ভৌগলিক কারণে বিনিয়োগে বাংলাদেশের গুরুত্ব বাড়ছে: প্রধানমন্ত্রী
উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২১। আপডেট ১৪:০০
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিশাল বাজারের মধ্যবর্তী ভৌগলিক অবস্থানের জন্য বৈদেশিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশের প্রতি আস্থার ফলে ৬০ শতাংশের বেশী প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ আসছে।
রোববার (২৮ নভেম্বর) সকালে ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট সামিট-২০২১ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন প্রান্তে যুক্ত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা দীর্ঘ সোয়া দুইশ’ বছরের পরাধীনতার শৃঙ্খল ছিন্ন করে বাঙালি জাতিকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে এনেছেন। তিনি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার সময় একটা মালবাহী জাহাজও ছিল না। সকল যোগাযোগ অবকাঠামো ছিল ধ্বংস, বৈদেশিক মুদ্রা ও গোল্ড রিজার্ভ ছিল না। বলতে গেলে ধ্বংস স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে ‘সোনার বাংলা’ প্রতিষ্ঠায় তিনি নেমেছিলেন। তিনি সকল কল-কারখানা জাতীয়করণ করে জনগণের মালিকানা প্রতিষ্ঠা করেছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশকে বহির্বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত করে বিনিয়োগ-বাণিজ্যের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন।
‘মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য আমাদের প্রাকৃতিক গ্যাস আহরণ করে সার কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তার লক্ষ্য ছিল কৃষক অল্প দামে কৃষি উপকরণ অর্থাৎ সার বীজ সবকিছু পাবে, ফসল উৎপাদন করবে, খাদ্যে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে। উদ্বৃত্ত খাদ্য বিদেশেও রফতানি করা যাবে। তাঁর উন্নয়ন দর্শনের মূলেই ছিল দেশীয় সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার করে অর্থনৈতিক উন্নতি নিশ্চিত করা।’- বলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘তিনি (বঙ্গবন্ধু) ১৯৭৪ সালের ১০ ডিসেম্বর এক ভাষণে বলেছিলেন, ‘আপনাদের অনেক কষ্ট করতে হবে। বাংলাদেশে সম্পদ আছে। সে সম্পদ ব্যবহার করা হয় নাই। ব্যবহার করতে সময় লাগবে। ইনশাআল্লাহ, যদি বাংলাদেশের সম্পদ আমরা ব্যবহার করতে পারি, তাহলে বাংলাদেশ যে ‘সোনার বাংলাদেশ’ হবে, সে বিষয়ে আমার কোনো সন্দেহ নাই।’’
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ২০০৮ সাল থেকে পরপর তিন দফায় দেশ চালানোর সুযোগ পেয়েছে। এই নির্বাচনে জয়লাভের ফলে দেশে বিরাজমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, দক্ষ-পরিশ্রমী জনসম্পদ সৃষ্টি, আকর্ষণীয় প্রণোদনার মাধ্যমে উদার বিনিয়োগ-নীতি এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিশাল বাজারের মধ্যবর্তী ভৌগলিক অবস্থানের জন্য বৈদেশিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশের প্রতি আস্থার ফলে ৬০ শতাংশের বেশী প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ আসছে পুনর্বিনিয়োগের মাধ্যমে।
তিনি আরও বলেন, আমরা জাতীয় শিল্পনীতিসহ খাতওয়ারি শিল্প উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়ন করেছি। শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০১৮ প্রণয়ন করেছি। প্রতিটি প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছি। রফতানিমুখী শিল্পের প্রবৃদ্ধির জন্য বন্ড ব্যবস্থাপনাকে অটোমেশন করা হয়েছে। আমরা ৩৯টি হাইটেক-পার্ক নির্মাণ করেছি। পর্যায়ক্রমে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছি। অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহে ২৭.০৭ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব পেয়েছি।

