শেষ দিনে কপ২৬, উষ্ণতাবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে চুক্তির আশা ‘ক্ষীণ’
উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ১২ নভেম্বর ২০২১। আপডেট ১৩:১০
বৈশ্বিক তাপমাত্রা প্রাক-শিল্পায়ন যুগের চেয়ে সর্বোচ্চ দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার যে লক্ষ্য, তা পূরণে ব্যবস্থা নিতে বিশ্ব নেতাদের ব্যর্থ হওয়ার শঙ্কার মধ্যেই শেষদিনে পড়েছে গ্লাসগোর জলবায়ু সম্মেলন।
এই সম্মেলনে এখন পর্যন্ত যে অগ্রগতি তাতে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনি গুতেরেসও ‘হতাশ’ বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি বার্তা সংস্থাকে গুতেরেস বলেছেন, উষ্ণতাবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্য এখন ‘লাইফ সাপোর্টে’।
শুক্রবার শেষ হতে যাওয়া সম্মেলনে কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ ‘যথেষ্ট পরিমাণ’ কমাতে সরকারগুলোর অঙ্গীকার দেখা যাবে না বলেও আশঙ্কা তার।
এর আগে কপ২৬ এর প্রেসিডেন্ট অলোক শর্মা সম্মেলন শেষ হওয়ার আগে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সময় শেষ হয়ে আসছে বলে সতর্ক করেছিলেন।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা গেলে জলবায়ু পরিবর্তনের বিপজ্জনক প্রভাব এড়ানো যাবে।
২০১৫ সালে প্যারিসে বিশ্বনেতারা গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ ব্যাপক মাত্রায় কমিয়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধি (প্রাক-শিল্পায়ন যুগের চেয়ে) দেড় থেকে দুই ডিগ্রির মধ্যে রাখার চেষ্টা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
কিন্তু সর্বশেষ হিসেব বলছে, বৈশ্বিক তাপমাত্রা প্রাক-শিল্পায়ন আমলের চেয়েও ২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশিতে পৌঁছানোর পথে রয়েছে।
গুতেরেস বলেছেন, সরকারগুলো যদি জীবাশ্ম জ্বালানিতে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখে তাহলে তাদের কার্বন নিঃসরণ কমানোর প্রতিশ্রুতি অর্থহীন।
“প্রতিশ্রুতিগুলো ফাঁকা বুলি, যখন জীবাশ্ব জ্বালানি খাত এখনও ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলারের ভর্তুকি পাচ্ছে,” বলেছেন তিনি।
গ্লাসগোতে এখন পর্যন্ত যেসব ঘোষণা এসেছে তা ‘প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম’ হলেও সম্মেলনের শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত আশা ছাড়ছেন না বলেই জানান জাতিসংঘের এই মহাসচিব।

