লন্ডনে এক কাঁঠালের দাম ১৯ হাজার টাকা!

লন্ডনে এক কাঁঠালের দাম ১৯ হাজার টাকা!

উত্তরদক্ষিণ । সোমবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২২ । আপডেট ১২:০০

লন্ডনের সবচেয়ে পুরোনো এবং বড় ফুড মার্কেট ‘বারা’-তে একটি কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে ১৬০ পাউন্ড (২১৮ ডলার), যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৮ হাজার ৭৭০ টাকা।

সুপার মার্কেটের সেলফে রাখা কাঁঠালটির একটি ছবি তোলেন বিবিসির রিপোর্টার রিকার্ডো সেনরা। ছবিটি তিনি নিজের টুইটারে শেয়ার করলে, তা ভাইরাল হয়ে পড়ে। ছবিটি এখন পর্যন্ত কয়েক লাখ টুইটার ব্যবহারকারী শেয়ার করেছেন।

রিকার্ডোর নিজ দেশ ব্রাজিলের টুইটার ব্যবহারকারীরা এটি নিয়ে রসিকতা শুরু করেন। তারা রিকার্ডোর টুইটটি রিটুইট করে বিভিন্ন মন্তব্য করেন। একটি কাঁঠালের দাম এত হতে পারে, তা দেখে রীতিমতো বিস্ময় প্রকাশ করেন। কেউ কেউ লেখেন, এবার লন্ডনে গিয়ে কাঁঠাল বিক্রি করে কোটিপতি হতে চান তারা।

ব্রাজিলের বহু এলাকায় মাত্র এক ডলার ১০ সেন্টে বড় আকারের কাঁঠাল কিনতে পাওয়া যায়। শুধু ব্রাজিল নয়, বিশ্বের অনেক গ্রীষ্মপ্রধান দেশে কাঁঠালের দাম সস্তা। এশিয়ায় বিনামূল্যেও গাছ থেকে কাঁঠাল পেড়ে খাওয়া যায়। অনেক সময় কাঁঠাল পঁচে নষ্টও হয়।

তবে লন্ডনে কাঁঠালের দাম এত বেশি হওয়া নিয়ে কৌতুহলের মানুষের শেষ নেই। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যুক্তরাজ্য শীতপ্রধান দেশ হওয়ায় দেশটিতে কাঁঠাল ফলানো যায় না। ফলে বিভিন্ন দেশ থেকে কাঁঠাল এনে বিক্রি করা হয়। এট মৌসুমি ফল এবং দ্রুত পচনশীল।

ফলে বেশিদিন সংরক্ষণ করে রাখাও যায় না। তবে বছরের ১২ মাসই যুক্তরাজ্যে কাঁঠালের বেশ চাহিদা। কারণ দেশটিতে প্রায় ৩৫ লাখ নিরামিষভোজী মানুষ বসবাস করে। তারা মাংসের পরিবর্তে কাঁচা কাঁঠাল রান্না করে খেয়ে থাকে। ফলে কাঁঠালের দাম বেশি।

এছাড়া কাঁঠাল আকারে বড় হওয়ায় পরিবহনও একটি বড় সমস্যা। পাশাপাশি সুপার মার্কেটে সেলফে একটি বড় আকারে কাঁঠাল রাখাও কষ্টসাধ্য। ফলে এর শেলফ-লাইফ একেবারেই সংক্ষিপ্ত হয়।

এদিকে, পচনশীল ফল হওয়ায় ভোক্তারা সস্তায় কাঁঠাল পেতে টিনজাত কাঁঠাল কিনে থাকেন। ব্রিটেনের সুপার মার্কেটে এক টিন কাঁঠালের দাম প্রায় চার ডলার। তবে ভোক্তার বলে থাকেন, টিনজাত কাঁঠাল খেয়ে আসল কাঁঠালের স্বাদ পাওয়া যায় না।

কাঁঠাল সবচেয়ে বেশি হয় দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশে। এটি বাংলাদেশ এবং শ্রীলংকার জাতীয় ফল। এসব দেশ থেকেই মূলত কাঁঠাল রপ্তানি হয়। কিন্তু বাংলাদেশ ও শ্রীলংকার বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা খুব ভালো নয়। গাছ থেকে পাড়ার পর কীভাবে কাঁঠাল সংরক্ষণ করতে হবে, সেটার ভালো ব্যবস্থা নেই। ফলে ৭০ শতাংশ কাঁঠালই নষ্ট হয়।

নেদারল্যান্ডসের ফল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান টোরেজ ট্রপিক্যাল বিভির মালিক ফ্যাব্রিসিও টোরেজ বলেন, করোনার কারণে বিমানে পণ্য পরিবহনের খরচ আরও বেড়ে গেছে। এশিয়া বা দক্ষিণ আমেরিকার অনেক দেশ থেকে ফল আসে যাত্রীবাহী বিমানে। বিমান সংস্থাগুলো এখন এমন পণ্য পরিবহনে উৎসাহী, যাতে অনেক বেশি ভাড়া পাওয়া যাবে।

তিনি বলেন, কাঁঠাল তো খুব পঁচনশীল এবং এর বাজারও তত বড় নয়। ফলে বেশি পরিমাণে আমদানিতে এখনও লাভ নেই। এ কারণেই কাঁঠালের খুচরা বিক্রয় মূল্য এত বেশি।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

ইউডি/সুস্মিত

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading