‘নির্বাচনী সহিংসতা বন্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-আইজিপিকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী’
উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ২০ নভেম্বর ২০২১। আপডেট ০৯:৪০
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতা বন্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপিকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শুক্রবার (১৯ নভেম্বর) গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশ দেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
বৈঠক শেষে গণভবনের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে ব্রিফ করতে গিয়ে এ কথা জানান তিনি।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এবারকার ইউপি নির্বাচনে মাহবুব তালুকদার ভোটারদের অনাগ্রহের কথা বলে আসছিলেন। এখানে ৭০ থেকে ৭৩ ভাগ ভোটার উপস্থিত ছিলেন। ভোটারদের উপস্থিতি অতীতের চেয়ে ভোটের প্রতি আগ্রহ আরও বাড়িয়েছে সেটা প্রমাণিত।’
তিনি বলেন, ‘এর সঙ্গে যে সহিংসতার উপাদান যোগ হয়েছে, এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়- বিশেষ করে মন্ত্রী ও আইজিপিকে নির্দেশ দিয়েছেন। এসব ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে, ঘটলে উপযুক্ত ব্যবস্থা যেন নেওয়া হয় সে ব্যাপারেও নির্দেশনা দিয়েছেন।’
এসময় তিনি বিতর্কিত বক্তব্য দেওয়ায় গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমকে দল থেকে বহিষ্কার এবং প্রাথমিক সদস্য পদ থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানান।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাবে দলের সভাপতি বরাবর পাঠানো তার জবাব আমি পড়ে শুনিয়েছি। তবে গোটা হাউস কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পক্ষে মত দেয়। সভাপতি সবার মতামত শুনেছেন। সবাই তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। সেই আলোকে জাহাঙ্গীর আলমকে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক থেকে এবং প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’
জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না এমন প্রশ্নে কাদের বলেন, ‘সেটিও হতে পারে। বঙ্গবন্ধু এবং আমাদের ইতিহাসকে কটাক্ষ করে বক্তব্য দিয়েছেন তিনি। কাজেই এটা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে জানানো হবে।’
দলের বিদ্রোহীদের বিষয়ে লিখিত ও মৌখিকভাবে সার্বিক রিপোর্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদকরা প্রকাশ করেছেন জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিদ্রোহীদের বিষয়ে আগেই সিদ্ধান্ত হয়েছে। আর বিদ্রোহীদের যারা মদদ দিয়েছে, তারা শাস্তির আওতায় আসবে। বৈঠকে সে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এমনকি জনপ্রতিনিধি হলে- মন্ত্রী হোক, এমপি হোক প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

