‘প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে বিশ্বকে বাঁচাতে রাজনৈতিক অঙ্গীকারের আহ্বান জানিয়েছেন’
উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ০২ নভেম্বর ২০২১ । আপডেট ১৯:৪০
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে বিশ্বকে বাঁচাতে জরুরি চূড়ান্ত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বিশ্বনেতাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। গ্রহকে বাঁচানোর জন্য বিশ্বের সমস্ত মানুষের রাজনৈতিক অঙ্গীকার থাকতে হবে। আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলে এটি করতে পারি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন কোপ২৬ ভেন্যুর বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে প্রধানমন্ত্রীর গতকালের (১ নভেম্বর) কর্মসূচি বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
কোপ২৬ শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেয়া প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে লোকসান ও ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস এবং জলবায়ু অভিবাসীদের দায়িত্ব ভাগ করে নেয়ার জন্য বিশ্ব নেতাদের এগিয়ে আসার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।
শেখ হাসিনা বলেন, অবিলম্বে সকল সদস্য দেশকে তাদের কার্বন নির্গমন ১.৫ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখতে এবং তাদের আগ্রাসী এনডিসি (জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান) জমা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী উন্নত দেশগুলোকে জরুরি ভিত্তিতে বার্ষিক ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রদানের প্রতিশ্রুতি পূরণের আহ্বান জানান।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশের মতো দেশগুলো নবায়নযোগ্য শক্তি বাড়াতে চায়, যার জন্য আমরা প্রযুক্তি ও অর্থ চাই এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোকে তা পৌঁছে দিতে প্রধান নির্গমনকারীদের এগিয়ে আসা উচিৎ।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ মুজিব সমৃদ্ধি পরিকল্পনা এবং আগে থেকেই এনডিএসি তৈরি করেছে। প্রধানমন্ত্রী এর আগে ‘জলবায়ু সমৃদ্ধি অংশীদারিত্ব নিয়ে সিভিএফ-কমনওয়েল্থ উচ্চ পর্যায়ের আলোচনা’ এবং ‘একশন এন্ড সলিডারিটি ইন ক্রিটিক্যাল ডিকেডস্’ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন।
সিভিএফ-কমনওয়েল্থ উচ্চ পর্যায়ের আলোচনায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শেখ হাসিনা প্রস্তাব করেন জলবায়ু ঝুঁকি ফোরাম (সিভিএফ) এবং কমনওয়েল্থ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় যৌথভাবে কাজ করতে পারে, কারণ তাদের বিশাল জনসংখ্যা রয়েছে যা সিভিএফে ১.৬ বিলিয়ন এবং কমনওয়েলথে ২.৪ বিলিয়ন।
সিভিএফ এবং ভি২০ (ভালনারেবল২০) এর চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু অভিবাসীদের দায়িত্ব ভাগাভাগি করে নেয়ার পাশাপাশি বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে সৃষ্ট লোকসান ও ক্ষতি কমাতে বিশ্ব নেতাদের এগিয়ে আসার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই অনুষ্ঠানে ৫৪টি দেশের তরুণ ব্যবসায়ীদের আগামী সম্মেলন থেকে ‘কমনওয়েলথ-বঙ্গবন্ধু বিজনেস এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ড’ চালু করার প্রস্তাব ঘোষণা করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন পরিচালিত ‘একশন এন্ড সলিডারিটি ইন ক্রিটিক্যাল ডিকেডস্’ কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী একটি রোডম্যাপ দাবি করেন যাতে উন্নত দেশগুলো তাদের প্রতিশ্রুত ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বার্ষিক কত অর্থ প্রদান করবে এবং প্রধান নির্গমনকারীরা বছরে নির্গমন কত হ্রাস করবে তা জানাবে।
বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সরকারের জলবায়ু বিষয়ক ইস্যুতে, যেমন- জলবায়ু অভিযোজন কর্মসূচি গ্রহণ এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছেন তা গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেছেন।
মোমেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী আরও বর্ণনা করেছেন, বাংলাদেশ অন্যদের সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কোভিড-১৯ মোকাবেলায় সফলভাবে কাজ করেছে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশে পরিণত করার কথাও এখানে বলেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধা নিয়ে কোভিড-১৯ এর সময়ে মোবাইল ফোন এবং টেলিফোনের মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের কাছে কোটি কোটি টাকা পাঠানো হয়েছে।
মোমেন বলেন, শেখ হাসিনা জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গবেষণা পরিচালনার ওপর জোর দেন।
তারা জলবায়ু ইস্যুতে বিল এবং মেলিন্ডা গেটসের অংশীদারিত্ব চেয়েছেন জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঢাকায় একটি আঞ্চলিক গ্লোবাল অ্যাডাপ্টেশন সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে, যা এখন দেশে বা স্থানীয় ভিত্তিক অভিযোজন প্রক্রিয়া তৈরি করছে।
‘আমরা এই বিষয়ে তাদের অংশীদারিত্ব চাই’ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “তারা কিছু প্রস্তাবও দিয়েছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।”
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে যোগ করে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস বলেন, বিল ও মেলিন্ডা গেটস দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের কৃষি ও অন্যান্য খাতে কাজ করছেন।
বৈঠকে তিনি বলেন, তারা (বিল এবং মেলিন্ডা গেটস) বলেছেন যে, তারা বাংলাদেশের ডিজিটালাইজেশন এবং কৃষি উন্নয়নে অত্যন্ত অনুপ্রাণিত এবং এ লক্ষ্যে আরও কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

