বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শী, সাহসী এবং ঐন্দ্রজালিক নেতৃত্ব
সাইফুল হাসান শিবলু । রবিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২ । আপডেট ১৪:১৫
অসহযোগ আন্দোলনের টানটান উত্তেজনায় যখন বাঙালি জনমানুষ আন্দোলিত হচ্ছিল, তখন ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের শেষ পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু বজ্রকণ্ঠে উচ্চারণ করেন ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’। তিনি প্রথমে মুক্তি ও পরে স্বাধীনতার কথা বলেন। সুচিন্তিতভাবেই তিনি ঐ বক্তব্য দিয়েছিলেন। মুক্তির জন্য যে স্বাধীনতার প্রয়োজন বঙ্গবন্ধু তা স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন। মুক্তি মানে সকল ধরনের শোষণ থেকে মুক্তি। অথনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সকল ক্ষেত্রে মুক্তি। একটা স্বাধীন জাতিই কেবল পারে ঐ ধরনের মুক্তির প্রত্যাশা করতে। তাই তাঁর ভাষণ গোটা জাতিকে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষায় উন্মাতাল করে তোলে।
বাংলার প্রতিটি মানুষের রক্তে জাগিয়ে তোলে দুর্বার শক্তি, যে শক্তির সামনে দাঁড়াতে পারেনি পাকিস্তানের প্রশিক্ষিত সেনাবাহিনী এবং এ দেশের স্বাধীনতা বিরোধীচক্র। এটি ছিল তাঁর অসামান্য নেতৃত্বের উত্থান-পর্বের শীর্ষবিন্দু। ‘ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো’ এবং ‘যার যা কিছু আছে তা নিয়ে শত্রুকে মোকাবেলা করো’ এসব কথার মাধ্যমে তিনি বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধভাবে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। এমনকি ‘আমি যদি হুকুম দেবার নাও পারি’ উচ্চারণের মধ্যে ছিল জাতির মুক্তি আন্দোলনে নিবেদিত অন্যান্য নেতাকর্মী ও আপামর জনতার বুদ্ধিমত্তার ওপর নির্ভর করার আত্মবিশ্বাস।
সকল আলাপ-আলোচনার অবসান ঘটিয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে ২৫ মার্চ রাত সাড়ে এগারোটার দিকে ঘুমন্ত বাঙালিদের ওপর হত্যাযজ্ঞ শুরু করলে ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। স্বাধীনতা ঘোষণা করার পরপরেই পাকবাহিনী তাঁকে গ্রেফতার করে। নিয়ে যায় পাকিস্তানে।
সেদিন থেকেই তাঁর শারীরিক অনুপস্থিতিতে তাঁর নামেই শুরু হয়ে যায় সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ। যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে দেশের আপামর মানুষ। এ দেশের বীর জনতা নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে, এক সাগর রক্তের বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর ছিনিয়ে আনে– স্বাধীনতার রক্তিম সূর্য। একটি মানচিত্র। একটি জাতীয় পতাকা। এটি বাঙালি জাতির হাজার বছরের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অর্জন Í সম্ভব হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শী, সাহসী এবং ঐন্দ্রজালিক নেতৃত্বের কারণে।
লেখক: কলামিস্ট

