চীনে যে আইনের শিকারে পরিণত হয়ে নিখোঁজ হাজার হাজার মানুষ

চীনে যে আইনের শিকারে পরিণত হয়ে নিখোঁজ হাজার হাজার মানুষ

উত্তরদক্ষিণ । বুধবার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২২ । আপডেট ১৮:১৫

চীনে আরএসডিএল (রেসিডেন্সিয়াল সার্ভিলেন্স অ্যাট অ্যা ডিজাইনেটেড লোকেশন) নামে একটি আইন প্রণয়ণ করেছে দেশটি কমিউনিস্ট সরকার। যে আইনের শিকারে পরিণত হয়ে দেশটিতে নিখোঁজ হয়েছে হাজার হাজার বেসমারিক নাগরিক।

এই আইনের অধীনে চীন মূলত নির্দিষ্ট কিছু এলাকার বাসিন্দাদের ওপর নজরদারি চালায়, যেমন উইঘুর-তিব্বত ইত্যাদি। এই আইনের আওতায় আটকদের নিয়ে যাওয়া হয় গোপন সেলে। সেখানে তাদের ওপর চালানো হয় অবর্ণনীয় নির্যাতন।

নতুন বছরে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের পর্যবেক্ষকদের নজরে রয়েছে চীনের এই কর্মকাণ্ড। তাদের দাবি, দেশটির কমিউনিস্ট নেতৃত্বাধীন সরকারের পাস করা একটি কঠোর নজরদারি আইনের অধীনে হাজার হাজার মানুষকে ‘পরিকল্পিত, নির্বিচারে এবং গোপনে আটক’ করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এটি এমন একটি নিন্দনীয় আইন যা আইনে কাউকে আটক করতে কর্তৃপক্ষের কোনও অজুহাত বা অনুমতির প্রয়োজন নেই।

বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আসে গত বছরের সেপ্টেম্বরে, যখন চীন দুই কানাডিয়ান নাগরিক মাইকেল কোভরিগ এবং মাইকেল স্প্যাভোরকে এক হাজার দিনেরও বেশি সময় ধরে আটক রাখার পরে মুক্তি দেয়। এতদিন তাদের অবস্থান কেউই জানেনি। একদিন হঠাৎ তারা উধাও হয়ে যায়। এরপর থেকে তাদের আর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

এক হাজার ২০ দিন পর মুক্তি পাওয়ার পর তারা গণমাধ্যমকে জানায়, তাদেরকে ২৪ ঘণ্টা লাইট জ্বালিয়ে একটি ঘরে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। সেখানে তারা কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি। এমনকি তাদের আইনজীবীদের সঙ্গেও না। তারা আরএসডিএলের অধীনে বন্দি ছিলেন।
স্পেন-ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ‘সেফগার্ড ডেমোক্রেসি’র সুবাদে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। সংগঠনটি দাবি করে- এই আইনের অধীনে চীনা পুলিশ স্থানীয় বা বিদেশি যে কাউকে তাদের অবস্থান প্রকাশ না করে একটি নির্দিষ্ট স্থানে ছয় মাস পর্যন্ত আটকে রাখতে পারে।

সংগঠনটি জানিয়েছে, গত সাত বছরে ২৭ হাজার থেকে ৫৬ হাজারের মতো এই আটক করা হয়েছে। শুধুমাত্র ২০২০ সালেই কমপক্ষে ১০ হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এই আইনটির বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। নতুন বছরে আইনটি নিয়ে আরও বেশি সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারে এসব সংগঠন।

Asadujjaman

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading