জেগে উঠুক প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা

জেগে উঠুক প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা

তাসলিমা লিজা । মঙ্গলবার, ১ মার্চ ২০২২ । আপডেট ১৩:৫৫

নানা ধরনের প্রাণী, মানুষ, হাতি, ঘোড়া, গরু, ভেড়া, গাছ-পালা, আমরা সবাই এই পৃথিবীর বাসিন্দা। এই পৃথিবী সবার।
আমরা মানুষরা যেমন এই পৃথিবীর সন্তান। ঠিক তেমনি অন্য প্রাণিরাও সমানভাবে এই পৃথিবীর সন্তান। মানুষের যতটুকু অধিকার রয়েছে এই পৃথিবীর প্রতি, একটু অবাক শোনালেও ঠিক ততোটাই অধিকার রয়েছে প্রতিটি প্রাণীর। আমরা মানুষরা জ্ঞান-বুদ্ধি, প্রযুক্তি দিয়ে পৃথিবীকে জয় করেছি বলেই এই পৃথিবীর একমাত্র দাবিদার মানুষ হয়ে যাইনি। মানুষ চাঁদ জয় করার পরও এই পৃথিবীর ওপর প্রাণীর ঠিক ততোটাই অধিকার বিদ্যমান, যতোটা মানুষের আছে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, পোষা প্রাণীর সঙ্গে খেলাধুলা করলে, কথা বললে এবং সময় কাটালে মানসিক চাপ কমে যায়। সারাদিনের ক্লান্তি শেষে শরীর ও মনে ফুরফুরে ভাব আসে। মন শান্ত হয়।

কিন্তু বিশ্বব্যাপী প্রাণী হত্যা বন্ধ নেই। মানুষ কারণে অকারণে প্রাণী হত্যা করছে। নিজের প্রয়োজনে প্রাণীকে ব্যবহার করছে কিন্তু প্রাণীর প্রতি সংবেদনশীল আচরণ করতে পারছে না। প্রাণীর অস্তিত্ব ছাড়া পৃথিবী টিকতে পারবে না। মানুষের জন্মের শুরু থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রাণীর অবদান বলে শেষ করা যাবে না। জন্মের কিছু পর দুধ এরপর ডিম এরপর মাংস আরও কত কিছুতে আমরা প্রাণীর ওপর নির্ভরশীল সেটা বলে শেষ করা যাবে না। এরপরও বিপুল পরিমাণ বনাঞ্চল বিপন্ন হচ্ছে এবং বাঘ শূন্যের কোঠায় চলে এসেছে। বাঘ, সিংহ এখন শুধু খঁচায় দেখা যায়। আমাদের দেশে চিড়িয়াখানার বদৌলতে হরিণের সংখ্যা আশাতীতভাবে বেড়েছে। প্রকৃতি তার সহজাত প্রবৃত্তিতে দু’পেয়ে প্রাণী অর্থাৎ মানুষের ওপর প্রতিশোধ নিয়ে থাকে। ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে প্রতি ১০০ বছরে মহামড়কের আবির্ভাব হয়েছে এবং সেই মড়কে লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা গিয়েছে। কারণ প্রকৃতি তার ভারসাম্য রক্ষা করতে চায়। আমাদের মানুষ হিসেবে দম্ভ আমাদের করার কিছু নেই। মানুষ নিজের প্রয়োজন মেটাতে, সঞ্চয় করতে প্রকৃতি বিপন্ন করছে। কিš‘ প্রাণীকূল নিজের প্রয়োজন মিটে গেলে কখনোই কাউকে আক্রমণ করে না।

তবে আশার কথা হচ্ছে অনেক সংস্থা প্রাণীর কল্যাণে নানামুখী পদক্ষেপ নিচ্ছে। সংখ্যায় অপ্রতুল হলেও এইসব পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের জনগণ, তরুণ ও শিশু কিশোররা প্রাণীর প্রতি যত্নশীল হবে। চলমান কোভিড পরিস্থতিতে তরুণরা পথের কুকুরদের খাবার সরবরাহ করেছে। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে পাখির জন্য নিরাপদ বাসা স্থাপন করেছে। এদের সংখ্যা খুবই কম তবে শূন্য নয়। আমরা বেশিরভাগ মানুষরা প্রাণীর বসবাস এর স্থান, বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য সব নষ্ট করছি। লক্ষ্যনীয় কোভিড পরিস্থিতিতে যখন জাতীয় চিড়িয়াখানাও বন্ধ ছিল। এসময় প্রানীর প্রজনন হার বেড়ে গিয়েছিল। তার মানে আমরা নিজেদের জীবনযাত্রার মান ঠিক রাখতে গিয়ে তাদের জীবনযাপন ব্যহত করছি। সেটা শুধু মাটির ওপর সবুজ প্রকৃতির প্রাণীর জন্য হুমকি নয়। পানির নিচের প্রাণীর আবস্থল ও আমরা নষ্ট করছি। এর ফলে শত শত মৃত মাছ, ডলফিন, তিমি প্রায়শই সাগরের তীরে ভেসে আসছে। তাই আমাদের প্রাণীর প্রতি সংবেদনশীল, বন্ধুত্বপূর্ণ হতে হবে। সেটা শুধু প্রানীর জন্য নয়, আমাদের জন্য ও সুফল বয়ে আনবে।

পশু প্রেমে নিবেদিত এখন অনেকেই। তারা শুধু নিজের পোষা প্রাণীর ভাষা বা ইশারা বুঝতে পারে কিন্তু নয়। বাড়ির বাইরে পথে বা কোনো জঙ্গলে যেখানেই পশুদের দেখবে তাদের ভাষা বোঝার চেষ্টা করে। ওইসব প্রাণীদের কোনো সমস্যা হচ্ছে কিনা তা বোঝার চেষ্টা করে। এবং সাধ্যমতো সেইসব প্রাণীকে সমস্যা থেকে বাঁচিয়ে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা করে পশুপ্রেমিরা। পশুরাও যেন তাদের কাছে নিজেদের নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে পায়। এমন ভালোবাসা চিরন্তন, নিষ্পাপ। ভালোবাসার মানে যদি নিস্বার্থতা হয়, তবে হয়তো পশুর সঙ্গে পশুপ্রেমিদের এই ভালোবাসাকেই প্রকৃতভাবে সঙ্ঘায়িত করা যায়। ভালোবাসা দিবসে তাই পৃথিবীর সব পশুপ্রেমীদের প্রতি রইল অগাধ শ্রদ্ধা।

লেখক: অনলাইন বিশ্লেষক।

ইউডি/সুস্মিত

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading