স্বাস্থ্যসেবার আলো ছড়াচ্ছে ‘বেস্ট এইড’
কিফায়েত সুস্মিত। বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১ । আপডেট ১০:৪০
ট্রাফিক জ্যাম উপেক্ষা করে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা ডাক্তারের চেম্বারে অপেক্ষা না করে আপনি যদি একদম নির্দিষ্ট সময়ে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ পান তাহলে ভাবুন তো কেমন হয়? দেশে এমনই একটি ডিজিটাল সেবা নিয়ে এসেছে ‘বেস্ট এইড’ নামক স্বাস্থ্যসেবামূলক একটি প্রতিষ্ঠান। সময় সচেতনতার কারণে বিশ্বের অন্যান্য দেশে সেবাটি প্রচুর জনপ্রিয় হলেও বাংলাদেশে এই প্রথম।
স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন তরুণ উদ্যোক্তার প্রচেষ্টায় ‘বেস্ট এইড’ থেকে স্বাস্থ্যসেবা নিচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ এবং সারাদেশে বাইরের মানুষ। সেবামূলক প্রতিষ্ঠানটি মূলত ঢাকার বাইরের সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের সেবার উদ্দেশ্য নিয়েই যাত্রা শুরু করেছে। যারা সঠিক সময়ে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ থেকে বঞ্চিত। তাছাড়া হিজড়া সমপ্রদায় ও পার্বত্য অঞ্চলের মানুষদের জন্য প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ ফ্রি সেবা দিয়ে যাচ্ছে। অল্প কিছুদিনের মধ্যে রোহিঙ্গাদের সেবায় কাজ করতে যাচ্ছে ‘বেস্ট এইড’ ।
বেস্ট এইড কিভাবে কাজ করছে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ও সহ- প্রতিষ্ঠাতা সাদেকুল ইসলাম শাওন বলেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবায় ডিজিটাল প্লাটফর্ম এই বেস্ট এইড। কোনো রোগী যদি প্রাথমিকভাবে কোনো ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ নিতে চান তাহলে আমাদের দেওয়া হটলাইন নম্বরে (+৮৮০১৯২৬২২৬৬৭৭) ফোন দিয়ে জানাবে। পরে আমাদের এখান থেকে কোনো একজন ডাক্তার রোগীকে ফোন দিয়ে তার পুরো সমস্যা শুনবেন। তিনি যদি কোনো সমাধান দিয়ে দিতে পারেন তাহলে রোগীকে টাকা খরচ করে আর বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ নিতে হবে না। আর যদি জুনিয়র ডাক্তার মনে করেন তার সমস্যাটি নিয়ে সিনিয়র ডাক্তারদের সঙ্গে কনসালটেন্সি করা প্রয়োজন তাহলে তিনি সিনিয়র ডাক্তারের কনসালটেন্সি সময়টা রোগীকে জানিয়ে দেবেন। পরবর্তীতে রোগী এবং ডাক্তার নির্দিষ্ট সময়ে অনলাইনে থাকবেন এবং রোগীকে সঠিক পরামর্শ নেবেন। কনসালটেন্সি শেষ হওয়ার পর কনসালটেন্সি প্রেসক্রিপশন আকারে রোগীর মোবাইলে কিংবা মেইলে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। বিশেষজ্ঞ ডাক্তার যদি কোনো পরীক্ষা করাতে পরামর্শ দেন তাহলে রোগী তার নিকটতম যেকোন ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে পরীক্ষা করিয়ে আমাদের মাধ্যমে ডাক্তারকে দেখাতে পারবেন এবং তত্ক্ষণাত্ পরামর্শ পেয়ে যাবেন। এখানেই আমরা শেষ হয়ে যাচ্ছি না। পরবর্তীতে রোগীর নিয়মিত ফলোআপ করবেন আমাদের ডাক্তাররা। যাতে করে রোগী সঠিক সেবা পেয়ে সুস্থ থাকতে পারেন। আবার ডাক্তার যদি মনে করেন এই রোগীকে সরাসরি দেখার প্রয়োজন রয়েছে তাহলে আমাদের অফিসে নির্দিষ্ট সময়ে ডাক্তার এবং রোগী দুইজনই এসে প্রাইভেট কনসালটেন্সি নিয়ে চলে যেতে পারবেন।
