ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায় রুবেল-দিয়া

ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায় রুবেল-দিয়া

উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ১৮ নভেম্বর ২০২১। আপডেট ১৭:২০

দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন ইতিহাস সৃষ্টির আশায় আরচার মোহাম্মদ হাকিম আহমেদ রুবেল ও দিয়া সিদ্দিকি। বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে চলমান ২২তম এশিয়ান আরচারি চ্যাম্পিয়নশীপে আগামীকাল সমাপনী দিনের তৃতীয় ইভেন্ট রিকার্ভ মিশ্র দৈতের ফাইনালে খেলবে বাংলাদেশের রুবেল-দিয়া জুটি। এশিয়ান আরচারি চ্যাম্পিনশীপে প্রথমবারের মত কোন ইভেন্টের ফাইনালে ওঠা বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ কোরিয়ার রিউ সু জুং-লী সিউং ইউন জুটি।

গত মঙ্গলবার তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষে বাংলাদেশের রুবেল ও দিয়া জুটি ৫/৪ সেট পয়েন্টে ইন্ডিয়ার অঙ্কিতা ভক্ত-কপিল জুটিকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে। বুধবার রিকার্ভ দলগত মহিলা ও পুরুষ ইভেন্টে ব্রোঞ্জ পদক জিতে এশিয়ান আসরে প্রথমবারের মত পদক তলিকায় নাম লেখায় বাংলাদেশের প্রতিযোগীরা। যে কারণে আগামীকাল প্রত্যাশার পারদ আরো উপরে উঠেছে আরচারি সংশ্লিষ্টদের।

ইতিহাস গড়ার আগে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশের দুই আরচারই। গত মে মাসে সুইজারল্যান্ডে ওয়ার্ল্ড কাপ (স্টেজ-২) আরচারিতে ফাইনালে খেলেছিলেন দিয়া সিদ্দিকী ও রোমান সানা জুটি। সেবার স্বর্ণ বঞ্চিত হয়েছিল বাংলাদেশ। এবার আর পিছনে ফিরে তাকাতে চাননা রুবেল-দিয়া।

আগামীকাল ফাইনালে খেলার আগে আগ গণমাধ্যমকে দিয়া বলেন, ‘মেন্টালি আমি প্রিপেয়ার্ড আছি যে, আমরা আমাদের বেস্ট দিয়ে চেষ্টা করবো। কোচদের ইনসপ্রায়শনে আমার আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়ে গেছে। আমার বিশ্বাস আছে, আমি আমার সেরাটা দিতে পারলে কোরিয়াকে হারানো সম্ভব। ’

যে কোন খেলায় মানসিক বিষয়টা অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ন উল্লেখ করে দিয়া আরো বলেন, আমি যেটা বলবো মেন্টাল, মেন্টালি সব সময় প্রস্তুত থাকতে হয়, শান্ত থাকতে হয়। সবচেয়ে বড় কথা বেশি নার্ভাস হওয়া যায় না। নরমালি আমাদের গেমের সময় সবারই একটু নার্ভাসনেস কাজ করে, কারো বেশি কারো কম। আমার আর রুবেল ভাই দু’জনেরই দুজনের ওপর বিশ্বাস আছে। আমরা যদি দুজনের বিশ্বাস আর কো অর্ডিনেশন ধরে রাখতে পারি, টিম ওয়ার্ক ঠিক থাকে তাহলে হয়তো ভালো কিছুই হবে।

এবারের আসরে বাংলাদেশের বড় প্রাপ্তি হাকিম আহমেদ রুবেল। রোমান সানাকে টপকে ফোকাসে চলে আসেন কুড়িগ্রামের এ আরচার। আগামীকালের ফাইনাল নিয়ে কোন চাপ নিচ্ছেন না এ তরুণ। তিনি বলেন, আমি ওরকমভাবে কোনো চাপ নিছি না । কারণ নিজেদের মধ্যেই খেলবো। আর এমন না যে কোরিয়ার সাথে প্রথম ম্যাচ। আমরা জানি তারা অনেক ভালো খেলোয়াড় ,তবে আমরা আমাদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করবো।

প্রতিটা গেমের পেছনে একটা টিম ওয়ার্কের প্রয়োজন। যেটা একজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে আরেকটা খেলোয়াড়ের মতামত, যাচাই বাছাই বা কম্বিনেশন যেটা বলে সেটা ঠিক হওয়া উচিৎ। দিয়া আর আমি যখন প্রতিটা অ্যারো শ্যুট করি, নিজেদের ভেতর একটা কথোপকথন করে নেই। বলি যে দেখো খেলাটা ওদের সাথে হচ্ছে না। মনে করো তোমার আর আমার মাঝে হচ্ছে। এরকম করে নিজেদের মাঝে একটা অনুশীলনের মতো করেই খেলবো। এভাবেই আমরা চালাচ্ছি।

Asadujjaman

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading