ইউক্রেন নিয়ে মুখোমুখি আমেরিকা-রাশিয়া: বিশ্বযুদ্ধের পদধ্বনি!
উত্তরদক্ষিণ । রবিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২ । আপডেট ১৩:০৫
ইউক্রেন-রাশিয়া সংকট যেনো চূড়ান্ত অবস্থায় পৌঁছেছে। যেকোনো সময়ে গোলাগুলি শুরুর শঙ্কা। ইতোমধ্যেই আমেরিকা, ব্রিটেন, কানাডা, নেদারল্যান্ডসসহ বহু দেশ তাদের নাগরিকদের ইউক্রেইন থেকে সরিয়ে নিচ্ছে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, ইউক্রেইনে তিনি সৈন্য পাঠাবেন না, কারণ আমেরিকা এবং রাশিয়া একে অপরের দিকে গুলি শুরু করলে তা হবে ‘বিশ্বযুদ্ধ’। বিস্তারিত লিখেছেন বিনয় দাস
বিগত কয়েক সপ্তাহের টানটান উত্তেজনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। যেকোনো সময়েই শুরু হতে পারে যুদ্ধ। আমেরিকাই প্রথম বিশ্ববাসীকে এই ইঙ্গিত জানান দিচ্ছে। এদিকে ইউক্রেইন সীমান্তে রাশিয়া আরও সৈন্য পাঠিয়েছে। অন্যদিকে পোল্যান্ডে পৌঁছেছে মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান। তবে কি বিশ্ববাসীর জন্য অপেক্ষা করছে আরও একটি বিশ্বযুদ্ধের নাকি কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যেই শেষ হবে এই সংকট তা নিয়ে বিশ্বমহলে চলছে নানা আলোচনা। রাশিয়ার সৈন্য মোতায়েন কিংবা আমেরিকার ইউক্রেইনকে সামরিক সহযোগিতা সবকিছুই আগ্রাসনেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদিও বিশ্লেষকরা বলছেন আমেরিকা ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের ফোনালাপের ওপর সবকিছু ঝুলে আছে। ওই ফোনালাপই হয় যুদ্ধের শুরু অথবা নিষ্পত্তি।
রাশিয়া বলছে পশ্চিমারা গুজব ছড়াচ্ছে: যুদ্ধ সংক্রান্ত সকল অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে রাশিয়া। গত শুক্রবার রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতিতে জানিয়েছে, পশ্চিমারা নিজেদের আক্রামনাক্ত পদক্ষেপের বিষয়টি অন্যদিকে সরিয়ে রাখতেই বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়াচ্ছে। এর আগে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সালিভান সতর্ক করে বলেন, ইউক্রেনে ‘যেকোনও সময়’ আক্রমণ শুরু করতে পারে রাশিয়া। বিমান থেকে বোমা হামলার মধ্যে দিয়ে এই ধ্বংসজ্ঞ অভিযান শুরু হতে পারে। এতে বেসামরিকদের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়বে। এর প্রতিক্রিয়ায় রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, পশ্চিমাদেশগুলো অহেতুক গুজব রটাচ্ছে।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২১ সালের শেষ থেকে এখন পর্যন্ত পশ্চিমা দেশগুলো বৈশ্বিক গণমাধ্যমে ইউক্রেনে রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে ভুল তথ্য উপস্থাপন করছে। এর মাধ্যমে তারা বিশ্ববাসীকে বুঝাতে চায় যে, রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান পরিচালনা করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ ধরনের অপপ্রচার সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত।
রুশ কূটনীতিকদের ইউক্রেন ছাড়ার নির্দেশ : ‘যেকোনো দিন’ ইউক্রেনে রাশিয়া হামলা চালাতে পারে, আমেরিকার এমন শঙ্কার পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তাদের নাগরিক ও কূটনৈতিক কর্মীদের সেখান থেকে সরিয়ে নিচ্ছে। ইউক্রেন থেকে এবার কূটনৈতিক কর্মীদের সরিয়ে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়া। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা শনিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) এ বিষয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছেন বলে জানায় দেশটির বার্তা সংস্থা তাস। বিবৃতিতে বলা হয়, কিয়েভ সরকার বা তৃতীয় দেশগুলোর সম্ভাব্য উসকানির পরিপ্রেক্ষিতে আমরা ইউক্রেনে রাশিয়ান বিদেশি মিশনের কর্মীদের সরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে আমাদের দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলো তাদের মৌলিক দায়িত্ব পালন করে যাবে।
বিশ্বযুদ্ধের শঙ্কায় সৈন্য পাঠাবে না আমেরিকা: আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেছেন, ইউক্রেইনে তিনি সৈন্য পাঠাবেন না, কারণ তার ভাষায়, আমেরিকা এবং রাশিয়া একে অপরের দিকে গুলি শুরু করলে তা হবে ‘বিশ্বযুদ্ধ’। পরিস্থিতি ‘খুব দ্রুত খারাপ হতে পারে’ বলে হুঁশিয়ার করে তিনি নিজের দেশের নাগরিকদের ইউক্রেইন থেকে সরে পড়তে বলেছেন। আর মস্কো যদি ইউক্রেইন আক্রমণ করে, আমেরিকানদের উদ্ধারে তিনি সেনা পাঠাতে পারবেন না। মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল এনবিসি নিউজকে বাইডেন বলেন, আমেরিকানদের এখনই চলে যাওয়া উচিত। আমরা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সেনাবাহিনীর সঙ্গে মোকাবিলা করছি। এটি একটি খুব ভিন্ন পরিস্থিতি এবং পরিস্থিতি শিগগিরই খারাপ হয়ে যেতে পারে।
ক্রিমিয়া উপদ্বীপ দখল প্রথম উত্তেজনার শুরু: ২০১৪ সালে রাশিয়া ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে দখল করে নেয়ার পর থেকে কৃষ্ণ সাগর ও আজভ সাগরে রাশিয়া ও ইউক্রেইনের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। আট বছর পর ফের তা তুঙ্গে উঠেছে। নেটো সামরিক জোটের সদস্য হতে চায় ইউক্রেইন, আমেরিকা আর ইউরোপীয়রাও রাজি। কিন্তু রাশিয়ার তাতে ঘোর আপত্তি। গতবছরের শেষ দিকে আমেরিকা খবর দেয়, ইউক্রেইন সীমান্তে লাখ খানেক সেনা সমাবেশ ঘটিয়েছে রাশিয়া; যে কোনো সময় আগ্রাসন চালানোই তাদের উদ্দেশ্য। তখন থেকেই এবারের উত্তেজনার শুরু।
ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যায় দুই পক্ষ একমত হতে পারেনি: রাশিয়া অবশ্য দাবি করে আসছে, ইউক্রেইনে অভিযান চালানোর কোনো ইচ্ছে তাদের নেই। কিন্তু সীমান্তে রুশ সমরশক্তি বৃদ্ধির খবর উদ্বেগ বাড়িয়েই চলেছে। উত্তেজনা প্রশমনে রাশিয়া সফরে গিয়ে প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করে এসেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। দুদিন আগেই তিনি বলেছেন, যুদ্ধ এড়ানো এখনও সম্ভব। সেই চেষ্টাতেই বৃহস্পতিবার বার্লিনে ফরাসি ও জার্মান কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলের রাশিয়া আর ইউক্রেইনের প্রতিনিধিরা। কিন্তু গভীর রাতে রাশিয়ার দূত দিমিত্রি কোজাক ব্রিফিংয়ে বলেছেন, ডনবাসে যুদ্ধ থামানোর লক্ষ্যে ২০১৫ সালে হওয়া চুক্তির বিষয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেইনের ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যার কারণে দুই পক্ষ একমত হতে পারেনি। আর ইউক্রেইনের দূত আন্দ্রেই ইয়েরমাক বলেছেন, দুই পক্ষ কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পারলেও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে।
সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু ইউক্রেইনের দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক: ডনবাস নামে পরিচিত ইউক্রেইনের বিচ্ছিন্ন হতে চাওয়া দুটি অঞ্চল দোনেৎস্ক ও লুহানস্কে আপাত যুদ্ধবিরতি চললেও সেখানে যে কোনো সময় বড় ধরনের যুদ্ধ বেঁধে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইউক্রেইনের ভাষ্য, ২০১৪ সাল থেকে ওই অঞ্চলে যুদ্ধে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের প্রাণ গেছে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পূর্ব ইউরোপের আর কিছু কমিউনিস্ট দেশ এবং সাবেক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রের মতো ইউক্রেইনে দুটি রাজনৈতিক ধারা বেশ স্পষ্ট। একটি অংশ চায়- পশ্চিম ইউরোপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে, ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দিতে এবং নিজেদের প্রতিরক্ষার জন্য নেটো সামরিক জোটের সদস্য হতে। অপর অংশ রুশ প্রভাব বলয়ে থাকার পক্ষপাতী। কারণ ইউক্রেইনের জনসংখ্যার বিরাট অংশ রুশ ভাষাভাষী, তারা জাতিগতভাবেও রুশ। রাশিয়ার সঙ্গে তাদের রয়েছে ঘনিষ্ঠ সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক যোগাযোগ। রাশিয়া বহুদিন ধরেই চেষ্টা করছে, ইউক্রেইন যাতে কোনভাবেই ইউরোপীয় ইউনিয়নে না যায়। তাদের আরও আপত্তি নেটো জোট নিয়ে। যদিও ইউক্রেইন এখনো নেটো জোটের সদস্য নয়। কিন্তু পূর্ব ইউরোপের আরও অনেক সাবেক কমিউনিস্ট দেশের মতো প্রতিবেশী দেশটি সেই পথে চলেছে বলে মনে করছে রাশিয়া।
শীতকালীন অলিম্পিকস চলাচালীন যুদ্ধ শুরু হতে পারে: গত শুক্রবার অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে এক সংবাদ সম্মেলনে আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন বলেছেন, আমরা আগে যেমনটি বলেছি যে কোনো সময় আগ্রাসন শুরু হয়ে যেতে পারে। আর স্পষ্ট করে বললে, বেইজিংয়ে শীতকালীন অলিম্পিকস চলার এই সময়েও তা হতে পারে। চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে অলিম্পিকস এর আসর চলবে ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এই আয়োজনের উদ্বোধনী দিনে গত সপ্তাহে একে অপরকে সমর্থন দিয়েছে দুই মিত্র চীন ও রাশিয়া। পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে একাট্টা থাকার অঙ্গীকারও তারা করেছে।
বেলারুশের সঙ্গে রাশিয়ার সামরিক মহড়া যেনো প্রস্তুতি: উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা-আলোচনার মধ্যেই বেলারুশের সঙ্গে ১০ দিনের যৌথ সামরিক মহড়ায় নেমেছে রাশিয়া। তার প্রস্তুতিতে রুশ বাহিনী আজভ সাগর পুরোপুরি অবরোধ করে রেখেছে এবং কৃষ্ণসাগরে প্রবেশ প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ইউক্রেইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মইত্রো কুলেবা। মহড়া চলাকালে ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাগুলির প্রশিক্ষণ হবে জানিয়ে ওই উপকূলের সবাইকে প্রশিক্ষণ এলাকা থেকে দূরে থাকার জন্য সতর্ক করেছে রাশিয়া। আর ইউক্রেইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, যে বিশাল এলাকাজুড়ে মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে, তা নজিরবিহীন। এতে উভয় সাগরেই জাহাজ চলাচল অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর ইউক্রেইনের মার্কিন দূতাবাস এক টুইটে বলেছে, রাশিয়া কৃষ্ণ সাগর ও আজভ সাগরে সামরিক মহড়ার অজুহাতে ইউক্রেইনের সামুদ্রিক সার্বভৌমত্ব ও জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা সীমিত করে তাদের অর্থনীতির জন্য অপরিহার্য জাহাজ চলাচলে বাধা দিয়েছে।
ইউক্রেইনের কাছে নতুন করে সেনা মোতায়েন রাশিয়ার: আমেরিকার-ভিত্তিক মাক্সার টেকনোলজিসের প্রকাশিত স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, ইউক্রেইনের কাছে বেশ কয়েকটি এলাকায় নতুন করে সেনা মোতায়েন করেছে রাশিয়া। মাক্সার বলেছে, ক্রিমিয়ার সিমফারোপোল শহরের উত্তরে অকতায়েবরোস্কয়ে বিমানঘাঁটিতে বিপুলসংখ্যক নতুন সেনা ও সরঞ্জাম মোতায়েন হতে দেখা গেছে। সেখানে ৫০০ সেনা তাঁবুসহ শত শত গাড়িও উপস্থিতিও দেখা গেছে। আর বেলারুশের যে জায়গায় রাশিয়া যৌথ মহড়া চালাচ্ছে, সেখানেও নতুন সেনা ও সামরিক যানের গতিবিধি দেখা গেছে। ইউক্রেইন সীমান্ত থেকে ২৫ কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে গোমেলের কাছে জিয়াব্রোভকা বিমানঘাঁটিতে হেলিকপ্টারের আনাগোনাও বেড়েছে। ক বিবৃতিতে মাক্সার বলেছে, পশ্চিম রাশিয়ায় কুর্সক প্রশিক্ষণ এলাকায় সম্প্রতি বিপুল সংখ্যক রুশ সেনা পৌঁছেছে। ওই এলাকাটি ইউক্রেইন সীমান্ত থেকে ১১০ কিলোমিটার দূরে। তবে এখন পর্যন্ত কতসংখ্যক সেনা মোতায়েন হয়েছে, তা প্রকাশ করেনি রাশিয়া। তারা বলেছে, নিজ ভূখন্ডে যেখানে ঠিক মনে হবে সেখানেই সেনা মোতায়েনের অধিকার রাশিয়ার আছে।
প্রস্তুতিতে থেমে নেই ইউক্রেনও: সমরসজ্জায় অন্য পক্ষও থেমে নেই। ইউক্রেইন প্রায় দুই লাখ সৈন্যকে প্রস্তুত করেছে। ইতোমধ্যে আমেরিকার সামরিক সহায়তার চালান তাদের হাতে পৌঁছেছে। আশপাশের মিত্র দেশগুলোতে গত কিছুদিন ধরেই শক্তি বাড়াচ্ছে নেটো। পোল্যান্ডের লাস্ক শহরের বিমানঘাঁটিতে পৌঁছেছে মার্কিন এফ-১৫ ফাইটার জেট। তবে ওই বহরে কতগুলো ফাইটার আছে তা প্রকাশ করা হয়নি।
পোল্যান্ডে আরও তিন হাজার সেনা মোতায়েনের ঘোষণা আমেরিকার: এরমধ্যে পোল্যান্ডে আরও তিন হাজার সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে আমেরিকা। এসব সেনা আগামী সপ্তাহেই পোল্যান্ডে হাজির হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারা ইউক্রেইনে লড়াই করবে না কিন্তু আমেরিকার মিত্রদের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করবে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন।
সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা সংকটের মুখে ইউরোপ বললেন বরিস: ইউক্রেইন-রাশিয়া উত্তেজনায় ইউরোপ গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা সংকটের মুখোমুখি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। ব্রাসেলসে এক সংবাদ সম্মেলনে নেটো মহাসচিব ইয়েন্স স্টলটেনবার্গকে সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী জনসন বলেন, সত্যিকার অর্থে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এখনও ইউক্রেইনে হামলার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছেন বলে আমি মনে করি না। কিন্তু তার মানে এই না যে, খুব শিগগিরই পুরোপুরি বিপর্যয়কর কিছু ঘটা অসম্ভব। এই সময়টা সম্ভবত সবচেয়ে বিপজ্জনক মুহূর্ত। আমি বলব, আগামী কয়েকটি দিন… ইউরোপ কয়েক দশকের মধ্যে নিরাপত্তায় সবচেয়ে বড় সংকটের মুখে পড়েছে। আমাদের এ পরিস্থিতিকে সঠিক পথে আনতে হবে। আমি মনে করি নিষেধাজ্ঞা এবং সামরিক ব্যবস্থার সমন্বয়, আর এর পাশাপাশি কূটনীতি- এসবই বিকল্প হিসাবে হাতে আছে।
বাইডেন-পুতিনের ফোনালাপে দিকে তাকিয়ে বিশ্ব: ইউক্রেন নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই টেলিফোনে কথা বলবেন রাশিয়া ও আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। এই দুই নেতার ফোনালাপের দিকে এখন বিশ্বের নজর। স্থানীয় সময় শনিবার (১২ ফেব্র“য়ারি) এই আলোচনায় কূটনৈতিক সমাধান আসতে পারে, নাকি এই বৈঠকের পর যুদ্ধ শুরু হবে, সে বিষয়টি নিয়ে চলছে আলোচান। আমেরিকা ও রাশিয়ার সূত্রের বরাত দিয়ে এই বৈঠক হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দ্য গার্ডিয়ান ও তাস।
প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও জো বাইডেন শনিবার টেলিফোনে কথা বলবেন বলে শুক্রবার সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ। দিমিত্রি পেসকভ বলেন, আমেরিকার পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে আলোচনার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। একটি চিঠি দিয়ে তারা এই আলোচনার বিষয়ে অনুরোধ জানায়। শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় দুই প্রেসিডেন্টের মধ্যে ফোনালাপ হতে পারে’।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, শনিবার বৈঠকে বসছেন বিশ্বের ক্ষমতাধর এই দুই রাষ্ট্রপ্রধান। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সোমবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ইউক্রেন ইস্যুতে পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হচ্ছে উল্লেখ করে সেই বৈঠক এগিয়ে আনা হয়েছে।