‘বেস্ট এইড’ এর প্রধান নির্বাহী পরিচালক ও প্রতিষ্ঠাতা মীর হাসিব মাহমুদ বলেন, টেলিমেডিসিন কিন্তু বাংলাদেশে একদম নতুন। বাহিরের দেশগুলোতে টেলিমেডিসিন সেবা অনেক জনপ্রিয়। ২০১৯ সালে যখন আমারা কাজ শুরু করি কিন্তু তখন আমরা কম সাড়া পেয়েছিলাম। করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়াতে সারাদেশে যখন লকডাউন শুরু হলো আসলো তখন টেলি মেডিসিন সবচেয়ে বড় ভুমিকা পালন করেছে। আমরা লকডাউনের সময় ১৭ হাজারের বেশি মানুষকে ফ্রী সার্ভিস দিয়েছি। আমাদের চিকিত্সকের একটা প্যানেল আছে তারা সার্ভিস দিয়েছে এবং সাথে বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরাও অনেক সাহায্য করেছে। তখন রোগীর চাপ অনেক বেশি ছিল যা সিনিয়র ডাক্তার দিয়েও হচ্ছিল না। আমরা যা করেছি ইন্টার্ন ডাক্তার যারা আছেন তাদেরকে আমাদের ফেসবুক মেসেঞ্জারের মাধ্যমে যুক্ত করেছি সেখান থেকে তারাও অনেক সেবা দিয়েছে। রোগীদের যদি বেশি সমস্যা থাকে তাহলে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের কাছে রেফার করে দেওয়া হয়তো, আর যদি সাধারণ সমস্যা থাকতো তাহলে একটা যে কোন চিকিত্সকের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেওয়া হতো।
মীর হাসিব মাহমুদ আরও বলেন, বাংলাদেশে প্রায় ২৮-৩০ টা টেলিমেডিসিন কোম্পানি আছে। আমরা যখন শুরু করেছি মানুষ তখন টেলিমেডিসিনের উপর আস্থা রাখতে পারছিল না। এই জায়গা থেকে এখন আমরা অনেকটাই উন্নতি করেছি। আইসিটি মন্ত্রণালয়ে প্রজেক্ট আছে। এটা সরকারের একটি উদ্যোগ যা আমাদের মতোন যারা নতুন আছেন তাদেরকে সরকার সাহায্য করেছে। স্পমপ্রতি আমরা রোহিঙ্গাদের সেবা সেবা নিশ্চিত করতে কাজ শুরু করেছি। রোহিঙ্গা ইস্যু অনেক বড় ইস্যু। গত মাসের শুরু দিকে আমরা ভাসাঞ্চরে গিয়েছিলাম। আগামী ১ নভেম্বর থেকে আসা করি আমরা শুরু করবো। ভাসানচরে আমরাই প্রথম কোনো প্রাইভেট কোম্পানি যারা কাজ করার অনুমুতি পেয়েছি। আমরা যা করবো তা হলো যারা ঢাকায় চিকিত্সকের পরামর্শ পেতে চান আমরা ভিডিও কলের মাধ্যমে সেই ব্যবস্থা করে দিব। এই কাজে সার্বিক সহযোগিতার জন্য সেখানে আমাদের একজন এজেন্ট থাকবে। এছাড়াও ইতোমধ্যে কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও রংপুর এই তিন জায়গায় বেস্ট এইড এর প্রজেক্ট চালু আছে। আমরা প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতেও অনলাইনে মাধ্যমে চিকিত্সা সেবা প্রদান করে আসছি এবং সামনে করবো।

