ডাইটিসের সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি বলেও কোম্পানির ধারণা।

১৬ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সীদের জন্য গত অগাস্টে এফডিএর পূর্ণ অনুমতিসহ ফাইজার/বায়োএনটেকের টিকা এর মধ্যে অন্তত ১২ বছর বয়সীদের জন্য জরুরি ব্যবহারের অনুমতি পেয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১৯ কোটি মানুষ সম্পূর্ণ টিকার আওতায় এসেছে, যার ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী এক কোটি ১০ লাখ মানুষ ফাইজারের টিকা পেয়েছে।

৫ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের জন্য এই টিকার জরুরি ব্যবহারের অনুমতি এফডিএ যদি ফাইজারকে দেয়, তাহলে প্রয়োগ পদ্ধতি ঠিক করত ২ ও ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) উপদেষ্টারা বৈঠকে মিলিত হবেন।

বেশিরভাগ রাজ্য টিকা দেওয়া শুরুর আগে প্রয়োগ পদ্ধতি নিয়ে সিডিসি সুপারিশের অপেক্ষায় থাকে।

mashiurjarif

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading