কিডনি ফুলে যাওয়া নীরব ঘাতক রোগ
উত্তরদক্ষিণ । শুক্রবার, ৪ মার্চ ২০২২ । আপডেট ১০:২৫
কিডনির বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে কিছু যেমন প্রকট লক্ষণ নিয়ে হাজির হয়, তেমনি কিছু ক্ষতি করে যায় নীরবে। তেমনি একটি অসুখের নাম হাইড্রোনেফ্রোসিস। হাইড্রোনেফ্রোসিস হলো প্রস্রাব জমার কারণে কিডনি ফুলে যাওয়া বা বড় হয়ে যাওয়া। যখন কোনো বাধা বা ব্লকের কারণে প্রস্রাব কিডনি থেকে মূত্রাশয় দিয়ে বের হয়ে যেতে পারে না, তখন হাইড্রোনেফ্রোসিস নামের এই রোগ তৈরি হয়। এটি এক দিকের বা উভয় কিডনিতে ঘটতে পারে।
লক্ষণ : হাইড্রোনেফ্রোসিস উপসর্গ সৃষ্টি করতে পারে, না-ও করতে পারে। প্রধান উপসর্গগুলোর মধ্যে—
১। পেটের পাশে, পিঠে, পেটে বা কুঁচকিতে ব্যথা
২। প্রস্রাবের সময় ব্যথা
৩। প্রস্রাবের সঙ্গে অন্যান্য সমস্যা, যেমন বেশি বা কম পরিমাণে প্রস্রাব, বারবার প্রস্রাবের বেগ আসা, প্রস্রাবের থলি পুরো খালি না হওয়া
৪। বমি বমি ভাব
৫। জ্বর
যেভাবে হাইড্রোনেফ্রোসিস হয় : এটি সাধারণত কিডনির অন্য অসুস্থতা বা ঝুঁকির জন্য হয়ে থাকে। হাইড্রোনেফ্রোসিসের উল্লেখযোগ্য কারণগুলোর মধ্যে আছে—
১। কিডনির পাথর, যা প্রস্রাবের পথ আটকে রাখে
২। জন্মগতভাবেই ইউরিনারি ট্রাক্টের কোনো অংশে বাধা বা ব্লক থাকা
৩। রক্ত জমাট বেঁধে প্রস্রাবের পথ আটকে দেওয়া
৪। আঘাত বা পূর্ববর্তী অপারেশনের ক্ষত থাকা
৫। টিউমার বা ক্যানসার, যেমন—মূত্রাশয়, জরায়ুমুখ, কোলন বা প্রোস্টেট অন্তর্ভুক্ত
৬। প্রোস্টেট বড় হয়ে যাওয়া
৭। গর্ভাবস্থা
৮। ইউরিনারি ট্রাক্টের সংক্রমণ বা অন্যান্য রোগ, যা মূত্রনালির প্রদাহ সৃষ্টি করে
ডায়াগনসিস
১। কিডনি ও ইউরিনারি ট্রাক্টের আলট্রাসনোগ্রাফি
২। কিডনি ও তলপেটের এক্স-রে
৩। কম্পিউটারাইজড টোমোগ্রাফি (সিটি) স্ক্যান ও ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিং (এমআরআই)
৪। সিস্টোস্কোপিও
৫। রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা কিডনির কার্যকারিতা পরীক্ষা করতে পারে
চিকিৎসা
হাইড্রোনেফ্রোসিস সাধারণত কিডনির অন্যান্য রোগ, যেমন কিডনিতে পাথর বা সংক্রমণের সমাধান করে চিকিৎসা করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে অপারেশন ছাড়াই সমাধান করা যেতে পারে। অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে সংক্রমণের চিকিৎসা করা যেতে পারে। আবার কিডনির পাথর নিজে থেকে বের হয়ে যেতে পারে বা অপারেশন করতেও হতে পারে।
জটিল হাইড্রোনেফ্রোসিসের ক্ষেত্রে মূত্রাশয় থেকে প্রস্রাব নিষ্কাশনের জন্য একটি ক্যাথেটার ব্যবহার করে বা কিডনি থেকে প্রস্রাব বের করার জন্য নেফ্রোস্টোমি নামক একটি বিশেষ টিউব ব্যবহার করে অতিরিক্ত প্রস্রাব অপসারণ করতে হতে পারে। একদম শেষ পর্যায়ে ডায়ালাইসিস বা কিডনি ট্রান্সপ্লান্টের প্রয়োজন হতে পারে। কিডনির স্থায়ী ক্ষতি এড়াতে চিকিৎসার মূল চাবিকাঠি হলো, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এটির সমাধান করা।
লেখক: ডা. মো. মনিরুল ইসলাম ফাহিম। রেসিডেন্ট, নেফ্রোলজি বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ইউডি/অনিক

